মালয়েশিয়া প্রবাসীদের যে সুখবর দিলেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বলেছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। দু, দেশের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে সকলে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। মালয়েশিয়া প্রবাসী সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়া কর্তৃক আয়োজিত ‘আমাদের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা ও প্রেসক্লাব কর্তৃক ‘অগ্নিঝরা’ স্মরণিকার মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

৩১ মার্চ রবিবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুর হোটেল ফার্ষ্ট বিজনেস ইন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি আহমাদুল কবিরের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম হিরণ এবং নির্বাহী সদস্য ফরহাদ হোসেনের যৌথ পরিচালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হাই কমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রকম সেবা দ্রুত ও সহজে প্রদান করার জন্য দূতাবাস আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত মালয়েশিয়ায় অভিবাসী বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ার আইন-কানুন মেনে চলতে অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন করছে তার স্বীকৃতি আমরা পাচ্ছি বিভিন্ন বিদেশীদের কথায় ও আচরণে। আমাদের সবার দ্বায়িত্ব এ উন্নয়নের চাকাকে আরো গতিশীল করা। এক্ষেত্রে প্রবাসী ভাইদের অবদান অনেক বেশি। প্রবাসীরা শুধু কাজই করে না বাংলাদেশকেও প্রতিনিধিত্ব করে।

তিনি বলেন প্রবাসে যারা বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত তাদের প্রবাসীর সমস্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। যৌথ প্রয়াসে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। এভাবেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করা যাবে। হাইকমিশনার আরোও বলেছেন ‘বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরুপ মালয়েশিয়া সরকার আড়াই বছর ধরে বৈধতার সুযোগ দিয়েছে। এ বৈধকরণ প্রকল্পে প্রায় ৬ লাখ অভিবাসী নিবন্ধন করেছিল, এদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার বৈধতা পেয়েছে। বাকি যারা আছেন তারা কোম্পানির বিভিন্ন সমস্যার কারণে বৈধ হতে পারেনি। আমরা মালয়েশিয়ার সরকারকে অনুরোধ করেছি তাদেরকেও বৈধ করে নেয়ার জন্য। ফলে তাদের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

প্রবাসের সংবাদ প্রকাশনার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের উভয় দেশের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন ভুল বার্তা দেয় বা ভীতির সঞ্চার করে এমন বার্তা গেলে দেশে অবস্থিত প্রত্যেকটা পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে। বন্ধুরাষ্ট্র মালয়েশিয়া সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করে দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে মহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে তার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে সকলে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। বিদেশীকর্মী নিয়োগে সোর্স কান্টির তালিকা থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়েনি বলেও জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদরা স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন, ইন্টা: ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. এম আব্দুল কুদ্দুছ, মুক্তিযোদ্ধা শওকত পান্না, কমিউনিটি নেতা মকবুল হোসেন মুকুল ও কামরুজ্জামান কামাল। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়া কর্তৃক প্রকাশিত ‘অগ্নিঝরা’ নামক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন ও প্রবাসে বিভিন্নক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় প্রবাসীদের সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করেন মান্যবর হাই কমিশনার মহ.শহীদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রথম সচিব শ্রম মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল, প্রথম সচিব কনস্যুলার মো. মাসুদ হোসাইন, প্রফেসর ড. আবুল বাশার, দাতু আক্তার হেসেন, দাতু এন সাহা, মনিরুজ্জামান মনির, এমদাদুল হক সবুজ মামা, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব মালয়েশিয়ার সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ ফারুক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠন ও প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত