‘মাসুদ রানা’ হতে গিয়ে লাশ

কাজী আনোয়ার হোসেনের কাল্পনিক চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ হতে গিয়ে লাশ হলেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কাইয়ূম। কোটিপতি বাবার একমাত্র ছেলে কাইয়ূমকে নৃশংসভাবে হত্যার পর এসিডে মুখ ঝলসে দিয়ে গাজীপুরের গভীর জঙ্গলে লাশ গুম করে রাখে তার বন্ধু আঞ্জুমান আঞ্জু। ঘটনার এক মাস পর সোমবার রাতে র‌্যাবের জালে আটক আঞ্জু বন্ধু কাইয়ূমকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। মাসুদ রানার মতো গোয়েন্দা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আশ্বাস দিয়ে কাইয়ূমের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে আঞ্জু।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গাজীপুর র‌্যাব-১ জানিয়েছে, ধনাঢ্য বাবার একমাত্র ছেলে কাইয়ূম ছোটবেলা থেকেই কিশোর কাল্পনিক চরিত্র কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা সিরিজের বইগুলো পড়তে শুরু করেন। এক পর্যায়ে মাসুদ রানা সিরিজের প্রায় সব বই-ই তার পড়া হয়ে যায়। মাসুদ রানা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে যান ঢাকার বসুন্ধরার বাসিন্দা জালাল উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার কাইয়ূম। স্বজনরা তাকে ‘মাসুদ রানা’ নামেই ডাকতে থাকেন। শৈশবে দেখা সেই স্বপ্ন পূরণের কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। এরই মধ্যে তার এই স্বপ্নের কথা জেনে যায় টাঙ্গাইলের খালার বাড়ির প্রতিবেশী আঞ্জুমান আঞ্জু। কাইয়ূম খালার বাড়ি বেড়াতে গেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মীর দেওহাটা গ্রামের সবুর মিয়ার ছেলে আঞ্জুর সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। মাসুদ রানা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে কাইয়ূমকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় আঞ্জু। দু’জনের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হওয়ার এক পর্যায়ে কাইয়ূমকে সরকারি উচ্চপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লাখ টাকার চুক্তি করে আঞ্জু।

র‌্যাব আরও জানায়, গত বছরের শুরুতে বাবার কাছ থেকে নিয়ে ৯ লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয় আঞ্জুকে। ওই টাকা পেয়ে আঞ্জু মালয়েশিয়া চলে যায়। সেখানে বসে আঞ্জু ওই টাকা আত্মসাতের জন্য হত্যার ছক আঁকতে থাকে। পরে হত্যার মিশন নিয়ে গত ৪ মার্চ দেশে আসে আঞ্জু। মালয়েশিয়ায় থেকেই নিয়মিত কাইয়ূমের সঙ্গে যোগাযোগ করত সে। দেশে এসে কাইয়ুমের পছন্দের মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৯ মার্চ তাকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়।

র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, ৯ মার্চ বিকেলে তারা দু’জন ভাওয়াল জঙ্গলে একত্রিত হন। উদ্যানের ভেতরে দু’জন ঘোরাফেরা করার সময় ছবি তোলার কথা বলে একটি গাছের সঙ্গে কাইয়ূমকে দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে ছবি তুলতে থাকে আঞ্জু। এক পর্যায়ে পেছন দিক থেকে গলা চেপে ধরে সে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর কেউ যাতে চিনতে না পারে, সে জন্য কাইয়ূমের মুখে এসিড ঢেলে দ্রুত পালিয়ে যায় আঞ্জু।

এদিকে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, ১৩ মার্চ কাইয়ূমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। কাইয়ূমের বাবা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে আঞ্জুকে প্রধান আসামি করে ঘটনার সাত দিন পর একটি মামলা দায়ের করেন। পরে তিনি র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পে এসে গ্রেফতারের জন্য আবেদন করলে সোমবার রাতে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে আঞ্জুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত