ফায়ার ফাইটার সোহেল রানার মা ছেলে হারানোর শোকে পাগলপ্রায়

সিঙ্গাপুরে মারা গেছেন বনানীর এফ আর টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়া ফায়ারম্যান সোহেল রানা। কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কেরুয়ালা গ্রামের দরিদ্র কৃষক নূরুল ইসলামের বাড়ীতে চলছে এখন শোকের মাতম।

ছেলে হারানোর শোকে বিলাপ করে কাঁদছেন সোহেলের মা। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তার বিলাপ। যেন পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন তিনি। নিদারুণ অভাবের সংসারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা মনে পড়তেই ডুকরে কেঁদে উঠছেন সোহেলের বোন।

ময়নাতদন্ত শেষে যত দ্রুত সম্ভব ফায়ারম্যান সোহেল রানার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হবে। সেক্ষেত্রে সোমবার (৮ এপ্রিল) রাত ১টার ফ্লাইটে আনা হবে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ৫ এপ্রিল, শুক্রবার সোহেল রানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের ফায়ারম্যান সোহেল রানা ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের উঁচু ল্যাডারে (মই) উঠে আগুন নেভানো ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার কাজ করছিলেন। এক পর্যায়ে সোহেলের শরীরে লাগানো নিরাপত্তা হুকটি মইয়ের সঙ্গে আটকে যায়। তিনি মই থেকে পিছলে পড়ে বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিলেন। এ সময় তার একটি পা ল্যাডারের চাপে ভেঙে যায়। ল্যাডারের চাপে তার পেটের নাড়ি-ভুড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত