মালয়েশিয়ায় ৪৩ প্রবাসী নিয়ে যেভাবে দুর্ঘটনা কবলে পরে বাসটি

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ছয় জনই বাংলাদেশি। আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। রোববার (৭ এপ্রিল) একেএল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের এমএএস কার্গো, জালান এস ৮ পেকেলিলিংয়ের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসটি নীলাই, নেগরি সেম্বিলান থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় শ্রমিক বহনকারী ওই বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেটি পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৮ জন নিহত হন। পরে সার্ডাঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে এই ঘটনায় গুরুতর আহত এক বিদেশি ও স্থানীয় বাস চালক মারা যান।

কেএলআইএ ওসিপিডি সহকারী কমিশনার জুলকিফলি আদমশাহ বলেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটি ৪৩ জন শ্রমিক বহন করছিল। তারা এমএএস কার্গোতে চুক্তি ভিত্তিক কাজ করতেন। তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত বাকি ৩৪ জনকে চিকিৎসার জন্য কাজাং, সার্ডাং ও পুত্রাজায়াসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পরিচয় শনাক্ত করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী মো. মুকসেদ আলী।

মালয়েশিয়ায় হতাহত বাংলাদেশিদের পরিচয় মিলেছে

মালয়েশিয়ায় যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার রাত ১১টায় দেশটির কে এল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের এমএএস কার্গো, জালান এস-৮ পেকেলিলিংয়ের পাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাসচালকসহ মারা যান আরও দু’জন।

বাসটি শ্রমিকদের নিয়ে গতকাল রাতে নীলাই, নেগরি সেম্বিলান থেকে এয়ারপোর্ট অভিমুখে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের মধ্যে নেপাল, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। সর্বশেষ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ৩৪ জন।

নিহত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মধ্যে ২ জন চাঁদপুর, ২ জন কুমিল্লা ও ১ জন নোয়াখালীর রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার দেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের মো. আনোয়ারের ছেলে সোহেল (২৪), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার চরভাগল ৩নং ওয়ার্ডের মো. আমির হোসেনের ছেলে আলামিন (২৫), কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার দুরলবপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে মহিন (৩৭), কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার হাসানপুর কলেজ পাড়ার ঢাকাগাঁও গ্রামের মো. ইউনুস মুন্সির ছেলে মো. রাজিব মুন্সি (২৭) ও নোয়ালী জেলার চাটখিল থানার নোয়াখোলা ২নং ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদের ছেলে গোলাম মোস্তফা।

এ ছাড়া পরিচয় পাওয়া আহত বাংলাদেশিরা হলেন- সেরডাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসাইন (২১) মোহাম্মদ নাজমুল হক (২১), মোহাম্মদ রজবুল ইসলাম (৪৩) এবং পুত্রাজায়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ ইউনুস (২৭), জাহিদ হাসান (২১), শামীম আলী (৩২) ও মোহাম্মদ রাকিব (২৪)। চিকিৎসাধীন ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

কে এল আই এয়ারপোর্টের ওসিপিডির সহকারী কমিশনার জুলকিফলি আদম শাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় বাসটি ৪৩ জন শ্রমিক বহন করছিল। তারা এমএএস কার্গোতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন।’ এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশনের লেবার কাউন্সিলার জহিরুল ইসলাম ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখান থেকে সারডাং, বান্তিং ও পুত্রাযায়া হাসপাতালে দেখতে যান হতাহতদের।

লেবার কাউন্সিলার জহিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘নিহত বাংলাদেশি ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে। যারা নিহত হয়েছেন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি হতাহতদের ক্ষতি পূরণ আদায়ে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত