জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দগ্ধ সেই ছাত্রী

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ফেনীতে আগুন লাগিয়ে ঝলসে দেয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রাফির অবস্থার আরও অবনতি হলে সকালে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার এক পিয়নসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে আটকের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচজনে।

ফেনীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এমন প্রতিহিংসার শিকার হবেন তা ভাবতেই পারছেন না তার স্বজনরা। রাফির সহপাঠিরা যেখানে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার আরেক ধাপ পেরিয়ে আলোকিত জীবন গড়ার স্বপ্ন বুনছেন, সেখানে পরীক্ষা দিতে গিয়েই কিছু মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আগুনে ঝলসে গিয়ে সেই রাফিকে এখন লড়তে হচ্ছে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

নুসরাতের ভাই নোমান জানান, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌল্লার বিরুদ্ধে করা রাফির যৌন হয়রানি মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় এমন বর্বরোচিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমার রোনকে।

রাফির শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসক জানান, তার বায়োক্যামিক্যাল প্যারামিটার্সগুলো যেমন; লিভার ফাংশন, হার্ট ফাংশনগুলো গতকালের তুলনায় আজকে খারাপের দিকে গেছে। সেই সাথে তার শ্বাস কষ্ট হচ্ছে।

এদিকে, পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কিছু তথ্য প্রমাণ আমি পেয়েছি এবং এ তথ্য ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, অচিরেই এ ঘটনার সাথে যার জড়িত ও নেপথ্যে যারা রয়েছে সবকিছুই উদঘাটন হবে।

গত শনিবার সকালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরেই কয়েকজন সহপাঠি রাফিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে কয়েকজন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

গত ১৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। এ নিয়ে মামলা দায়েরের পর কারাগারে রয়েছে সে। স্বজনদের অভিযোগ, ওই ঘটনার জেরেই নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত