এসআই মনিরুজ্জামান ডিউটি শেষ হলেই লিপ্ত হন পরকীয়ায়

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সাব ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান পরীকায় লিপ্ত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার সকলের সামনেই এ ঘটনা দীর্ঘসাত মাস ধরে চললেও পুলিশের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। তবে এবার মুখ খুলেছেন এলাকাবাসী।

শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের খাগড়াদানা গ্রামের মৃত. গোলাম রহমানের ছেলে মাহবুবর রহমান গাজীর স্ত্রীর (৩৫) সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক শ্যামনগর থানার সাব ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামানের।

খাগড়াদানা গ্রামের আব্দুল গাজীর ছেলে মাসুম গাজী জানান, মাহবুবর রহমানের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সাত মাস ধরে অবৈধ সম্পর্ক শ্যামনগর থানার এসআই মনিরুজ্জামানের। রাতে দিনে সব সময় ফাতেমার কাছে যাতায়াত তার। মাঝে মধ্যে ওই বাড়িতে রাত কাটান এই এসআই।

এছাড়া দিনের বেলাতেও যাতায়াত রয়েছে সার্বক্ষণিক। থানার ডিউটি শেষ হলেই এসআই মনিরুজ্জামান পৌঁছে যান ওই নারীর কাছে। এলাকাবাসী সকলের সামনে এমন অসামাজিক ঘটনা ঘটলেও কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় গ্রামের মানুষরা পুলিশকে ভয় পায়।

তিনি আরও বলেন, ৮ দিন আগে আমার বাবা মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় এমন ব্যাভিচারের ঘটনার কথা বলতে গেলে আমার ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবাকেও বেপোরোয়া মারপিট করেছেন ওই নারী । চুল-দাড়ি ছিড়ে দিয়েছেন। এছাড়া ওই নারীর স্বামী মাহবুবর রহমানও স্ত্রীর ভয়ে কিছু বলতে সাহস করেন না। স্বামীকেও মারপিট করে ওই মহিলা। এছাড়া দারোগার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য বেবী নাজনীন বলেন, শ্যামনগর থানার এসআই মনিরুজ্জামানের সঙ্গে ওই নারীর ভালো সম্পর্ক। তাদের বাড়িতে যাতায়াত করেন। রাতে দিনে সব সময় যাতায়াত করেন। এটা মানুষের চোঁখে দৃষ্টিকটু দেখায়। এক চাচা এটা বলতে চাচাকে বেপোরোয়া মারপিট করেন। এলাকার লোকজন উত্তেজিত হলে তাদের বাড়িতে গেলে মহিলা ঘরে দরজা বন্ধ করে দেয়। জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে। গ্রামবাসীর নামে মামলা করবে হুমকি দিচ্ছেন।

প্রকৃত অর্থে ওই মহিলার সঙ্গে দারোগার ছেলে ও ওই মহিলার মেয়েকে বিয়ে দেবে এই বলে দাবি করছেন। প্রকৃত অর্থে ওই মহিলার সঙ্গে দারোগার অবৈধ সম্পর্ক। এই ঘটনা নিয়ে থানা ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

তবে এ বিষয়ে ফাতেমা বেগমের স্বামী মাহবুবর রহমান গাজী জানান, শ্যামনগর থানার এসআই মনিরুজ্জামান আমার বেয়াই হয়। তার ছেলে সোহান হোসেনের সঙ্গে আমার মেয়ের হাফিজার বিয়ে দিবো। হাফিজা এখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। হবু জামাই সোহান হোসেন এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। বিয়ের জন্য এঙ্গেজমেন্ট করে রাখা হয়েছে। পরে বিয়ে হবে।

তার স্ত্রীর সঙ্গে এসআই মনিরুজ্জামানের অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি অবৈধ সম্পর্কের কথা বলে তাহলে কিছু করার নেই। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওই নারী জানান, আমার শুধু এসআই মনিরুজ্জামানের সঙ্গে নয় অনেক পুলিশের অনেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে, এসব ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর থানার সাব ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান বলেন, ওই নারীর মেয়ের সঙ্গে আমার চাচাতো বোনের ছেলে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ের কথা চলছে। সে হিসেবে যাতায়াত। ছেলে এখন বিদেশে রয়েছে। ফিরে আসলে বিয়ে হবে।

ওই নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই এলাকার মহিলা মেম্বর বেবী নাজনিন দুই শতক জমি চেয়েছিলো ওই নারীর কাছে। সেই দুই শতক জমি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এদিকে, ওই নারীর স্বামী ও শ্যামনগর থানার সাব ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামানের বক্তব্যের সঙ্গতি নেই। তবে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিল হোসেন বলেন, অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এসেছিলো। এসআই মনিরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত