মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রম বাজার এখন চরম সংকটে

মালয়েশিয়ায় বিদেশী কর্মী প্রেরণে সোর্স কান্ট্রিভুক্ত দেশের তালিকায় থাকা বাংলাদেশের নাম বাদ দেয়া হতে পারে- এমন আশঙ্কার কথা শোনা গেলেও গতকাল পর্যন্ত দেশটির ইমিগ্রেশনের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে আগেই বলেছিলেন, ‘সোর্স কান্ট্রির তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই’।

এ দিকে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশীদের আবারো বৈধতা (লিগ্যালাইজেশন) দেয়া যায় কি-না সে বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দেশটির কেবিনেটে বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি-না সে ব্যাপারে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের দেয়া সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক বর্তমানে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম, ফিলিাপাইন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখাস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের নাম রয়েছে। আর এই ১৫টি সোর্স কান্ট্রিভুক্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে ১৫ নম্বরে। এরমধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া আছে। আর বাকি দেশগুলো থেকে প্রতিটি সেক্টরেই কর্মী যেতে পারবে বলে উল্লেখ রয়েছে ইমিগ্রেশনের তালিকায়।

দেখা গেছে, ভারত কন্সট্রাকশন (হাই টেনশন ক্যাবল ওয়ানলি), সার্ভিসেস, গোল্ডস্মিথ, হোলসেল-রিটেইল, রেস্টুরেন্ট-কুকস ওয়ানলি, মেটাল/স্ক্র্যাপ মেটারিয়ালস অ্যান্ড রিসাইক্লিন, টেক্সটাইল অ্যান্ড বারবারস) অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড প্লানটেশন সেক্টরে কর্মী পাঠাতে পারবে। অপর দিকে, ইন্দোনেশিয়া ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে পুরুষ কর্মী ব্যতীত সব সেক্টরে কর্মী পাঠাতে পারবে। তবে মহিলা কর্মীরা যেতে পারবে সব সেক্টরেই।

বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র প্লানটেশন ভায়া জি টু জি পদ্ধতিতে কর্মী পাঠাতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি রয়েছে। যদিও ২০১৬ সালে জি টু জি পদ্ধতির সাথে জি টু জি প্লাস যোগ করে বাংলাদেশ থেকে প্রায় আড়াই লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। এ পদ্ধতিতে কর্মী যাওয়ার পর বিশৃঙ্খলা কমার পাশাপাশি দেশটিতে বেশির ভাগ কর্মী ভালো আছেন বলে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেছিলেন, মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ সরকার নতুন করে আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর পরই বলেছেন, সোর্সকান্ট্রিভুক্ত দেশগুলো থেকে ইউনিফাইড সিস্টেমে লোক আনা হবে। এক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না।

এ দিকে, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অবৈধ লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় মালয়েশিয়া সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করে। প্রতিদিনই অবৈধ শ্রমিক ধরা পড়ছে। তারপরও অবৈধ যারা ধরাছোয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে তাদের বৈধ করে নেয়া যায় কি-না এ নিয়ে দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে বৃহস্পতিবার।

এমন সংবাদ জানাজানি হওয়ার পর বাংলাদেশে অবৈধদের স্বজনরা টেলিফোনে বিষয়টি জানতে উদগ্রীব হয়ে পড়েন। তবে বৈঠক এবং বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে গতকাল শুক্রবার রাতে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে সোর্সকান্ট্রিভুক্ত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেয়া হচ্ছে- এমন তথ্যের বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ এ কূটনীতিক নয়া দিগন্তকে স্পষ্ট বলেছিলেন, যারা এসব তথ্য মিডিয়াতে প্রকাশ করছেন তারা মনে হয় না জেনে করছেন।

কারণ, সোর্সকান্ট্রিভুক্ত দেশের তালিকা থেকে আগে কখনো কোনো দেশের নামই বাদ দেয়ার নজির নেই। ভবিষ্যতেও বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। বাদ দিতে হলে অবশ্যই তাদের দেশের কেবিনেটে বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে। আমাদের সাথে তাদের বৈঠক হবে। তারপরই বিষয়টি সামনে আসতে পারে। তেমন কোনো ঘটনার আলামত নেই বলে জানান তিনি।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত