কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা তুলে ধরল বিএনপি

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসা এবং বিভিন্ন মামলায় তার জামিনের জটিলতা নিয়ে কূটনীতিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন নেতারা। এ সময় তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার অপরিহার্যতাও তুলে ধরেন। এর বাইরে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে এক ঘণ্টার এ বৈঠক হয়।

বৈঠকে কূটনীতিকদের মধ্যে জাপান, নরওয়ে ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, তুরস্ক, চীন, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও মরক্কোর উপ-রাষ্ট্রদূত, সুইজারল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত, পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও ভারতের সহকারী হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখিত বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকে তার অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং সরকারের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ধরেন।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ধরন এবং তার পরিণতি। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পরে কূটনীতিকরা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও তার চিকিৎসা নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। এ সময় তারা জানতে চান, সরকারি হাসপাতালে কেন তার চিকিৎসা সম্ভব না।

উত্তরে বিএনপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সরকারের সদিচ্ছার বাইরে এখানে ভালো চিকিৎসা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়। এর আগে তাকে পূর্ণ চিকিৎসা না দিয়ে মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই কারাগারে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন নেতারা।

কূটনীতিকদের সঙ্গে এ বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, মামলা ও জামিন অবস্থার বিভিন্ন তথ্য এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি নিয়ে একটি বই কূটনীতিকদের তুলে দেওয়া হয়।

বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ব্যারিস্টার মীর হেলাল ও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত