‘জুডিশিয়াল ক্যু’ করার অভিপ্রায় ছিল সিনহার: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার ‘জুডিশিয়াল ক্যু’ করার একটা অভিপ্রায় ছিল। সেটা বাধা দিতে গিয়ে দুই-আড়াই বছর যথেষ্ট সময় নষ্ট হয়েছে। অনেক উন্নয়ন কাজ তার কারণে ব্যাহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়েরর লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভা পরিচারনা করেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক।

সভায় আইনমন্ত্রী বলেন, যে মুহূর্তে আমরা আইনের শাসনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবো সেই মুহূর্তে লেজিসলেটিভ বিভাগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তার কারণ হচ্ছে, কোনো আইনই কিন্তু এই লেজিসলেটিভ বিভাগের আওতার বাইরে যেতে পারে না। সেটা অনুধাবন করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিভাগ সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বলেন, যেদিন থেকে সংবিধান প্রণয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে সেদিন থেকেই লেজিসলেটিভ উইং এর জন্ম হওয়া উচিত ছিল। তার কারণ হচ্ছে লেজিসলেটিভ উইং একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উইং। সেটা হয়নি। আইন বানানোর জন্য যে আলাদা বিভাগ প্রয়োজন আর এটা পরীক্ষা করতে হয় তা সামরিক শাসকরা ভাবতেও পারেননি। এজন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২০০৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

লেজিসলেটিভ বিভাগের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আনিসুল হক বলেন, মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপ-সচিবদের গাড়ি সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়া যান এসকে সিনহা। যাওয়ার আগমুহূর্তে তিনি লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি অসুস্থ নন। পরে তিনি বিদেশ থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন এবং কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত