হারাধনের আটটি ছেলে, রইলো বাকি ছয়

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট মোট আটটি আসন পেয়েছিল। এরমধ্যে বিএনপি পেয়েছিল ৬টি, আর গণফোরাম দুটি। নির্বাচনের পরপরই ফলাফল বাতিল করে পুননির্বাচন চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু ফলাফলে বিএনপি ও গণফোরামের প্রতিক্রিয়া হয় বিপরিতমুখী। ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফলে রীতিমতো শোকের ছায়া নেমে আসে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায় দলটি। কিন্তু বিপরীত প্রতিক্রিয়া ছিলো গণফোরাম শিবিরে। তাদের জন্য এটা ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল। ২৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেলো গণফোরাম। নির্বাচনের মাত্র পাঁচদিন পর, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত গণফোরামের বর্ধিত সভায় ছিলো উৎসবমুখর পরিবেশ। সে বর্থিত সভায় দলের প্রধান ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, ‘আমরা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি, কিন্তু এমন নির্বাচনের মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমাদের দুই প্রার্থী যেভাবে সফল হয়েছেন তা তাদের বিরাট অর্জন। তাই তাদের সংসদে পাঠানোর বিষয়ে আমরা ইতিবাচকভাবে চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের দুই সংসদ সদস্য শপথ নেয়ার পর সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবেন’।

মজাটা হলো ড. কামাল হোসেন যাকে ‘বিরাট অর্জন’ ভেবে সেলিব্রেট করছেন, তা যে মোটেই গণফোরামের অর্জন নয় তা এতোদিন বোঝেননি বলেই গণফোরাম কখনো সংসদে যেতে পারেনি, ভবিষ্যতে নিজেদের যোগ্যতায় কখনো সংসদে যেতে পারবে, তেমন স্পষ্ট ভাবনা নেই। এবার গণফোরাম ছিলো অনেকটাই বিএনপির আলোয় আলোকিত। সুলতান মনসুর নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকে। কিন্তু তার এলাকার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের অনেকেই আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদককে ভোট দিয়েছেন। সুলতান মনসুরের জয়ে ড. কামালের ক্যারিশমা বা গণফোরামের ভূমিকাই নেই বললেই চলে। আর জয়ী অপর প্রার্থী মোকাব্বির খান তো ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছেন। লটারী জেতার মতো এমপি হয়েছেন। সিলেট-২ আসনে ধানের শীষও ছিলো না, নৌকাও ছিলো না। মাঝখানে ইলিয়াস আলীর সহানুভূতি ভোট জমা হয়েছে মোকাব্বিরের বাক্সে।

এই দুই ‘বিরাট অর্জন’কে সংসদে পাঠাতে ড. কামাল ইতিবাচক থাকলেও বিএনপির চাপে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। তবে ড. কামাল তার মূল ইতিবাচক সিদ্ধান্ত থেকে বোধহয় সরে আসেননি। ওপরে ওপরে শপথের বিপক্ষে হলেও ভেতরে তিনি আসলে শপথের ব্যাপারে ইতিবাচকই। যদিও দল তাকে বহিষ্কার করেছে, তবুও শপথ নেয়ার পর সুলতান মনসুর বলেছিলেন, দলের শীর্ষ নেতা মানে ড. কামালকে জানিয়েই তিনি শপথ নিয়েছেন। একই সঙ্গে শপথ নেয়ার কথা থাকলেও মোকাব্বির খান সেদিন নেননি। তবে ভালো কৌশল বের করেছেন মোকাব্বির। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়ে তিনি এলাকায় একটি নাগরিক সভা করেছেন। সেখানে এলাকার মানুষ তাকে শপথ নিতে বলেছে। দুয়েকদিনের মধ্যে তিনি শপথ নেবেন।

হারাধনের ৮টি ছেলের মধ্যে দুটি ছেলেই সংসদে চলে যাচ্ছে। রইলো বাকি ছয়। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ না নিলে আসন শূন্য হয়ে যাবে। আমার ধারণা, বিএনপির ৬ সংসদ সদস্যও শেষ পর্যন্ত শপথ নেবেন। ৬ জন না নিলে তবু দলীয়ভাবে কোনো একটি যুক্তি দিয়ে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তেমন না হলে বিএনপির ৬ সংসদ সদস্যের মধ্যেও ভাঙ্গন ধরতে পারে।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত