সৌদি প্রবাসী ইব্রাহিমকে ভালোবেসে বাংলাদেশে আসা শ্রীলংকান নারীর আর্তনাদ

ভালোবেসে সৌদি প্রবাসী ইব্রাহিম খলিলকে বিয়ে করেছিল শ্রীলংকার নাগরিক রেনুসার। বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে সৌদি আরব ছেড়ে এখানে এসে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেননি ইব্রাহিমের আপন চাচাতো ভাইয়েরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার শেখদি গ্রামের ইব্রাহিম খলিল সৌদিপ্রবাসী। রেনুসা বেগম শ্রীলংকান নাগরিক। তিনিও সৌদি প্রবাসী। সেখানেই ইব্রাহিমের প্রেমে পড়েন তিনি। অতঃপর ১১ বছর আগে বিয়ে করে সংসার পাতেন ইব্রাহিমের সাথে।

বিয়ের পর সুখে কাটিয়েছেন ইব্রাহীম ও রেনুসা দম্পতি। এরই মধ্যে এই দম্পতি পাঁচ সন্তানের জনক হয়েছেন। এরপর বছর ছয়েক আগে ইব্রাহীম সৌদিতে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও রেনুসা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ভালোবেসে চাঁদপুরে ইব্রাহিমের গ্রামের বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

বাংলাদেশে আসার পরও ইব্রাহিম ও রেনুসা দম্পতি সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের এই সুখ আর বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আপন চাচাতো ভাইদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে এই দম্পতির সংসারে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই জুটেনি।

ইব্রাহিমের আপন চাচা বসুমিয়া আর তার ছেলেদের সাথে চরম দ্বন্দ্বের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে তিন বছরে প্রায় দু-ডজন মামলা পাল্টা মামলা হয়েছে। মামলা বাজিতে পটু ইব্রাহিমের চাচা বসুমিয়ার অত্যাচারে আবারও দেশ ছেড়ে সৌদিতে চলে যান ইব্রাহিম। কিন্তু তারপরও ইব্রাহিমের সন্তান ও স্ত্রীর উপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

এরই মধ্যে ইব্রাহিম এর স্ত্রীর উপর কুদৃষ্টি পরে ইব্রাহিম এর চাচাতো ভাইয়ের। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার ফলে তার উপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ইব্রাহিমের পরিবার যাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় নামতে না পারে সেজন্য বাড়ির সীমানা ঘেষে দেওয়া হয় দশ ফুট উচু দেওয়াল। আবার বাড়ির ভিতরে যাতে অস্বস্তি পরিবেশ সৃষ্টি হয় এর জন্য বসুমিয়ার বাড়ির দোতলায় তৈরি করা হয়েছে মুরগির খামার।

একদিকে উচু দেওয়াল অপরদিকে মুরগির খামারের দুর্গন্ধ। সব মিলিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে ইব্রাহীম খলিলের গোটা পরিবারটি। অত্যাচারের এখানেই শেষ নয় আমের সন্তানদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে নিরাপত্তাহীন করে তোলে তার চাচা বসুমিয়ার সাঙ্গপাঙ্গরা।

এমন অবস্থা ইব্রাহিম আবারও দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয় কিন্তু তাতে জটিলতা আরো বেড়েছে। দেশে আসার পর চট্টগ্রামে আমলি আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগে বলা হয় আনোয়ারা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করার পর খোরপোষ না দিয়ে যৌতুক দাবি করেছেন ইব্রাহিম। কয়েক মাস আগে স্ত্রী সন্তানদের কাছে আসা পর ঐ মামলায়া গ্রেফতার হন ইব্রাহিম।

এই প্রতিবেদনটি বেসরকারি টেলিভিশনের একুশের চোখ অনুষ্ঠান অবলম্বনে করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত