সৌদি আরব প্রবাসীদের আকামা পরিবর্তনের বিশাল সুযোগ

প্রবাসী কর্মীদের আকামা বা কাজের অনুপতিপত্র পরিবর্তনের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সৌদি আরব সরকার; এটা বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি কর্মীরা। সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গত বছর ২২ জুলাই প্রবাসীদের আকামা পরিবর্তনের উপর আগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সৌদি গেজেট ও আরব নিউজ জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্মীদের পেশা পরিবর্তন করতে পারছেন। তবে আকামা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে, যা আগামী হিজরি সালের শুরু (সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি) থেকে কার্যকর হবে। আকামা পরিবর্তন করতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালেদ আব আল খলিল বলেছেন, ইন্টান্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব অকুপেশন্সের মান অনুসরণ করে এই আকামা পরিবর্তন করতে হবে। যারা এই নিয়ম (ম্যাট্রিক্স সিস্টেম) ও শ্রম নীতি অনুসর করবে না, তারা আকামা পরিবর্তনের সুযোগ পাবে না। সৌদি প্রবাসী একদল শ্রমিক সৌদি প্রবাসী একদল শ্রমিক এর মধ্য দিয়ে কোন পেশায় প্রবাসী কত কর্মী কাজ করছে, তার হিসাব বের করতে চায় সৌদি সরকার।

চিকিৎসা, প্রকৌশল ও হিসাব রক্ষণের পেশায় যুক্ত কর্মীদের প্রত্যায়ন নিতে হবে সৌদি কমিশন ফর হেলথ স্পেশালিটিজ, সৌদি কাউন্সিল ফর ইঞ্জিনিয়ার্স এবং সৌদি অর্গানাইজেশন ফর সার্টিফায়েড পাবলিক একাউনটেন্টস থেকে। অন্য পেশার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই প্রত্যায়ন দেবে।

২০১৭ সালে আকামা পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ হওয়ার আগের তিন বছরে ৮ লাখের বেশি প্রবাসী পেশা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়েছিল বলে সৌদি গেজেট জানায়। এরপর সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর পেশা পরিবর্তনকারীকে শনাক্ত করা হলেই ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হচ্ছিল।

সম্প্রতি সৌদি আরব কিছু পদ স্বদেশীদের জন্য সংরক্ষিত করায় ঝামেলায় পড়েছিল বাংলাদেশিসহ প্রবাসী অন্য শ্রমিকরা। কাজ হারিয়ে অনেকের দেশেও ফিরতে হয়েছিল, কারণ আকামা পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। আবার নিজের কাজ নিয়ে অসন্তুষ্ট হলেও তা পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না বলেও অনেককে দেশে ফিরতে হয়েছিল।

সৌদি মন্ত্রণালয়ের নতুন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে ফেইসবুকে লিখেছেন, পেশা পরিবর্তনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা বিভিন্নভাবে ঠকছিলেন। অনেক কারখানা ও অফিস প্রবাসীদের সঙ্গে জোর করে প্রতারণা করছিল। এখন কারখানা মালিকরাও ভয় পাবেন। শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও প্রতারণা করার সাহস পাবেন না।

তেল সমৃদ্ধ সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশই বাংলাদেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের যে এক কোটির মতো কর্মী কাজ করছেন, তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি রয়েছেন সৌদি আরবে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত