সৌদি থেকে দেশে ফিরে বাড়ি যাওয়ার আগেই লাশ হলেন প্রবসী

প্রায় এক বছর পর গত বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন নোয়াখালীর তোফাজ্জল হোসেন বাবুল। স্ত্রী মুন্নি আক্তার ও দুই মেয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান তাকে। রাতেই তারা রওনা হন গ্রামের বাড়িতে। পথে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে মাইক্রো থেকে নামেন এবং মহাসড়কের পিরোজপুর আষাঢ়ীয়ারচর ব্রিজের কাছে যান বাবুল।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাবুল ফিরে না আসায় অস্থির হয়ে পড়েন স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে। পুলিশের সহায়তায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে বাড়ি চলে যান তারা। পরদিন সকালে আষাঢ়ীয়ারচর ব্রিজের নিচেই পাওয়া গেল প্রবাসী বাবুলের মরদেহ।

স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছে।
সোনারগাঁ থানার এসআই আলমগীর জানান, লাশ উদ্ধার করার সময় সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পিরোজপুর আষাঢ়ীয়ারচর ব্রিজের নিচে লাশ দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। সকালে উদ্ধারকালে তার মৃত্যু রহস্যজনক বলেই মনে হয়েছে। মুখ দিয়ে ফেনা বেরোচ্ছিল। পেটের বাম পাশে ছিল আঘাতের চিহ্ন। লাশের কোমরে বাঁধা ব্যাগে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, পাসপোর্ট ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গত রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা হয়েছে। বাবুল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার তিতাহাজরা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। দেশে এসে আকস্মিকভাবে নিহত হওয়ার ঘটনাটি রহস্যজনক হিসেবে দেখছে তার এলাকার বাসিন্দারাও।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত