মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

নড়াইলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ জলি খানমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে তুলারামপুর ইউনিয়নের চামরুল গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর পলাতক রয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামী পলাশ বিশ্বাস বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী। এই পরিবারে লাবিব নামের দুই বছরের একটি শিশু পুত্র রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর আগে সদরের রাজাপুর গ্রামের গ্রামপুলিশ আবুল কালামের মেয়ে জলি খানমের সাথে বিয়ে হয় চামরুল গ্রামের বক্কার বিশ্বাসের ছেলে পলাশ বিশ্বাস এর সাথে। বিয়ের পর থেকেই দরিদ্র আবুল কালামের কাছে নানা ধরনের জিনিস দাবি করে আসছে ছেলে পক্ষ। সবশেষ দেড় বছর আগে জলির স্বামী পলাশ বিশ্বাসের মালয়েশিয়া যাবার সময় শ্বশুরের কাছে একলক্ষ টাকা দাবি করলে ঋণ করে তা দিতে বাধ্য হয় শ্বশুর কালাম।

এরপর পরই শুরু হয় যৌতুকের উন্মাদনা। গ্রামে থাকা দেবর জুয়েল বিশ্বাসের জন্য একটি মোটরসাইকেল এবং শ্বশুর বাড়িতে ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ, টিভি ও সোকেজ ক্রয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। শ্বশুর বাড়ির যৌতুকের চাপে টিকতে না পেরে ১১ মার্চ বাবার বাড়ি রাজাপুর চলে আসে জলি। এ ঘটনা জানাজানি হলে ১৪ মার্চ দুপুরে দেবর জুয়েল বিশ্বাস ভাবী জলি খানমকে বাবার বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে আসে। একদিন পরে শনিবার বিকালে জলির মৃত্যুর খবর পেয়ে চামরুল গ্রামে গিয়ে পরিবারের লোকেরা জলির লাশ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় বাড়িতে জলির শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর এমনকি জলির ছোট ছেলেকেও পায়নি তারা।

নিহতের বাবা আবুল কালাম জানান, ৩/৪ দিন আগে জলির দেবর আমাকে ফোন করে মোটরসাইকেল চায়। ওর শ্বাশুড়ী আমার কাছে মেয়ের জন্য ফ্রিজ চেয়েছে। আমি গরীব মানুষ এসব কেমনে দেব, ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। নিহতের মা সেলিনা খানম হাসপাতালে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার জলিকে ওরা মেরে ফেলে উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। আমার একমাত্র মেয়েকে যারা মেরেছে আমি তাদের কঠিন শাস্তি চাই। নিহতের চাচা আব্দুল হালিম বিশ্বাস বলেন, আমরা আমাদের আপনজন হারিয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যেন কেউ অন্য কিছু করতে না পারে আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি।

স্থানীয় চামরুল গ্রামের ইউপি মেম্বর মফিজুর রহমান বলেন, গ্রামের একটি ফাঁকা জায়গায় ওদের বাড়ি ওখানে কিভাবে মেয়েটি মারা গেল তা বুঝা যাচ্ছে না। ঘটনা যাই হোক আমরা চাই দোষী শাস্তি পাক। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। এ বিষয়ে সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে হত্যা মামলা হতে পারে।

পাঠকের মতামত