তামিম-মুশফিকরা রক্তাক্ত সেই নারীকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা পুরো বিশ্বকেই নাড়া দিয়ে গেছে। ওই হামলার কিছু পরে আল নূর মসজিদে পৌঁছানো বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা ভুক্তভোগী অজ্ঞাত এক নারীকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন।

ন্যাক্কারজনক ওই হামলার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর মধ্যে একটি ভিডিও পাওয়া যায়; যা আল নূর মসজিদে হামলার সময় হামলাকারী নিজেই লাইভ করছিলেন। ১১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদ থেকে বেরিয়ে দেয়ালের ফাঁকা অংশ দিয়ে রাস্তায় অবস্থান করা এক নারীর দিকে দুটি গুলি ছুঁড়ছে ওই হামলাকারী।

মসজিদ থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আরও দুটি গুলি করে ঘাতক। এরপর যখন ওই নারী ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলছিলেন, তখন হামলাকারী আরও দুটি গুলি করে। ঘটনাস্থলেই মারা যান অজ্ঞাত ওই নারী। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ফিজিও শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, ওই অজ্ঞাত নারীকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন তামিম ইকবাল-মুশফিকুর রহিমরা।

তখন স্থানীয় সময় ১টা ৪০ মিনিট। অনুশীলন শেষে ওই সময় শহরের হ্যাগলি পার্কমুখী সড়ক দিন এভিনিউতে আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। মসজিদে প্রবেশ করার ঠিক আগমুহূর্তে অজ্ঞাত ওই নারী বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সাবধান করেন যে, ভেতরে একজন পিস্তল হাতে ঢুকেছেন এবং গোলাগুলি করছেন।

অজ্ঞাত নারীর ওই সাবধানবাণী শুনে কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা টিম বাসে উঠে পড়েন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা এবং সেই বাসের মেঝেতে শুয়ে পড়েন। এ সময় তারা দেখতে পান মসজিদটি থেকে মাত্র ৪০ গজ দূরে আচমকা একজন নারী রাস্তায় পড়ে যান। বাসে থাকা সবাই ভেবেছিলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ওই নারী। এ সময় ওই নারীকে মেডিকেলে নিতে হবে ভেবে তাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন তারা।

শুধু তা-ই নয়, বাস থেকেই তারা দেখতে পান, মসজিদের সামনে অনেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। অনেকে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে বেরিয়ে আসছেন মসজিদ থেকে; যা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। এর ৮-১০ মিনিট পর ওই টিম বাস থেকে নেমে স্টেডিয়ামে ফিরে যান তামিম-মুশফিকরা। বিষয়টি উঠে এসেছে ফিজিও চন্দ্রশেখরের অভিজ্ঞতার বর্ণনা থেকে।

নৃশংস এ ঘটনার বর্ণনায় বাংলাদেশ দলের ফিজিও বলেন, যখন আমরা মসজিদে পৌঁছাই, আমরা বুঝতে পারি আমরা গোলাগুলির মধ্যে এসে পড়েছি।আর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে পৌঁছালেই মসজিদের ভেতর থাকতেন ক্রিকেটারদের অনেকে এবং নিশ্চিত ফায়ারিং লাইনেই থাকতেন। এ সময় আমরা দেখতে পাই, একজন নারী রাস্তায় পড়ে যান। প্রথমে ভেবেছিলাম তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

‘তাকে মেডিকেলে নিতে হবে। ছেলেদের অনেকে উনাকে সাহায্য করতে চাইছিল। তবে এরপর বুঝতে পারি, এটি সাধারণ কোনও ঘটনা নয়। তখন আবার গুলির আওয়াজ শোনা গেল। আমরা আবারও শুয়ে পড়ি। আমাদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়। এ সময় অনেক গুলির শব্দ শোনা যায়। মানুষজনের চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পাই। এ রকম করে ৮-১০ মিনিট কাটে।’

‘আমাদের তখন কোনও বোধই ছিল না, একপর্যায়ে আমরা বাসের জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। ওই সময় অনেকে আমাদের কাছে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন। তবে প্রাথমিকভাবে তেমন প্রতিক্রিয়া জানাতে পারিনি। আসলে এ ধরনের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আপনার ব্রেন আপনাআপনিই জমে যাবে। কারণ আপনি আতঙ্কিত থাকবেন। সেটাই আমাদের সবার ক্ষেত্রে হয়েছে।’

পাঠকের মতামত