নিউজিল্যান্ডের পর লন্ডনে মসজিদের সামনে হামলা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লন্ডনে একটি মসজিদের সামনে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে পূর্ব লন্ডনের ক্যানন স্ট্রিট রোডে অবস্থিত একটি মসজিদের সামনে দিয়ে একটি গাড়ি যাওয়ার সময় গাড়ির ভেতর থেকে তিনজন মানুষ চিৎকার করে ইসলামবিরোধী কটূক্তি করতে থাকে।

দলটি মসজিদে জুমআর নামাজ পড়তে আসা ব্যক্তিদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে চিৎকার করতে থাকলে মসজিদের সামনে থাকা কয়েকজন মুসল্লি প্রতিবাদ করে নীল রঙের গাড়িটির পেছনে ছুটে যায়।

এ সময় হঠাৎ করে গাড়ি থামিয়ে ওই তিন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে পেছন পেছন ছুটে আসা মুসল্লিদের একজনের ওপর হাতুড়ি ও কাঠের তক্তা নিয়ে হামলা চালায়। মসজিদ থেকে ছুটে আসা আরও কয়েকজন তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এক পর্যায়ে গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায় ওই তিন ব্যক্তি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে তাদেরকে গাড়িতে উঠে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে একজন দ্রুত পালানোর চেষ্টায় চলন্ত গাড়ির বনেটের ওপর উঠে গিয়েছিল।লন্ডন-মসজিদের সামনে হামলা

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার শিকার ২৭ বছর বয়সী যুবকের মাথায় আঘাত লেগেছে। ঘটনার সাথে সাথে লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে ডাকা হলেও তার আগেই তাকে বন্ধুরা এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

লন্ডন মেট্রোপলিটান পুলিশের মুখপাত্র এক ব্রিফিংয়ে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গিয়েছিল। নীল গাড়িটি খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সন্দেহভাজনদের সবাই শ্বেতাঙ্গ ও তাদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা গেছে।

এর আগে শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে হামলা চালায় বন্দুকধারী। ওই হামলায় তিন বাংলাদেশিসহ নিহত হন ৪৯ জন। এছাড়া আহত হন আরো ৪৮ জন। তাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ এ হামলা চালানো ব্রেনটন ট্যারান্টকে ইতোমধ্যে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

পাঠকের মতামত