সু চি’কে ছাড়াই শপথ ৭০ এমপির, সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ফুঁসছে জনগণ

প্রকাশিত: ফেব্রু ৫, ২০২১ / ১১:২৬পূর্বাহ্ণ
সু চি’কে ছাড়াই শপথ ৭০ এমপির, সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ফুঁসছে জনগণ

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী ও অং সান সু চি’সহ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও শাসক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) শীর্ষ কয়েকজন নেতা আটক হয়েছেন।

গেল বুধবার সু চি’র বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে দেশটির পুলিশ। স্টেট কাউন্সিলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

এরইমধ্যে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনা কর্তৃপক্ষ পার্লামেন্ট বাতিল করলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সু চি’র দল এনএলডি’র ৭০ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। এই সাংসদরা দাবি করছেন, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাদের এ অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রন্টায়ার মিয়ানমার ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু’র খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে একটি ভবনে বৃহস্পতিবার সু চি সরকারের এমপিরা শপথ নেন। শপথ নেয়ার পর এনএলডি এমপি দাউ ফিউ ফিউ থিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা আইনগতভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার অধিকার আমাদের অবশ্যই আছে।’

এই সাংসদ আরও বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আমরা শপথগ্রহণের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েছি। জনগণের অনুমোদিত এমপি মর্যাদা আমাদের কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আমরা মানুষের এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছি। নেপিদো ছেড়ে যাওয়া এমপিরাও দ্রুত শপথ নেবেন।’

এদিকে মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে দেশটির জনগণ ক্রমশই ফুঁসে উঠছে। সে দেশের জনগণ মনে করে, অতীতের মতো এবার আর সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করতে পারবে না সেনা কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী। আটক করা হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’সহ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও শাসক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে। দেশটিতে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় বইছে।

গেল নভেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলে নেয় সেনাবাহিনী। সুষ্ঠু ভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা যথারীতি হস্তান্তর করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেনাপ্রধান মিং অং হ্লইং।

অভ্যুত্থানের পরপরই সু চি সরকারের ২৪ জন মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বরখাস্ত করে সেনাবাহিনী। সেসব পদে তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়। যাদের বেশিরভাগই সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা। বাকিরা সেনাসমর্থিত দল ইউএসডিপির সদস্য। আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা নিজ হাতে রেখেছেন সেনাপ্রধান মিং অং হ্লইং।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন