বরখাস্তের চিঠি ধরিয়ে দেয়া হতে পারে হাথুরুসিংহের হাতে

সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পরপরই কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহেকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। মে মাসে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ‘শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি কেমন’ এমন আলোচনার আড়ালে ডেকে পাঠালেও বোর্ডের একজন কর্মকর্তা ক্রিকইনফোকে জানিয়েছেন, সেই সভাতেই বরখাস্তের চিঠি ধরিয়ে দেয়া হতে পারে বাংলাদেশের সাবেক এ কোচের হাতে!

হাথুরুসিংহের সঙ্গে কথা বলতে এরইমধ্যে সাউথ আফ্রিকায় উড়ে গেছেন এসএলসির প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা। ওয়ানডের পর তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে লঙ্কানদের কোচিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ফিল্ডিং কোচ স্টিভ রিক্সনকে। হাথুরুবিহীন লঙ্কান দল রিক্সনের অধীনে কেমন করে আদতে সেটাই দেখার জন্য এসএলসির এই উদ্যোগ।

‘বোর্ড হাথুরুকে একটা বিশ্রাম দিতে চাচ্ছে। তিনি ছাড়া রিক্সন কীভাবে দল চালান সেটাই দেখা হবে।’ ক্রিকইনফোকে এমনটাই জানিয়েছেন এসএলসির সেই কর্মকর্তা।

ক্রিকইনফো জানাচ্ছে, বোর্ডের বেশিরভাগ সদস্যই নাকি চান হাথুরুকে বরখাস্ত করা হোক। বোর্ডও তাই চায়। তবে একটি জায়গায় হাত-পা বাঁধা আছে এসএলসির তা হল, বোর্ডের সঙ্গে কোচের চুক্তি। ২০২০ সাল পর্যন্ত লঙ্কান বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিভুক্ত হাথুরু। এই সময়ের আগে বরখাস্ত করলে ২০২০ সাল পর্যন্ত পুরো বেতন বুঝিয়ে দিতে হবে ৫১ বছর বয়সী কোচকে। তাই অ্যাশলে ডি সিলভাসহ অনেক বোর্ড কর্মকর্তাই চাচ্ছেন নিজ থেকে যেন সরে যান হাথুরু। অথবা তার ক্ষমতা কমিয়ে পদত্যাগের অবস্থাও তৈরি করতে চায় এসএলসি। এই উদ্দেশ্যেই দল নির্বাচনের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছে তাকে।

নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব ছেড়ে ২০১৮ সালে নিজ দেশের কোচ হওয়ার পর থেকে ক্রমেই নিন্মগামী হাথুরুর পারফরম্যান্স। তার অধীনে তিনফরম্যাটে ৪৯ ম্যাচে কেবল ১৬ জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। পারফরম্যান্সের মান দিন দিন নিচে নামছেই।

কেবল তাই নয়, কোচের সঙ্গে একাধিক খেলোয়াড়ের শীতল সম্পর্কের বিষয়টিও কানে উঠেছে এসএলসির। সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে দিনেশ চান্ডিমালকে ছেঁটে ফেলেছেন হাথুরু, ওয়ানডে ক্রিকেটে লাসিথ মালিঙ্গার অধিনায়কত্ব নিয়েও আছে তার আপত্তি। এই মালিঙ্গা নাকি তার পরিকল্পনাতেই ছিলেন না।

টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে সাউথ আফ্রিকার নিজ মাটিতে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশ হওয়ায় ভাবা হচ্ছিল, চাকরিটা বুঝি বাঁচিয়েই ফেলেছেন হাথুরু। কিন্তু চলমান ওয়ানডে সিরিজ দেখে মোহভঙ্গ হয়েছে বোর্ড কর্মকর্তাদের। যে কর্মকর্তারা ২০১৭ সালে অনেক তোড়জোড় করে বাংলাদেশ কোচের পদ থেকে তাকে ছাড়িয়ে এনে লঙ্কান ক্রিকেটের গুরুর পদে বসিয়েছিলেন, তারাই এখন জোরেশোরে চাচ্ছেন যেন পদ ছাড়েন হাথুরু। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচের সম্পর্কের বিষয়টিও ক্ষুব্ধ করেছে এসব কর্মকর্তাদের।

কোচের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্বে যেন বিশ্বকাপে ফলাফল বিপর্যয় না ঘটে সেজন্য আগেভাগেই হাথুরুকে সরিয়ে দেয়ার পক্ষপাতী লঙ্কান বোর্ড। বিশ্বকাপের আগে ঘরোয়া এক টুর্নামেন্ট আয়োজন করে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখে নেয়ার ইচ্ছে আছে এসএলসির। সেখান থেকেই চূড়ান্ত দল বাছাই করা হবে। কিন্তু সেই দলে হাথুরুকে কোন প্রকার নাক গলাতে দিতে ইচ্ছুক নয় লঙ্কান বোর্ড।

পাঠকের মতামত