সেনাবাহিনীর হাতে যে কারণে আ’টক মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি

প্রকাশিত: ফেব্রু ১, ২০২১ / ১০:২৭পূর্বাহ্ণ
সেনাবাহিনীর হাতে যে কারণে আ’টক মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি এবং দেশটির রাষ্ট্রপতি উইন মিনতকে আ’ট’ক করেছে সেনাবাহিনী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেনাবাহিনীর অ’ভিযা’নে তাদের আ’টক করা হয়। দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও আ’টক করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র মায়ো নিউনত সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি উইন মিনত এবং অন্য শীর্ষ নেতাদের সোমবার ভোরে আ’টক করা হয়েছে। জনগণকে উ’ত্তে’জি’ত না হয়ে আইন অনুসারে প্রতিক্রিয়া দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল এনএলডি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। তবে ওই নির্বাচনে ব্যা’পক কা’রচু’পির অ’ভিযো’গ তোলে দেশটির সেনাবাহিনী। এবার সেই অ’ভিযো’গেই অ’ভিযা’ন চা’লিয়ে সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতাদের আ’টক করা হল।

ওই নির্বাচনে সং’ঘা’তপূর্ণ অঞ্চলের ভোটারদের ভোট ব’ঞ্চিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী থেকে সমালোচনা করা হয়। আর সেনাবাহিনী সমর্থিত বিরোধী জোট নির্বাচনে দাবি করে নির্বাচনে ৮.৬ মিলিয়ন ভোট জা’লিয়া’তির ঘ’টনা ঘ’টেছে।

গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ‘নির্বাচনে প্র’তার’ণার’ অ’ভিযো’গ নিয়ে মিয়ানমারে যে রাজনৈতিক সং’ক’ট সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান না হলে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ পরিকল্পনা আছে তাদের। এটি কি অভ্যুত্থান হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ‘সেই আ’শঙ্কা উ’ড়িয়ে দেওয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করলে উ’ত্তেজ’না চ’রমে পৌঁছায়।

এরপর গত শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও মিয়ানমারে অবস্থিত পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাস দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে সেনা হ’স্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে গ’ভীর’ উ’দ্বেগ জানায়। যদিও পরের দিনই দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে অভ্যুত্থানের আ’শঙ্কা না’কচ করে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংবিধান মেনে আইন অনুযায়ী কাজ করবে।

গত বছর ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বড় জয় পায়। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছে ৩৪৬টি আসন।

সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভি’যোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। দাবি মানা না হলে সেনাবাহিনী ফের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেয় তারা।

নির্বাচনের পর বেসামরিক সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বাড়তে থাকা উ’ত্তে’জ’নার মধ্যে সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন পার্লামেন্টের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিলো।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন