সবার আগে জেনে নিন এইচএসসির ফল

প্রকাশিত: জানু ৩০, ২০২১ / ১২:০২অপরাহ্ণ
সবার আগে জেনে নিন এইচএসসির ফল

করোনার কারণে অনুষ্ঠিত না হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এ বছর এইচএসসি ও সমমানের ফল দুভাবে জানা যাবে। প্রথমত যারা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী প্রাক‌–নিবন্ধন করে রেখেছে, তাদের দেওয়া নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তায় ফল জানানো হবে। এ ছাড়া বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ফল জানতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই শিক্ষার্থীদের।

যারা মুঠোফোনের খুদেবার্তার মাধ্যমে ফলাফল পেতে ইচ্ছুক তাদের ফলাফল প্রকাশের আগেই প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে : HSC< >Board name (First 3 letter) <> Roll<>2020 টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফল প্রকাশের সাথে সাথেই প্রি-রেজিস্ট্রেশনকৃত পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের ফল পৌঁছে যাবে। টেলিটক ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd-এ ফল দেখা যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।

ফল সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েত পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এবার ফল অনলাইনে প্রকাশিত হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ফল পাঠানো হবে না। কাজেই কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েত হওয়া যাবে না।

করোনায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা ছাড়াই ফল মূল্যায়ন করায় এবার সবাই পাশ করবেন। তাই সবার আগ্রহ, কে কত জিপিএ (গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ) পায়, তা নিয়ে।

এসএসসি ও জেএসসির পরীক্ষার গড় ফলের ভিত্তিতে এইচএসসির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে এবার। জেএসসির ফল থেকে ২৫ শতাংশ এবং এসএসসির ফল থেকে ৭৫ শতাংশ নিয়ে গড় করে শনিবার ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হবে।

গত ৭ অক্টোবরে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সরাসরি গ্রহণ না করে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের এইচএসসি শিক্ষার্থীরা দুটি পাবলিক পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। এদের জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড় অনুযায়ী এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মূল্যায়নের কাজটি করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করেছে। বিভাগ পরিবর্তনজনিত (যারা বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা অন্য বিভাগ পরিবর্তন করেছে) কারণে যে সমস্যাটি হবে তা ঠিক করতেও বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করেছে। এই বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের পরামর্শ বা মতামত দিয়েছে। সেই পরামর্শের ভিত্তিতে এই মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হচ্ছে আজ।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে সারা দেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে প্রায় পৌনে দুই কোটি ছাত্রছাত্রী। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির কিছু বেশি। আর কলেজে মোট শিক্ষার্থী প্রায় অর্ধকোটি। বাকি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর করোনার সংক্রমণ রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়, যা দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও শিক্ষাপঞ্জি ওলটপালট হয়ে গেছে। দীর্ঘ এই বন্ধের ফলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলে আসছেন শিক্ষাবিদেরা। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, এই চার কোটি শিক্ষার্থীর ক্ষতি পোষানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন তারা।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন