তথ্য প্রযুক্তির দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স!

প্রকাশিত: জানু ২৯, ২০২১ / ১০:৪২অপরাহ্ণ
তথ্য প্রযুক্তির দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স!

উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে সেই পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডাকঘরের “ডাকবাক্স”। এখন আর আগের মতো ডাক অফিসে লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় না। ফলে ব্যক্তিগত চিঠির গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। সেই সাথে এলাকার ডাকঘর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ফেলে আসা দিন গুলোতে বার্তা প্রেরক ও মনের ভাব আদান প্রদান ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের বিষয়টি অতি গুরুত্বের সাথে উচ্চারিত হয়েছিল। নব্বই দশক পর্যন্ত যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি এবং জরুরি বার্তার জন্য টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন।

একমাত্র জেলা শহর ব্যতিত গ্রামীণ জনপদে টেলিফোনের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সীমিত। পরিবার কিংবা প্রিয়জনের চিঠির জন্য অপেক্ষায় থাকতেন এলাকার প্রবাসীরা। এখন আর সেই দিন নেই। নানা তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে দিন বদলের ন্যায় পাল্টে গেছে সবকিছু।

এখন এক নিমিশে খবরা খবর পৌঁছে যাচ্ছে ঘর থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে। প্রতি সেকেন্ডে আলাপ চলছে অত্যাধুনিক মোবাইলে। শুধু মোবাইলে কথা বলছে না সাথে সাথে প্রিয় ব্যক্তির ছবিও দেখছে।

চোখের পলকে খবর পৌঁছে যাচ্ছে কম্পিউটারাইজম সিস্টেম তথ্য প্রযুক্তির আরেক মাত্রা ই-মেইলে। ডিজিটাল যুগের একধাপ পরিবর্তনের ফলে অচল হয়ে গেছে ডাকে চিঠি প্রেরণ ও টেলিগ্রাফের যুগ।

তথ্য প্রযুক্তির যুগে ডাক বিভাগের ধরণ আর কাজের পরিধির মধ্যে এসেছে নানা পরিবর্তন। কালের বিবর্তনে হয়তো পরিবর্তন এসে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির আদল ধারণ করবে। তখন হয়তো ডাকঘরের আভিধানিক অর্থ এবং কাজের ধরণও পাল্টে যাবে। প্রযুক্তির গ্যাড়াকলে পড়ে নানা কারণে এই দিবস অচিরেই হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার কাছ থেকে।

১৮৬৩ সালে আমেরিকায় ডাক বিভাগের প্রবর্তন ঘটলেও ১৮৭৪ সাল থেকে এসে গঠিত হয় জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন। ইউনির্ভাসেল পোস্টাল ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষে বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হলেও বাংলাদেশে ডাক বিভাগের চিত্র এখন আর পূর্বের মতো নেই।

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি কারণে এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের দাপটে ডাক বিভাগের আগের ব্যস্ততা আর নেই। দেশ বিদেশ থেকে চিঠি পত্রের আদান প্রদান এবং টাকা প্রেরনের সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম ছিল ডাক বিভাগ। সে সময়ে ডাক বিভাগের কদর ছিল অন্য রকম।

এখন কালের আবর্তে অন্যতম তথ্য প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে সেই পুরোনো ডাক যোগাযোগ। দূরত্ব আর এলাকার ধরণের উপর নির্ভর করত ডাকযোগে কোনো জিনিস কয় দিনে পৌঁছবে। এখন সে অপেক্ষা আর করতে হয় না। অনায়াসে পৌঁছে যায় প্রিয়জন কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে খবরাখবর বা অন্যান্য জিনিস পত্র।

এ বিষয় বেতাগীর প্রবীন সাংবাদিক আকন্দ শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে সংবাদ লিখে চিঠির খামে ভরে ডাকবাক্সে ফেলে দিতাম। কয়েকদিন পর ওই সংবাদ ছাপা হতো, এরপর পত্রিকা অফিস ডাকযোগে সেই পত্রিকা পাঠাতো, সেই ছাপানো খবর পড়ার জন্য কখন ডাক পিয়ন ডাকবাক্স খুলবে তার জন্য আগে থেকে পোস্ট অফিসে এসে অপেক্ষা করা হতো।

বর্তমানে বেতাগী উপজেলার ডাকঘরসহ ইউনিয়ন ভিত্তিক ডাকঘরে অতীতে যেভাবে ডাক বাক্সে চিঠি পত্র আদান প্রদান করা হতো, এখন সেটা তথ্য প্রযুক্তির প্রবাহে প্রতিক্ষণে প্রতি মূহুর্তে হারিয়ে যাচ্ছে।

বেতাগী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুলিন বিহারী ঢালী জানান, আগে আমরা অপেক্ষা করতাম কখন ডাক পিয়ন চিঠি নিয়ে এসে নতুন খবর দিয়ে যেতো।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কম্পানির বিভিন্ন মোবাইল সহ অত্যাধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ফলে এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল নারী পুরুষেরা সেই চিঠি পত্র আদান প্রদান করতে ডাক বিভাগে আসতে দেখা যায় না।

যার ফলে ডাকঘরের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে কমতে দেখা যাচ্ছে বলেও ধারনা করেন কৌতুহলী লোকজন। চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী ডাকঘরের “ডাক বক্স” দিন বদলের ফলে ডিজিটাল যুগে অনায়াসে হারিয়ে যাচ্ছে সভ্য সমাজের মানুষের কাছ থেকে।

বেতাগী উপজেলা পোস্টমাস্টার আব্দুল মতিন বলেন, এখনো সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠির মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। এ ছাড়া তথ্য প্রযুক্তির অনেকটা কাজ আমাদের করতে হচ্ছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন