ঋণ অবলোপনে বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে ঋণ অবলোপনে (রাইট অফ) বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে মামলা ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপন করতে পারবে দেশে ব্যবসারত ব্যাংকগুলো। এতদিন মামলা ছাড়া সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপন করতে পারতো ব্যাংকগুলো।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশে কার্যরত সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

ঋণ অবলোপন বা ‘রাইট অফ’ করার মানে হলো- সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূল্য ব্যালেন্স শিট থেকে ওই ঋণকে অন্য আরেকটি লেজারে সরিয়ে নেয়া। খেলাপি ঋণ শ্রেণিকরণে (ক্লাসিফাইড) সাধারণত তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এগুলো হলো- সাব স্ট্যান্ডার্ড, ডাউটফুল এবং মন্দ ঋণ। যেসব ঋণ মন্দ ঋণে পরিণত হয় সেগুলোকে রাইট অফের মাধ্যমে ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। সাধারণ শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কম দেখাতে এটা করা হয়। তবে, ব্যালেন্স শিট থেকে বাদ দেয়া অর্থ এই নয় যে, এ ঋণ আর আদায় করা যাবে না বা আদায় হবে না।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেসকল ঋণ/বিনিয়োগ হিসাবের বকেয়া দীর্ঘদিন আদায় বন্ধ রয়েছে ও নিকট ভবিষ্যতে কোনরূপ আদায়ের সম্ভাবনাও নাই এবং যে সকল ঋণ/বিনিয়োগ হিসাব একাদিক্রমে তিন বছর মন্দ/ ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত রয়েছে এরূপ ঋণ/বিনিয়োগ হিসাব ব্যাংকসমূহ অবলোপন করতে পারে। তবে, ব্যাংক নিজস্ব বিবেচনায় মৃত ব্যক্তির নিজ নামে অথবা তার একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে গৃহীত ঋণ/বিনিয়োগ হিসাব ঋণ-শ্রেণিমান নির্বিশেষে ও অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলাযোগ্য না হলে মামলা দায়ের ব্যতিরেকে অবলোপন করতে পারবে।

তবে একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির উপার্জনক্ষম উত্তরসূরী রয়েছে কিনা তা বিবেচনায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে ঋণ/বিনিয়োগ অবলোপনের অন্যান্য সকল নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ঋণ/বিনিয়োগ হিসাব অবলোপন পদ্ধতির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অবলোপনযোগ্য ঋণ/বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকের অনুকূলে বন্ধকীকৃত সম্পতি (যদি থাকে) নিয়মানুগভাবে বিক্রয়ের প্রচেষ্টা গ্রহণ, ব্যাংকে নিশ্চয়তা প্রদানকারী ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে পাওনা অর্থ আদায়ে সমর্থ না হলে উক্ত ঋণ/বিনিয়োগ অবলোপনের আওতায় আসবে।

অবলোপনের জন্য নির্বাচিত ঋণ/বিনিয়োগ হিসাবসমূহের ক্ষেত্রে পূর্বে আইনগত ব্যবস্থা সূচিত না হয়ে থাকলে অবলোপনের পূর্বে অবশ্যই অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী মামলা দায়ের করতে হবে। তবে ক্ষুদ্র অংকের ঋণের ক্ষেত্রে মামলা করতে হলে মামলা খরচের পরিমাণ প্রায়শই ঋণাংকের চেয়ে বেশী হয়ে যায় বিধায় অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর আওতায় অত্যাবশকীয়ভাবে মামলাযোগ্য না হলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত যেকোনো অংকের অবলোপনযোগ্য ঋণ/বিনিয়োগ আদালতে মামলা দায়ের ছাড়া সার্কুলারের ২(গ) নির্দেশনা অনুযায়ী অবলোপন করা যাবে

অবলোপনের আগে ঋণ হতে রক্ষিত স্থগিত সুদ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট ঋণস্থিতির সমপরিমাণ প্রভিশণ সংরক্ষিত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে অবলোপনের জন্য চিহ্নিত প্রতিটি ঋণ/বিনিয়োগ হিসাবের বিপরীতে রক্ষিত প্রভিশন পর্যাপ্ত না হলে ব্যাংকের চলতি বছরের আয় খাত বিকলন করে অবশিষ্ট প্রভিশন সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে প্রত্যেক ব্যাংকে একটি পৃথক ইউনিট গঠনের পাশাপাশি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ/বিনিয়োগ অবলোপন করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা তার ঋণের দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত যথানিয়মে খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন।

অবলোপনকৃত ঋণের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)-তে যথারীতি রিপোর্ট করতে হবে।

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত