দলে দলে ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা

প্রকাশিত: জানু ২৯, ২০২১ / ১১:৩৬পূর্বাহ্ণ
দলে দলে ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা নিপীড়ন ও গণহত্যার মুখে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজার ও এর আশপাশের অঞ্চলসমূহে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার একটি বড় অংশকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে নেয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ আরও ১ হাজার ৭৭৮ জন রোহিঙ্গা নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

এর আগে গতকাল ৩৮টি বাসে করে অন্তত ৩৫৩ পরিবারের ১ হাজার ৭৮৭ জন রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রামে আনা হয়। আজ আরও ১ হাজার ৩০০ রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রামে আনার কথা রয়েছে। সেখান থেকে নৌবাহিনীর হাজারে করে তাদের ভাসানচরে নেয়া হবে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তিনটি ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর চলছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছুদ্দৌজা জানিয়েছেন, শুক্র ও শনিবার দু’দিনে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্প-২ ইস্ট রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মো. রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই শিবির থেকে স্বেচ্ছায় ৬’শর বেশি রোহিঙ্গা ভাসানচরে যেতে চট্টগ্রামে গিয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও এর বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে সৃষ্ট সামাজিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে তাদের একটি অংশকে নোয়াখালীর হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে ১ লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গেল ২ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের যে পরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে, তার সঙ্গে জাতিসংঘের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা নিপীড়ন, গণধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও ও গণহত্যার মুখে নতুন করে ৭-৮ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে আশ্রয় নেয়। এরপর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও নিজেদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে না মিয়ানমার।

গত ১৯ জানুয়ারি নোয়াখালীর ভাসানচর থানা উদ্বোধন করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আমরা মনে করছি, ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্বস্তিবোধ করছে। তাই তারা দলে দলে এখানে আসতে শুরু করবে। তাদের ভুল ভেঙেছে। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ধীরে ধীরে ভাসানচর একটি সমৃদ্ধময় এলাকা হবে। ভবিষ্যতে এই থানাকে প্রয়োজনীয় জনবলসহ সবদিক দিয়ে আরও শক্তিশালী করা হবে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন