অভিযোগের তীরগুলোর কী হবে, মাদারি?

আমরা ছোটবেলায় মফস্বল শহরের রাস্তায় ‘মাদারির খেল’ দেখে খুব মজা পেতাম। ও, মাদারি শব্দের অর্থ কী জানতে চাচ্ছেন? মাদারি হচ্ছে সেই লোক, যে হাতসাফাই করে নানা রকম ভেলকিবাজি দেখিয়ে লোকের তাক লাগায়। যেমন তার হাতে দেখা গেল একটা পিংপং বল ধরা আছে। সে দর্শকদের উদ্দেশে বলল, বাচ্চালোগ, এক দফা জোরসে তালিয়া বাজাও। আমরা অর্থাৎ বাচ্চারা জোরে হাততালি দিলাম। অমনি দেখা গেল, একটি বল তিনটি বা চারটি বল হয়ে গেছে। এই রকম আরও কত চোখ ধাঁধানো খেলা। এমনকি কিছু কিছু রোমহর্ষক খেলাও দেখাত মাদারি। ‘লে কর ওস্তাদ কা নাম, শুরু করনা আপনা কাম’ বলে বছর আট-দশেকের একটা শিশুকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে তার মাথাটি একটা ঝাঁপির নিচে রেখে ছাগল জবেহ করার মত বাচ্চাটার গলায় ছুরি চালিয়ে তার তাজা রক্তমাখা ছুরি দর্শকদের দেখাত। কিছুক্ষণ ছটফটানি ও গোঙানির পর শিশুটির দেহ নিথর হয়ে গেলে ঝাড়ফুঁক দিয়ে সেই ‘মৃত’ শিশুকে আবার জীবিত করত মাদারি। সচরাচর এই ধরনের ভয়ঙ্কর আইটেম দিয়ে শেষ হতো মাদারির খেল। আমরা তখন বায়না ধরতাম : ওস্তাদজি, আরেকটা খেলা দেখান। ওস্তাদজির মুখের বুলি সব সময় ছিল হিন্দুস্তানি জবান। সে ভাঙা ভাঙা বাংলায় জবাব দিত : আর হোবে না, বাবুলোগ। খেল খতম পয়সা হজম।

আমাদের এবারকার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আমার কেন জানি ছেলেবেলার সেই মাদারির খেলের কথা মনে পড়ছে বারবার। সেই হাতের মুঠোর ভেতর একটা বল তিনটি হয়ে যাওয়া, সেই একটি খালি বাক্সের ভেতর এক শ’টি কাগজের ফুল … ইত্যাদি। আর নির্বাচনে পরাজিত দলগুলোর পুনর্নির্বাচনের দাবির মুখে নির্বাচন কমিশন নামক মাদারি যেন বলছে : আর ‘নির্বাছন’ হোবে না বাবুলোগ। খেল খতম, পয়সা হজম। (বিঃ দ্রঃ : ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের মত নির্বাচন শব্দের চ অক্ষরের উচ্চারণ কিন্তু আমার নয় : লেখক)।

দুই.

‘নির্বাছন’ বলুন আর নির্বাচন নির্বাসন যাই বলুন, দেশবাসী বাবুলোক-ছোটলোক সবাই কিন্তু এবার কোনো খেল তামাশা, ফাজলামি-ফাতরামি দেখতে চায়নি। নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। এ যেন দীর্ঘ এক যুগ পর প্রবাসী ছেলের গৃহপ্রত্যাবর্তন। ছেলেকে নিয়ে মায়ের কত আশা, কত স্বপ্ন। সেই ছেলে দেশে ফিরে এসে যদি বলে, আমি শূন্য হাতে ফিরে এসেছি মা, তোমাদের কারো জন্য কিছু আনতে পারিনি। আমি যে বেকার ছিলাম সেই বেকারই রয়ে গেছি। বিদেশের জেলে আমার বারোটি বছর কেটেছে দুঃস্বপ্নের মত। তোমরা আমাকে ক্ষমা করো, মা। তখন কেমন লাগে মা-বাবা-ভাইবোন-স্বজনদের? মা বলবেন, এ কী শোনালি তুই, বাবা। তোর এই অস্থিচর্মসার দেহ, মলিন মুখ তো আমরা দেখতে চাইনি। আমরা তো আশায় আশায় বুক বেঁধে বসেছিলাম–তোর ফিরে আসার সাথে সাথে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যাবে আমাদের এই পর্ণকুটিরে, সুখের বান ডাকবে আমাদের জীবনের মরা গাঙে। নির্বাচন শেষে এখন দেশের আপামর জনসাধারণের হা-হুতাশ, চাপা হতশ্বাস (হ্যাঁ, চাপাই, প্রকাশ্যে জোরে হতাশা ব্যক্ত করতে গেলে কোন ‘গায়েবি’ বিপদ নেমে আসে কে জানে!) যেন সেই পুরনো কাব্য কণিকা দু’টিকেই স্মরণ করিয়ে দেয় : সকলি গরল ভেল/সিন্ধু সেচিয়া মুকুতা তুলিতে গরল মিলিয়া গেল। (উদ্ধৃতিটিতে ভুলচুক হয়ে থাকলে মার্জনা চাইছি। সময়াভাবে যাচাই করা গেল না।)

আমাদের মত পরচ্ছিদ্রান্বেষণকারী পদ্মভুক স্মৃতিভুক আর্মচেয়ার দার্শনিক ছাড়া বাংলাদেশে সত্যিকারের গুণগ্রাহী কদরদান মানুষের যে অভাব নেই, তা নির্বাচনের পর বিজয়ীদের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপনের জোয়ার দেখে বোঝা যায়। তবে এঁদের সবাই আয়োজক কর্তৃপক্ষ—অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন বা তার অন্যতম সহায়ক সংগঠন পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা ও সাফল্যকে এপ্রিশিয়েট করতে কার্পণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু তাই বলে ওই দুই স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠান তো আর বসে থাকতে পারে না। তারা নিজেরাই নিজেদের সাফল্যের জয়ঢাক পিটিয়ে জানান দিল কত বড় ঐতিহাসিক দায়িত্ব তারা পালন করেছে। আর অবশ্যই প্রতিষ্ঠান দু’টির নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। পুরো ২২ বা ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বহুল আলোচিত পদকের মেকি স্বর্ণ নয়। (‘আসল সোনা ছাড়িয়া যে নেয় নকল সোনা, সেজন সোনা চিনে না’)।

নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনকে বলেছে একটি সফল নির্বাচন, যদিও তাদের এক প্রধান কর্ণধার মাননীয় কমিশনার মাহবুব তালুকদার তা মানতে নারাজ। নির্বাচন কমিশনে এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ করা হয়েছে পিঠা উৎসবের আয়োজন। সফল নির্বাচন, পৌষ মাসের শীত, পিঠা উৎসব–সবই খাপে খাপে মিলে গেছে। আর প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা বোধ হয় ‘মৎস্য মারিব খাইব সুখে’—এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাসী। অথবা নির্বাচনকালীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যেসব মাৎস্যন্যায় আচরণের কথা শোনা গেছে, বা যেসব অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর মাছের কথা মনে পড়ে গেছে এবং সেই কারণে তিনি কমিশন চত্বরের জলাশয়ে সেদিন বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিলেন বলে পত্রিকান্তরের খবরে প্রকাশ। তা মাছ তিনি নিশ্চয়ই ধরতে পারেন। তিনি তো আর রোম সম্রাট নীরো নন যে বাঁশি বাজাবেন! আর রোম নগরীর মত, আল্লাহ না করুন, ঢাকা নগরী তো আর পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল না।

আর আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুষ্টের দমনে যেমন কঠোর, তেমনি তাদের উৎসব-আয়োজনও জবরদস্ত। তারা এবারের নির্বাচনকে বলেছে ‘আন্তর্জাতিক মানের’। (বলুন, আলহামদুলিল্লাহ!) তারা সারা দেশে তাদের বাহিনীর জন্য আয়োজন করেছে বিশেষ ভোজের। দশ-বারো ঘণ্টা যারা একঠায় অবিচল দাঁড়িয়ে থেকে আহার-নিদ্রা ভুলে দায়িত্ব পালন করে, তারা একবেলা পেট পুরে ভালো-মন্দ দু’টো খেতে পেলে নিশ্চয়ই কেউ তা বাঁকা চোখে দেখবেন না। আর নির্বাচন কোন মানের হয়েছে তা দেশের অগণিত উম্মি লোকের জানার কথা নয়। তারা হচ্ছে আশরাফ শ্রেণীর মতে ‘হুজুর মাই-বাপ, আমরা তো–এর বাচ্চার’ দল। অতএব, হুজুর যখন বলেছেন ওটা দারুণ হয়েছে, তখন নিশ্চয়ই তাই। এর বাইরে কেউ কিছু বলবে এমন আহাম্মোক কে আছে? থানার বড়বাবু (সেই ব্রিটিশ আমল থেকে ও. সি. সাহেবকে বেশিরভাগ লোকে এই নামেই ডাকে) এই মানের কথা বললেই যথেষ্ট। আর এখানে তো খোদ পুলিশ বিভাগই বলছে, এটা আন্তর্জাতিক মানের। তবে আমরা আশা করব, দিন শেষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তাদের সঙ্গে একমত হবে। (আবার অনেক গবেট লোক হয়ত ভাবতে পারে, নির্বাচনের আন্তর্জাতিক মান যে এত উঁচু তা তো জানতাম না!)

৩.

এবার আসা যাক সেইসব বিষয়ের প্রসঙ্গে, যেগুলো নিয়ে কানাঘুষা সেই যে ভোটের দিন থেকে শুরু হয়েছে তো আর থামছে না। বিষয়গুলো নির্বাচন-খেলার তিন মাদারিকে নিয়ে : ক) নির্বাচন কমিশন, খ) সরকারি দল ও গ) প্রধান বিরোধী দল বা দলসমূহ। এরা সবাই যার যার অঙ্গনে যে নির্বাচনী খেল দেখিয়েছে, তার সবটুকুর জন্য যে দেশবাসী খুব একটা প্রস্তুত ছিল তা বলা যাবে না। এবারের নির্বাচনের আগে থেকে মানুষের মনে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। দুই প্রধান প্রতিপক্ষের অবস্থান ছিল ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনীর’ মত। এটা স্বাভাবিক। এক দল যে করে হোক ক্ষমতার মসনদে সুপার গ্লু দিয়ে হলেও সেঁটে বসে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। তো আরেক দল পীর-মুর্শিদ, ফকির-দরবেশ কারো দরবারে ধরনা দিতে বাকি রাখেনি। মনে হচ্ছিল, নির্বাচন সত্যিকার অর্থেই জমে উঠেছে। বিশেষ করে পহেলা নভেম্বরের সংলাপের পর, যদিও ওই সংলাপে কোনো সুস্পষ্ট ফলোদয় হয়নি। তবে সংলাপের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রত্যয় ঘোষণা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সদিচ্ছা প্রকাশ। জাতি ভাবল, এবার আর সংঘাতের পথে নয়; বরং একটি সৌহার্দ্যমূলক সহনশীল পরিবেশে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু পরবর্তী দুই মাসের কার্যকলাপে জাতির আশাহত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। বিশেষ করে অসমতল নির্বাচনী ময়দান, গণগ্রেপ্তার, গায়েবি মামলা, বিরোধী দলের মিটিং-মিছিল ইত্যাদিতে বাধাদানের বিষয়গুলো সব মহলে মুখ্য আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর এই প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হলো ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচনের ফলাফল দেখে দেশের মানুষের আক্কেল গুড়ুম হবার দশা। তিনশ আসনের মধ্যে বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে কুল্লে সাত আসন, যার ভেতর বিএনপি-র অর্জন পাঁচ। আর প্রায় সব আসনেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বিজিত প্রার্থীর ভোটের ফারাক আসমান-জমিন। কোথাও হয়ত আওয়ামী লীগ পেয়েছে তিন লাখ ভোট, আর বিপরীতে বিএনপি মাত্র তিন হাজার। মোট এক হাজার ৮৫৫ জন প্রার্থীর মধ্যে এক হাজার ৪২২ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ভাবা যায়! একটি আসনে একজন প্রার্থী পেয়েছেন গোল্লা। অর্থাৎ তিনি একটি ভোটও পাননি। না তাঁর নিজের, না তাঁর দারাপুত্র পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবের। আরেকটি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, যেসব কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হয়েছে, সেগুলোতে ভোটের হার গড়ে ৫১ শতাংশ, আর জাতীয়ভাবে ভোটের হার ৮০ শতাংশ। তার মানে কি ইভিএম কেন্দ্রের ভোটাররা নির্বাচনবিমুখ? নাকি মেশিন কোনো ছলচাতুরী করতে অপারগ?

এ ধরনের আরও অনেক উল্টাপাল্টা ব্যাপারের কারণেই বোধ হয় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের মতে, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের কারণে তা অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক হয়েছে, তবে তা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। অর্থাৎ ভোটারদের অংশগ্রহণের কারণে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে বলা যাবে না। একজন নির্বাচন কমিশনারের মূল্যায়ন যদি এ রকম হয়, তবে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি—এ কথা নিশ্চয়ই বলা যায় না। অথচ গত দেড়-দুই বছর ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, এবারের নির্বাচন কিছুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। এখন দেখার বিষয়, প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা নেয়। আমরা আশা করব, কাজটি করা হবে বিবেক পরিষ্করণের অংশ হিসেবে এবং কোনো প্রকার গোঁজামিলের আশ্রয় না নিয়ে।

এবারের নির্বাচনের আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবড়ানি খেয়ে সারা দেশে হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এখনও অনেকে ঘরে ফিরতে পারেননি। অনেকে তথাকথিত গায়েবি মামলার শিকার হয়ে জেলে গেছেন। অনেক প্রার্থী তাঁদের নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন-প্রচারপত্র ইত্যাদি নাকি ঘর থেকে বেরই করতে পারেননি। আর ভোটের আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় শত শত ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে পুরে দেওয়া, ভোটের দিন বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে যেতে না দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা ইত্যাদি এন্তার অভিযোগের কথা শোনা গেছে। এসব অভিযোগের সবই যে সত্য তা হয়ত নয়, তবে অদ্যাবধি কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বলে শোনা যায় না। অবশ্য একটি ‘সফল’ বা ‘আন্তর্জাতিক’ মানের নির্বাচন হয়েছে বলে দেশবাসী যদি সত্যি সাক্ষ্য দেয়, তাহলে বলার কিছু নেই।

আরেকটা কথা। বিএনপি কি এবার তাদের নিজেদের চেহারাটা একবার অন্তত আয়নায় দেখবে? সরকারের তরফ থেকে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কি সাংগঠনিক তৎপরতা কিছুটা হলেও চালানো যেত না? উপজেলা না হোক, অন্তত বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ব্যাপক সফর, জনসংযোগ, মিটিং-মিছিল করা যেত না? তাতে করে আর কিছু না হোক মাঠ পর্যায়ে মিইয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হলেও উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হতো। আর বাতাসে যে খবরটা দারুণভাবে উড়ছে, সেই তথাকথিত মনোনয়ন বাণিজ্য এবং জামায়াতকে হুট করে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ সম্বন্ধে কী বলবেন বুজুর্গ নেতৃবৃন্দ? কী জবাব দেবেন ‘ক্লিন ইমেজের’ ত্যাগী নেতাদের, যাদের মূল্যায়ন না করে বরং অপমান করা হয়েছে?

চার.

শেষ করি কবি আল্লামা ইকবালের একটি ‘শের’-এর দু’টি চরণ দিয়ে : গ্যায়া উ দিন সারমাদারি কা গ্যায়া/তামাশা দেখাকে মাদারি গ্যায়া। (পুঁজিবাদের সাঙ্গ হলো বেলা/যেন বাজিকর চলে গেল শেষ করে খেলা)।

সব মাদারির খেল একদিন শেষ হয়, শেষ হয়ে যায়, নিয়তির নিয়মে। খেল খতম পয়সা হজম বলে রঙ্গমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হয় সব বাজিকরকে। কেউই অমর অজর নয়, কিছুই অবিনশ্বর নয়, একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ ব্যতীত, একদিন যার কাছে হিসাব দিতে হাজির হতে হবে সবাইকে। মনে থাকে যেন।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

mkarim06@yahoo.com

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত