জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ ১৯ জানুয়ারি। ১৯৩৬ সালের আজকের দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর ডাক নাম ছিলো কমল। সাবেক এ রাষ্ট্রপতির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

জিয়াউর রহমান মাত্র ১৭ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা দেন স্বাধীনতার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মেজর জিয়া নিজেও ছিলেন সম্মুখসমরে। বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আসে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী ভূমিকায় ইতিবাচকভাবে পাল্টে যেতে থাকে দেশের অর্থনীতি। অবকাঠামো উন্নয়ন, খাল খনন, খাদ্য উৎপাদন, গণশিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম, গ্রাম সরকার প্রবর্তনসহ তাঁর নেওয়া ১৯ দফা কর্মসূচি দৃষ্টি কাড়ে মানুষের। প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন।

দেশকে নিয়ে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই বিপথগামী একদল সেনা সদস্যের হাতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শহীদ হন জিয়াউর রহমান।

দুই দিনের ৬ কর্মসূচি

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

১। দিবসটি উপলক্ষে আজ ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি বিএনপি কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

২। ১৮ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটরিয়ামে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

৩। আজ শনিবার সকাল ১০টায় শেরে বাংলানগরে শহীদ জিয়ার সমাধিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও নেতাকর্মীরা ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন।

৪। দিবসটি উপলক্ষে এরই মধ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে।

৫। ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে।

৬। অনুরূপভাবে সারা দেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিটে যথাযোগ্য মর্যাদায় সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে।

বিএনপি মহাসচিবের বাণী

জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রবক্তা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তাঁর প্রদর্শিত পথেই আমরা আধিপত্যবাদের থাবা থেকে মুক্ত হব ও গণতন্ত্র ফিরে পাব। আর এর জন্য সর্বশক্তি দিয়ে গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বৈরাচারের কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে।

আমি এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা; গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়-বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।’

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত