ভবিষ্যতের উপযোগী রাজনৈতিক নেতৃত্ব

ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের অবস্থা কেমন হবে? টিকে থাকবে কি গণতন্ত্র তখন? একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন, তার কি কোনো নিদর্শন দেখা যায়? বিশ্বের সবচেয়ে অনুন্নত (Least Developed) সমাজের একটিতে বসে এমন প্রশ্ন উত্থাপন করা খানিকটা ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনে হয় বটে; কিন্তু এর বিকল্পই বা কী? বিশ শতকের শেষ প্রান্তে আমাদের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়। সুখকর নয় দেশের অভ্যন্তরে, নয় বহির্বিশ্বেও। গণতান্ত্রিক হয়েও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো কোনো রাষ্ট্র যে বিস্ময়কর অর্জন লাভ করেছে, সেদিকে তাকালে একুশ শতকে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। বৃহত্তর ঢাকা নগরীর চেয়েও ক্ষুদ্র এক জনপদ সিঙ্গাপুর যা করেছে তার তুলনা নেই। তাইওয়ানের মতো ছোট একটি জনপদ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে তার জুড়ি কোথায়? দক্ষিণ কোরিয়া যে গতিতে ছুটে চলেছে একুশ শতকের মাঝামাঝি আরেকটি অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে রূপান্তরিত হবে না, তা-ই বা কে জানে? মাহাথির মোহাম্মদের মালয়েশিয়া শুধু আকাশকে সীমারেখা হিসেবে মানতে রাজি আছে, অন্য কিছুকে নয়। এসব রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ণীত হয়েছে। গণতন্ত্র যদি জনগণের শাসন হয়, তাহলে জনসাধারণের জীবনের মান উন্নয়নই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মৌল লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য যদি জনগণের ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণ কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে তার দরকার নেই। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সাধারণ জনগণের জীবনের মান উন্নয়ন। এসব নতুন দর্শন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করে। উন্নত জীবনমান বলতে শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বোঝায় না। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যক্তির জন্মগত অধিকারগুলোর সংরক্ষণ, সমাজে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, সুশিক্ষার বিস্তার, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহনশীলতার উচ্চমাত্রা, পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণ ইত্যাদি। এদিক থেকে বলা চলে, গণতন্ত্রই হলো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার আলোকবর্তিকাস্বরূপ এবং নাগরিকদের নৈতিক ক্ষমতার উৎস। কিন্তু গণতন্ত্র অর্থপূর্ণ হয় শুধু সৃজনশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্পর্শে। সৃজনশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মোহনী পরশেই গণতন্ত্রের ধারায় সমাজজীবনের উপত্যকা প্লাবিত হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে উর্বর।

ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য জটিল সংকট সৃষ্টি হতে পারে দ্বিবিধ কারণে। এক. বিশ শতকের পরিবেশ এবং প্রতিবেশে বেড়ে ওঠা রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম না-ও হতে পারে। ইরাজিম কোহাকের (Erazim Kohak)কথায়, ‘সেনানায়করা যে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁর জন্যই প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং রাজনৈতিক নেতারাও দুর্ভাগ্যক্রমে বিগত প্রজন্মের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হন।’ যেসব সমস্যা পূর্বদিগন্তে সবেমাত্র উঁকি দিতে শুরু করেছে, সে সম্পর্কে তাঁরা মোটেই সজাগ নন। ওই সব সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁদের বিন্দুমাত্র প্রস্তুতিও নেই। ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন ‘অপ্রীতিকর’ সিদ্ধান্তের ওপর, যার সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতার কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ শতকের শেষ পর্যায়ে স্নায়ুযুদ্ধোত্তর বিশ্বের রাজনৈতিক নেতারা এমন পরিবেশে কাজ করেছেন, যেখানে শত্রুর ওপর বিজয় অর্জনই ছিল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতাদের এমন পরিবেশে কাজ করতে হবে, যেখানে বন্ধুত্ব স্থাপনই হয়ে উঠবে প্রধান গন্তব্য। রক্তসিক্ত মাঠে শত্রু নিধনের পরিবর্তে তাদের শস্য শ্যামল মাঠে নতুন নতুন বন্ধু সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হবে। ফলে কোনো কোনো সমাজে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বের বেশির ভাগ সমাজে দেখা দেবে এক ধরনের ‘প্রশিক্ষিত অযোগ্যতা’ (trained incompetence)| শুধু সৃষ্টিশীল, অগ্রগামী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষেই সম্ভব হবে সেই প্রশিক্ষিত অযোগ্যতার কবল থেকে মুক্তি লাভ।

দুই.

একুশ শতকব্যাপী, এর প্রথম ভাগ তো বটেই, গণতন্ত্রের ঘনিষ্ঠ সহচর ও সহযাত্রী থাকবে অবাধ ও মুক্তবাজার অর্থনীতি। গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় সমার্থক। কিন্তু গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির মৌল লক্ষ্য, গতি-প্রকৃতি, লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। গণতন্ত্রে জোর দেওয়া হয় সমাজে মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর। কিন্তু বাজার অর্থনীতি কাজ করে মানবের জন্য সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে। গণতন্ত্রের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও গণ-অধিকার সংরক্ষণকে মহামূল্যবান মনে করা হয়। বাজার অর্থনীতির ক্ষেত্রে কিন্তু চূড়ান্ত লক্ষ হিসেবে গৃহীত হয়েছে বৈভব, প্রভাব ও আধিপত্য অর্জন; তা এ দেশে হোক অথবা এ দেশ-বিদেশ মিলিয়েই হোক। গণতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় প্রকাশ্যে এবং বহু বিতর্কের পর, সরবে। অর্থনীতি ক্ষেত্রের সিদ্ধান্তে দেখা যায় একধরনের গোপনীয়তা, কিছুটা কূটনৈতিক ধূম্রজালের কুয়াশা। বেশ কিছুদিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত সমগ্র বিষয়টি সবার কাছে সুস্পষ্ট হয় না।

গণতন্ত্রের প্রধান আবেদন হলো সামাজিক সমস্যার সমাধান ক্ষেত্রে ‘আমরা’ বা ‘আমাদের’ মতো ব্যাপকভিত্তিক প্রতীক। কিন্তু বাজার অর্থনীতির সাফল্যের মূলে বারি সিঞ্চন করে খানিকটা ‘আমি’ বা ‘আমিত্বের’ দৃষ্টিভঙ্গি এবং গণতন্ত্রের জন্য এটা মোটেই উপযোগী নয়। এসব সমস্যা রাজনৈতিক নেতৃত্ব সঠিকভাবে অনুধাবনে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্র লাভ করবে না তার কাঙ্ক্ষিত উচ্চতা, এমনকি অনিশ্চয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতার চোরাবালিতে গণতন্ত্র নিক্ষিপ্ত হতে পারে। উন্নয়নশীল বিশ্বে এ সম্ভাবনা প্রচুর। কেননা জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রস্তুতি অপ্রতুল। অর্থনৈতিক দুর্দশা সীমাহীন, কিন্তু রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও ‘মোটিভেশন’ অত্যন্ত সীমিত। এসব সমাজে গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতি দুই-ই নতুন। দুটির একটিও যুগোত্তীর্ণ হয়নি। সীমিত অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে গণতন্ত্র এসব সমাজে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়েছে। অর্থনীতি কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়নি। তাই সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ, বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস। বাজার অর্থনীতি একবার প্রাণবন্ত হলে জনগণ, বিশেষ করে রাজনৈতিক দিক থেকে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ (politically relevant), বাজার অর্থনীতির আনুগত্য স্বীকারেই অধিক আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। একুশ শতকে গণতন্ত্রের জন্য শঙ্কার হেতু এখানেই। দলীয় নেতৃত্বের জাতীয় নেতৃত্বে উত্তরণ না ঘটলে এ শঙ্কা থেকেই যায়।

এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত—এ বিষয়ে চিন্তাবিদদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হওয়া উচিত। উন্নত বিশ্বের গণতান্ত্রিক সমাজের কথা অবশ্য স্বতন্ত্র। এসব সমাজে বাজার অর্থনীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ও সেবা রাজনৈতিক নেতৃত্বই জনসমষ্টির মধ্যে সুবিন্যস্ত করে গণতন্ত্র ও মুক্ত অর্থনীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে। উন্নয়নশীল বিশ্বের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ সমাপ্ত করেনি। বিরোধিতা এখনো তাদের কাছে অসহ্য। রাজনৈতিক নেতারা তাঁদের প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে অভ্যস্ত এবং শত্রুদলনে এঁদের জুড়ি নেই। তাঁরা যা বোঝেন তা-ই সঠিক। ব্যক্তিগত বুদ্ধি দ্বারাই তাঁরা পরিচালিত। সমষ্টিগত প্রজ্ঞার আলোর কোনো প্রভাব তাঁদের ওপর পড়েনি। জনসাধারণের কথা বলে তাঁরা ক্ষমতায় আসেন বটে; কিন্তু তাঁদের কাজকর্মে সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটে না। দলীয় নেতা থেকে জাতীয় নেতার স্তরে উত্তরণের কোনো প্রয়াস তাঁদের নেই। তাই জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে দলীয় স্বার্থকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে তাঁরা দ্বিধান্বিত নন। ফ্রান্সের সম্রাট চতুর্দশ লুইয়ের মতো শুধু তাঁরা মুখে বলেন না বটে, কিন্তু মনে মনে বিশ্বাস করেন তাঁরাই ‘রাষ্ট্র’। বর্তমানের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য অতীত ইতিহাসের ছেঁড়া পাতায় তাঁরা মুখ ঢাকেন। জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও কাজকর্মে প্রতিনিয়ত জাতিকে বিভক্ত রাখার প্রয়াসে তাঁরা লিপ্ত এ জন্য যে জাতি বহুধাবিভক্ত থাকলেই তাঁদের ক্ষমতার ভিত স্থায়িত্ব লাভ করবে। কাজ করার পরিবর্তে বিতর্কিত বক্তব্য স্থাপনকে তাঁরা অধিক কাম্য মনে করেন। তাই বাচালতাই হয়ে ওঠে তাঁদের মূলধন।

আইনের শাসনের কথা সহস্রবার উচ্চারণ করেও ব্যক্তিগত প্রভাবকে মুখ্য জ্ঞান করেন তাঁরা। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কিছুসংখ্যক সবজান্তার মাধ্যমে। জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে দলীয় স্বার্থে, কোনো কোনো সময় ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের অভ্যন্তরের এবং বাইরের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। এ অবস্থায় আর যা-ই হোক, ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের গতিধারা প্রাণবন্ত হবে না, যদিও গণতন্ত্রের আবেদন বর্তমানে হয়ে উঠেছে বিশ্বজনীন।

তাই বলি, একুশ শতকে গণতন্ত্রের সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নতুনভাবে সুসজ্জিত হতে হবে। নতুন ভাষায় রাজনৈতিক নেতাদের কথা বলতে শিখতে হবে। অতীত থেকে ফিরে এসে বর্তমানকে মুখ্য জ্ঞান করতে হবে এবং ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্নে বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে হবে। পুরনো দিনের ভাব-ভাষা-চিন্তাভাবনা ঝেড়ে-মুছে নতুন দিনের জটিলতা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বাজার অর্থনীতির কার্যকারিতার জটিল জালে গণতন্ত্রের প্রবাহ যেন আটকে না যায়, হাজারো অনিশ্চয়তার মধ্যে গণতন্ত্রের গতিশীলতা যেন স্থবির না হয়, বিশেষ করে বাজার অর্থনীতির অর্জিত প্রভাব, বৈভব যেন জনগণের করায়ত্ত হয়, সে কৌশল আয়ত্তে আনা প্রয়োজন। গণতন্ত্রের মূল নিহিত রয়েছে জোর প্রয়োগে নয়, বরং শান্তিপূর্ণভাবে জনস্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা মূল্যবোধে সংকট সমাধানের উদ্যোগে গভীর বিশ্বাসে। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র হলো আলোচনা-পর্যালোচনা। এ জন্য প্রয়োজন হয় অনুধাবনের এমন এক কাঠামো, যেখানে নেতারা শুনবেন, অনুভব করবেন এবং সাধারণ সাংস্কৃতিক কর্মের প্রতি অনুগত থাকবেন। এক অর্থে গণতন্ত্রে নেই কোনো শাসন, নেই কোনো শাসক। গণতন্ত্রে বিদ্যমান থাকে বিভিন্ন স্তর ও শ্রেণির মধ্যে যৌক্তিকতাপূর্ণ যোগাযোগ। এই যোগাযোগের মাধ্যমে কার্যকর থাকে সমস্যা সমাধানকল্পে প্রশাসন এবং তার আইনের শাসনের কাঠামো। নেতা নন কোনো প্রবল পরাক্রমশালী ভয়ংকর শক্তিশালী ব্যক্তি। তিনি হলেন সমস্যাপীড়িত জনতার মধ্যে তাঁদের মুখপাত্র, যুক্তিবাদী, প্রাজ্ঞ যোগাযোগকারী, যুক্তিবাদিতার প্রতিনিধি। নেতৃত্বের এমন রূপান্তর না ঘটলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। বাজার অর্থনীতির রয়েছে নিজস্ব গতি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রধান ভূমিকা এ ক্ষেত্রে সে গতিকে জনকল্যাণের পথে প্রযুক্ত করা।

গণতন্ত্রের রয়েছে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এক আবেদন। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবদান হলো, সে আবেদনকে সমাজজীবনে প্রতিফলিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা। বাজার অর্থনীতি অগ্রগতি লাভ করে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সমাজ এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু গণতন্ত্র অর্থপূর্ণ হয় বৈষম্যের মধ্যেও সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের চিরন্তন আবেদন সৃষ্টি করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয় ব্যক্তিগত অথবা গ্রুপ পর্যায়ে মুনাফা অর্জনের জন্য বাঁধভাঙা জোয়ারের শক্তি। কিন্তু গণতন্ত্রের শ্রীবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হয় সমষ্টিগত প্রজ্ঞা বা সমাজে ধীরে ধীরে উন্নত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির আবহ সৃষ্টি করা। এসব কারণে বলা যায়, সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া গণতন্ত্রের আকাশ কুয়াশামুক্ত হয় না। প্রয়োজন হয় সজ্ঞান ও সচেতন রাজনৈতিক নেতৃত্বের। এ নেতৃত্বের পথ আমাদের সমাজে প্রশস্ত হোক।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত