কী অবস্থা নির্বাচনী মাঠের

সারা দেশ নির্বাচনী প্রচারে উত্তাল। এর উত্তাপ ছড়াচ্ছে চারদিকে, এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল সব রাজনৈতিক দলের সমঝোতার মধ্যে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। কথিত মূল বিরোধী দল অর্থাৎ বিএনপি ড. কামাল হোসেনসহ সংলাপে বসেছিল ক্ষমতাসীন দল অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে। ফলাফল মোটা দাগে ইতিবাচক।

বিএনপি, ঐক্যফ্রন্টসহ অন্য দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় কিছু বাদ-প্রতিবাদের মধ্যেও নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্যস্ত সময় কাটাতে থাকে নির্বাচন কমিশন। সবার প্রত্যাশা, এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে। দৈনিক পত্রিকাগুলোর লেখালেখিতে এমন আভাস ফুটে উঠতে থাকে।

কিন্তু এহো বাহ্য। নির্বাচনী ব্যবস্থায় সত্যিই কি আগপাছ বিচারে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির পরিবেশ বিরাজ করেছে। বিরাজ করেছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে? যাকে বলে রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা, সুষুম, সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব? মনে হয় না। দুই পক্ষের মধ্যেই মানসিক সহিষ্ণুতার অভাব। অভাব সহযোগিতার। জয়ের জন্য দুই পক্ষই মরিয়া।

তাই রাজনৈতিক কলাকৌশল ব্যবহার চলছে উভয় পক্ষেই। ক্রমাগত দাবি উচ্চারিত হচ্ছে বিরোধী পক্ষ থেকে, ক্ষমতাসীন দল কর্ণপাত করছে না। যদিও নির্বাচন পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্বে নির্বাচন কমিশন, তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তাতেও তারা কর্ণপাত করছে না। অভিযোগ উঠছে তারা সরকারি দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পন্ন করছে। অভিযোগ নানা পক্ষের।

তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় নির্বাচন কমিশন। তারা রীতিমতো একধরনের আত্মতৃপ্তির ভাব নিয়ে তাদের কাজ করে যাচ্ছে। কারো কোনো কথাই কানে তুলছে না। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং বলে যে কথাগুলো বারবার লেখায়, কথায়, বিবৃতিতে, প্রতিবাদে উচ্চারিত হচ্ছে, তা নানাজনের লেখায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। ঘটনাক্রমে অসহিষ্ণু ও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এমন মতামত প্রকাশ করছেন যে বহিরাঙ্গে যেমনই দেখা যাক কর্মকাণ্ডের ভেতরের অবস্থা ভিন্ন। সেখানকার কিছু অভিমত মোটেই সুব্যবস্থার পক্ষে যায় না। সেখানে মোদ্দা কথা নির্বাচনের মাঠ অসমতল। তা যদি সত্যি হয়, তাহলে ‘লেভেল প্লেয়িং’ কিভাবে সম্পন্ন হবে?

এ আলোচনাসভার মর্মার্থে এমন বক্তব্যও রয়েছে যে ইসির নিরপেক্ষতা প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে একজন বক্তার মন্তব্য : ‘নির্বাচনে কে জিতবে তা সবাই জানে। বিরোধী দল থেকে যা বলা হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’ বুঝতে অসুবিধা নেই এ বক্তব্যের সারাৎসার।

তাই দেখা যাচ্ছে নির্বাচনঘটিত সূচনাপর্বের আকাঙ্ক্ষিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সুবাতাস মনে হয় একটু একটু করে মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে, পক্ষে-বিপক্ষের লেখালেখিতে তেমনই আভাস-ইঙ্গিত। তা না হলে নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেনের বরাতে এমন কথা লেখা হবে কেন : ‘জনগণ সারিতে দাঁড়িয়ে ভোট দেবে, কিন্তু ফল গণনার সময় তাদের রায় পাল্টে যাবে না তার নিশ্চয়তা কী?’

এমন এক অবিশ্বাস ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে নির্বাচন নিয়ে, দিন থেকে দিন যত পার হচ্ছে ততই সংশয়-আশঙ্কা বাড়ছে। বাড়ছে অবাধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে। কারো মুখে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, ‘শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে তো?’ এমন আশঙ্কার কী অর্থ, কী তাৎপর্য? বুঝতে পারা যাচ্ছে, ভোটের বিষয়টি কেন জানি সহজ স্বচ্ছন্দ অবস্থায় নেই।

প্রশ্ন উঠেছে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়েও। প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভোট-পরিবেশে নিরাপত্তার সামান্য মাত্রায় অভাব থাকলে দুঃসাহসী ছাড়া অনেকেই ভোট দিতে যাবে না। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের আদর্শিক চরিত্র ক্ষুণ্ন হবে। নির্বাচন তখন আর পুরোপুরি অংশগ্রহণমূলক হবে না। এ উপলক্ষে যে দাবি বারবার বিভিন্ন মহল থেকে উচ্চারিত হয়েছে তা হলো, নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে, নিরাপদ করতে সেনাবাহিনী নিয়োগ দরকার।

নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতিমনস্ক মানুষের সংশয়, আশঙ্কা, ভীতি যে একেবারে অমূলক নয়, তার প্রমাণ এরই মধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে—তাই সংশয়ও বাড়ছে ক্রমান্বয়ে, সেই সঙ্গে বাড়ছে ভয়ভীতিও। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঠে থাকা সত্ত্বেও এর মধ্যে ঘটে গেল অবাঞ্ছিত ঘটনা। এ সুযোগ দৈনিকপত্র ছাড়বে কেন?

একটি দৈনিকের প্রথম পাতায় মোটা হরফে কথিত লিড নিউজ—‘প্রচারের শুরুতেই ঝরল রক্ত’। আমরা শঙ্কিত, বিচলিত। কোথায় শান্তি? শান্তির বদলে উত্তাপ-উত্তেজনাই বড় হয়ে উঠেছে। সংবাদে প্রকাশ (১২.১২.২০১৮) শুরুতেই ‘১৮ জেলায় সংঘাত, প্রচারে বাধা। নোয়াখালীতে গুলিতে যুবলীগ নেতা ও ফরিদপুরে সংঘর্ষে আ. লীগ নেতা নিহত। ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা।’

শেষোক্ত সংবাদটি একাধিক দৈনিকে মোটা হরফে গুরুত্বের সঙ্গে ছাপা হয়েছে। অন্যদিকে খবর শিরোনাম—পূর্বোক্ত হত্যা উপলক্ষে : ‘বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করল আওয়ামী লীগ’। আরো খবর জেলায় জেলায় চলছে, বিএনপির নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনা। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে : এটা কি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার নমুনা?

আর এ কারণেই একটি দৈনিকে দেখা যাচ্ছে পর পর দুদিন সম্পাদকীয় প্রতিবেদন—‘নির্বাচনী প্রচারে উত্তাপ উত্তেজনা’/‘কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন’। কোথায় নির্বাচনী পরিবেশ হবে সুস্থ প্রতিযোগিতার তৎপরতায় উৎসবমুখর, পরিবর্তে সেখানে দেখা যাচ্ছে চরম অসহিষ্ণুতা, ঝরছে রক্ত, চলছে সংঘাত।

দ্বিতীয় সম্পাদকীয়টির শিরোনাম : ‘সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ’/‘সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো সতর্ক হতে হবে’। প্রশ্ন হচ্ছে, এ দেশের রাজনীতি ক্ষেত্রে সতর্ক হতে বললেই সংশ্লিষ্ট পক্ষ সতর্ক হয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে? কিংবা সংঘাত পরিহার করে শান্তিপূর্ণ রাজনীতির পরিবেশ রক্ষা করতে বললেই কি উন্মাদনাপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী শান্তশিষ্টভাবে নির্বাচনী প্রচার চালায়? উত্তেজনা-উন্মাদনা কড়া ঝালমুড়ির মতো সুস্বাদু।

দুই.

আগেই বলেছি, বাংলাদেশের রাজনীতির অভিধানে ‘সহিষ্ণুতা’ শব্দটি অনুপস্থিত বলা যেতে পারে, অন্যথায় ঘাটতি তো বটেই। যাদের কাছ থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পাঠ গ্রহণ এবং প্রয়োগ, তাদের আচরণবিধি থেকে আমরা উদাহরণ নিই না। জয়-পরাজয় নিয়ে তো বটেই। পরাজয় মেনে নিতে আমাদের বড় অনীহা, সে ক্ষেত্রে বরং সহিংসতার প্রতি অনুরাগ। অন্যদিকে বিজয়ীর আচরণেও রাজনৈতিক সদাচার বা বিনয় সব সময় প্রকাশ পায় না। বরং একধরনের ঔদ্ধত্য বা উচ্চম্মন্যতার প্রকাশ, কখনো তা দেখা যায় বিজয়ের আনন্দ মিছিল থেকে। আপাতত নির্বাচন বিচ্ছিন্ন অসহিষ্ণু রাজনীতির কথা না হয় বাদই দিচ্ছি। নির্বাচন উপলক্ষেই বোধ হয় সর্বাধিক অবাঞ্ছিত ঘটনার প্রকাশ।

তাই আমাদের ভাবনা, এ রক্তঝরা অশুভ কোনো সম্ভাবনার অশনিসংকেত নয়তো? তাই চিকিৎসার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (প্রিভেনটিভ), এ সত্যটি মনে রেখে অশুভ কিছু ঘটার আগেই নির্বাচন কমিশন, বিশেষভাবে সিইসির উচিত হবে কঠোর-প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর তাতে আগে যেমন বলা হয়েছে সবচেয়ে কার্যকর, নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেন এ কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এর আগে আমরা লক্ষ করেছি, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার কিছুটা দোদুল্যমানতা। হঠাৎ করে তিনি নির্বাচনে ‘তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্রের’ আশঙ্কা করে তেমন কোনো সম্ভাবনা আছে কি না তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষভাবে গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। তৃতীয় শক্তি বলতে তিনি কাদের বোঝাতে চেয়েছেন তা খুব স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে না বললেও যা বলেছেন তাতে নির্বাচনবিরোধী সহিংসতার বিষয়টি সামনে আসে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি হুমকি বা হামলা, নারীদের প্রতি অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি। এককথায় নির্বাচন বানচাল বা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আশঙ্কাই প্রসঙ্গত প্রধান হয়ে উঠেছে। এসব তো বরাবরের ঘটনা। সমাজচরিত্র দূষণমুক্ত করার স্থায়ী চেষ্টা না থাকলে দূষিত সমাজে সাম্প্রদায়িকতাসহ একাধিক সমস্যা দেখা দেওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ সময় ছাড়া এসব বিষয়ে আমাদের রাজনীতি ও সমাজ বরাবরই উদাসীন।

যাহোক, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার উদ্দেশ্য নিয়ে সেনাবাহিনী নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। ভোটার যাতে নির্ভয়চিত্তে তার ভোট ইচ্ছামতো যে কাউকে দিতে পারে এখন এটাই সবার প্রত্যাশা। উল্লেখ্য, একটি দৈনিকে প্রথম পাতার সংবাদ-শিরোনাম: ‘গ্রেপ্তারি ক্ষমতা নিয়েই নামছে সেনাবাহিনী’। কিন্তু শুধু সহিংসতাই নয়, নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার নিয়েও নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরূপ সতর্কতা থাকা দরকার।

এটা শুধু আজকের সমস্যা নয়, তবে এখন এ ঘটনার বাড়বৃদ্ধি ঘটেছে এই যা। এদিকে মনোযোগ বড় একটা দেওয়া হয় না। একটি দৈনিকের চমকার সংবাদ শিরোনাম : ‘উড়ছে টাকা, হারছে রাজনীতি’। এটা অবশ্য ব্যবসায়ীকুলের জাতীয় সংসদের রাজনৈতিক প্রাধান্য সৃষ্টি নিয়েই মূলত কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্য অবশ্য একই। এ বিষয়ে আমরা এর আগে একটি নিবন্ধে বিশদ আলোচনা করেছি। বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর।

কিন্তু বড় সমস্যা হলো রাজনৈতিক দলের আচরণে যেমন সহিষ্ণুতার অভাব, উগ্রতার প্রভাব, তেমনি নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে সুস্থ পরিবেশ রক্ষায় কঠোরতার অভাব। ফখরুলের পর ড. কামালের গাড়িবহরে হামলা, অন্যদিকে প্রশ্নের জবাবে ড. কামালের নমনীয়তার অভাব—সব মিলে নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক নয়। একে অবাধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বলে না।

মনে হচ্ছে নির্বাচন-পূর্ব দিনগুলোতে অবস্থার ক্রমেই অবনতি ঘটবে, তা যে মাত্রায়ই হোক। আশঙ্কা সম্ভাব্য উগ্র সহিংসতার প্রকাশ নিয়ে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাইছে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। চাইলে কি সব মেলে?

আর সুষ্ঠু নির্বাচনের সব দায় যেহেতু প্রধানত নির্বাচন কমিশনের, তাদের কঠোর নিরপেক্ষ তৎপরতা সবচেয়ে বেশি কাম্য। সেই সঙ্গে দায়িত্ব নির্বাচনকালীন সরকারেরও। তাদের দলের নির্বাচনী অবস্থান ভালো বিধায় তাদের দিক থেকে সহিষ্ণু আচরণ অধিক কাম্য।

সবশেষে একটি কথা, বিএনপির আসন বণ্টনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে জামায়াতের সংখ্যাধিক্য—এমন তথ্য একটি দৈনিকে, তা যদি ঠিক হয়, আদর্শিক বিচারে ড. কামাল হোসেন তা মেনে নিচ্ছেন কেন? এটা তো তাঁর গণফোরাম রাজনীতির সঙ্গেও মেলে না। জামায়াত তো নির্বাচনে অবাঞ্ছিত।

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী

প্রিয় পাঠক, আপনার মূল্যবান শেয়ার / মতামতের এর জন্য ধন্যবাদ।

পাঠকের মতামত