Dec 20, 2018 / 07:30pm

সংসদীয় রাজনীতিতে ব্যবসায়ী প্রাধান্য কাম্য নয়

আহমদ রফিক

কিছুদিন থেকে আমাদের পত্রপত্রিকাগুলোতে বাংলাদেশি সমাজে ধন সঞ্চয় ও তার নীতিগত দিক নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন এবং উপসম্পাদকীয় রচনাদি প্রকাশিত হচ্ছে। লিখছেন বিশিষ্টজনরা। এত দিন আমরা ধনী ও ধনিক শ্রেণি নিয়েই যত আলোচনা করেছি। এখন একটি নতুন শব্দ বেরিয়ে এসেছে—‘অতি ধনী’। বিদেশি হিসাবের ধারায় বলা যেত মিলিয়নেয়ারের বদলে ‘মাল্টিবিলিয়নেয়ার’, টাকায় হিসাব মেলাতে গেলে হিমশিম খেতে হবে। বাংলাদেশ এখন একটি অতি স্ফীতির অর্থনৈতিক স্তরে উন্নীত।

অবস্থাটা যদি দেশের সব শ্রেণিজুড়ে, সর্বস্তরে প্রসারিত হতো, তাহলে খুবই খুশি হওয়া যেত। দেশের সার্বিক উন্নতি গর্ব ও অহংকারের কারণ হয়ে দাঁড়াত। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের যে এই আয়স্ফীতি সমাজের অতি ক্ষুদ্র একাংশে সীমাবদ্ধ। মার্কিন তরুণদের ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনের হিসাবে বলতে হয় ১ শতাংশ বনাম ৯৯ শতাংশের লড়াই বৈষম্য প্রবল। তাদের মতে ৯৯ শতাংশের প্রাপ্য ১ শতাংশের ঘরে জমা হয়েছে এবং হচ্ছে। কাজেই ওই অতি ধনীদের তৎপরতার কেন্দ্রস্থল ‘ওয়াল স্ট্রিট’ দখল করতে হবে। কাজটা তো খুব কঠিন।

আবেগে উত্তেজনায় তরুণদের ওই স্লোগানের টানে আন্দোলন খুবই জমে উঠেছিল। ছড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কোনো পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে ঝাঁঁকুনি দিয়ে গেছে মানুষের মনে। মূলত প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় ধারার নেতৃত্বের অভাবে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে অবশেষে স্তব্ধ।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিচারে মধ্যম আয়ের দেশ না হয়েও অতি ক্ষুদ্র অতি ধনিক শ্রেণির জন্ম দিয়েছে তাদের কথিত সুশাসনে। একসময় আমরা পাকিস্তানি ২২ পরিবার (বাণিজ্যিক) নিয়ে সমালোচনায় মুখর ছিলাম। এখন আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিবারকেন্দ্রিক পরিচয় ওই পাকিস্তানি ধারাই অনুসরণ করছে বলে মনে হয় অথবা অধিকতর স্ফীতি এই বাংলায়। অবশ্য এরই মধ্যে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা দিয়ে অনেক পানি গড়িয়ে গেছে, দুর্নীতি সমাজে চরম পর্যায়ে গিয়ে স্থিতিশীল। অথচ আমরা নির্বিকার।

দুই.

এই প্রশ্নবিদ্ধ স্ফীতির দুর্ভাগ্যজনক দিক এর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। এ কথা বড় নির্মম সত্য যে রাজনৈতিক প্রশ্রয় ব্যতিরেক বাদে আর্থ-সামাজিক দুর্নীতির জন্ম ও বৃদ্ধি এবং অতি বৃদ্ধি সম্ভব নয়। কঠিন সুশাসন ব্যক্তিক-প্রাতিষ্ঠানিক- পারিবারিক অর্থনীতির দূষণের মুখ বন্ধ করে রাখে, এর বিপরীত ধারা বিপরীত পরিণাম তৈরি করে। আবারও বলি, এসবের মূলে সার্বিক স্তরে দুর্নীতির বিস্তার। ভারত-পাকিস্তান ব্যতিক্রম নয়।

এ ধারার বিস্তার বাংলাদেশে অভাবিত মাত্রায় বেড়েছে বলে বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি অনেক দিন আগে তাঁর স্বভাবসুলভ তির্যক মন্তব্যে বলেছিলেন যে জাতীয় সংসদ ব্যবসায়ীকুলের আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা সুস্থ লক্ষণ নয়। তাঁর এই মন্তব্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্নের কোনো অবকাশ নেই। বরং আমার এক লেখায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম তাঁর ওই অপ্রিয় সত্য ভাষণের জন্য।

কিন্তু এ সতর্কবাণী সত্ত্বেও পূর্বোক্ত প্রবণতার পরিবর্তন ঘটেনি। অবশ্য এ ব্যাপারে একাদশ জাতীয় সংসদের অবস্থাটি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আপাতত প্রথম বনাম দশম জাতীয় সংসদের তুলনামূলক বিচারে দেখা যাচ্ছে যে সংসদে আইনজীবীর সংখ্যা কমে ৩১ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিক্ষকদের অবস্থান আরো করুণ, ১২ থেকে ২ শতাংশে স্থিত। আর ব্যবসায়ীর সংখ্যা ওই একই হিসাবে ১৮ থেকে ৫৯ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

হিসাবটা আর্থ-সামাজিক বিচারে ভয়াবহ। তবে এ ভয়াবহতার সঠিক মাত্রার হদিস মিলবে ব্যবসায়ীকুলের প্রশ্নবিদ্ধ আয় বৃদ্ধির সঠিক হিসাব প্রকাশিত হলে। এতে এনবিআরে কর রাজস্বের পরিমাণ অনেক অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। কর বৃদ্ধির জন্য তাদের ‘আয়, কর আয়’ বলে মেলা বসাতে হতো না। সুনীতির পথে তাদের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেত। অবশ্য মেলা বসানোর সিদ্ধান্ত যে ইতিবাচক, তাতে সন্দেহের কারণ নেই।

বৃহৎ ব্যবসায়ীদের ও শিল্পপতিদের অংশবিশেষের কর ফাঁকির বিষয়টি বহু আলোচিত। বোধগম্য কারণে এ বিষয়ে সরকারপক্ষে কঠিন নীতি গ্রহণ করা হয় না। এটা চিরাচরিত ঘটনা।

প্রশ্ন উঠতে পারে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার দেশের প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে এবং তা সংবিধানসম্মত অধিকার। এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তবু জাতীয় স্বার্থে, রাজনৈতিক স্বার্থে এবং নৈতিকতার বিচারে ওই অধিকারের বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য।

সমাজটি যদি পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত হতো, সে ক্ষেত্রে প্রশ্নটি বিবেচনায় নেওয়া যেত। তা সত্ত্বেও প্রশ্ন যে আইন প্রণয়নকারী জাতীয় সংসদে যদি ব্যবসায়ীকুলের প্রাধান্য থাকে, তাহলে দু-একজন ব্যতিক্রমী বাদে ব্যবসায়ীরা সংসদে তাঁদের শ্রেণিস্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন। আইন তাঁদের অর্থনৈতিক সুবিধার অনুকূলে প্রণীত হবে। এর প্রভাব পড়বে রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্ম খাতে।

তিন.

সচেতন বা অসচেতন, যেভাবেই হোক সংসদীয় রাজনীতির অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বর্তমান অবস্থার তুলনায় আলোচ্য বিষয়ে বিপরীত চিত্রই চোখে পড়বে। সে হিসেবে দেখা যায় প্রথমত রাজনীতিক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষিত শ্রেণির প্রাধান্য—যেখানে প্রধানত আইনজীবীদের বিপুল সংখ্যাধিক্য, এরপর শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণির নাগরিক। শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা সেখানে হাতে গোনা অথবা অনুপস্থিত।

যুক্তবঙ্গে হক-সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশিম বা তমিজউদ্দীন-নাজিমউদ্দিনদের পাশাপাশি ক্বচিৎ এক-আধজন ইস্পাহানিকে দেখা গেছে রাজনীতিতে অংশ নিতে, তা-ও বিশেষ কারণে, বিশেষ অবস্থায়। প্রাদেশিক পরিষদেও একই অবস্থা। অবশ্য সেকালে সামন্ত শ্রেণি থেকে কাউকে কাউকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিয়ে বা না নিয়ে আইনসভায় আসীন হতে দেখা গেছে।

আইনসভায় রাজনীতিকরাই বেশির ভাগ আসন দখল করে থেকেছেন। তাঁদের বেশির ভাগই আবার আইনজীবী, আইনজ্ঞ, কিয়দংশ ভিন্ন পেশার নাগরিক। এ ব্যবস্থায় রাজনীতিও আইন পরিষদীয় ক্ষেত্রে পুরোপুরি আদর্শ পরিস্থিতি সৃষ্টি না করলেও তা অনেকাংশে ভিন্নধর্মী ছিল বর্তমান সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে। দুর্নীতির দিকটি ছিল অতি সীমিত চরিত্রের। টাটা, বিড়লা, ডালমিয়া, গোয়েংকা বা ইস্পাহানি, আদমজী, রুস্তমজী বা বাওয়ানিরা আইন পরিষদে অংশগ্রহণ না করেও তাদের স্বার্থরক্ষা করতে পেরেছে।

অভাবিত ও বিস্ময়কর ঘটনা হলো উপনিবেশবাদী বিদেশি শাসনের স্বার্থপরতা ও অপগুণ অবসানের পর পরিস্থিতির প্রত্যাশিত উন্নতির বদলে ক্রমান্বয়ে ধীরেসুস্থে অবনতির পথ ধরে ভারতে, পাকিস্তানে। দুর্নীতির ক্রমবিকাশ ও ক্রমবিস্তার। তবু ভারতে সংসদীয় রাজনীতি ও আইনসভার একাংশে দুর্নীতিরোধের চেষ্টা চলেছে। আর পাকিস্তানের একটি দুষ্ট প্রবণতা হয়ে দাঁড়ায় সামরিক শাসন। এরই মধ্যে যত দিন গেছে, অবস্থার অবনতিই দৃশ্যমান হয়েছে অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিচারে। তবু উপমহাদেশ ত্রিধাবিভক্ত হওয়ার পরও রাজনীতিতে ও আইনসভায় পূর্বোক্ত বৈশিষ্ট্য চিহ্নিতদেরই প্রাধান্য ছিল, বৃহৎ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের নয়। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রও ব্যতিক্রম ছিল না।

কিন্তু রাজনৈতিক আদর্শের ক্রমাবনতির সঙ্গে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে ক্রমান্বয়ে। পাকিস্তানি ধারায় এখানেও সামরিক শাসন এবং সামরিক শক্তি প্রভাবিত স্বৈরাচারী শাসনে দুর্নীতির মাত্রা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এবং তা সমাজ ও রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রে। কারণ উভয় ক্ষেত্রে পরিস্থিতির শুদ্ধতা ও সুস্থ অবস্থা রক্ষিত হয়নি।

পরিবর্তনটি ক্রমান্বয়ী ধারাবাহিকতায় অবনতির দিকে। এর প্রমাণ মেলে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে দশম সংসদ পর্যন্ত পরিবর্তনের যে পরিসংখ্যান এর আগে তুলে ধরা হয়েছে, তা থেকে। মাঝেমধ্যে উচ্চারিত সতর্কবাণী সত্ত্বেও অবস্থার উন্নতি দূরে থাক, বরং অবনতিই ঘটেছে। উন্নতির পক্ষে কোনো চেষ্টা না থাকার কারণে।

চার.

দীর্ঘ প্রেক্ষাপট বিবেচনার পর মূল বিষয় ব্যাখ্যায় দেখা যাচ্ছে জাতীয় রাজনীতি, সংসদীয় রাজনীতি ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানগত অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং তা অবিশ্বাস্য মাত্রায়। বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ সদস্য পদপ্রত্যাশীদের প্রকাশিত বিত্ত-সম্পদের পর্বতপ্রমাণ উচ্চতা থেকে তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজনীতি ও মুনাফাবাজি একাকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপথ্যে দুর্নীতি।

আমরা দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ শিরোনাম, সংবাদ বা প্রতিবেদন তুলে ধরছি বিত্ত-সম্পদের পূর্বোক্ত বিষয়টি পাঠকের প্রত্যয়গ্রাহ্য করে তুলতে। একটি দৈনিকে প্রকাশিত শিরোনাম ১০ বছরে অস্থাবর সম্পদ ৪৫ গুণ বেড়েছে। এই শিরোনামের সঙ্গে এ সম্পর্কে সংযোজিত সংবাদ ২০০৮ সালের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি, পরের নির্বাচনে ছিল বিবিএতে অধ্যয়নরত। এবার হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা। ৭ ডিসেম্বরে (২০১৮) প্রকাশিত এ সংবাদ বিচারে কেউ হয়তো বলতে পারেন, বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও এর ইতিবাচক দিক শিক্ষাগত উন্নতি।

আরেকটি দৈনিকপত্রে প্রকাশিত সংবাদ : ‘আয় বেড়েছে, লোকসানি ব্যবসাও এখন লাভে।’/ ‘১০ মন্ত্রীর হলফনামা।’ একই পৃষ্ঠায় ছোট এক কলামের তির্যক শিরোনাম ‘…সম্পদ নিয়তিনির্ভর’। প্রসঙ্গত, বরাবরের একটি তথ্য—পদাধিকারীদের তুলনায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁদের স্ত্রীদের অর্থনৈতিক উন্নতির অনেক বাড়বাড়ন্ত। অথচ তাঁদের অনেকে খুব উঁচুমাত্রার তেমন কিছু করেন না।

অন্য একটি অনুরূপ সংবাদ : ‘পাঁচ বছরে কোটিপতি এমপি…’। অঙ্কটা হলো ‘১০ লাখ থেকে দুই কোটি’। এই ধারায় আরেকটি দৈনিকের সংবাদ : ‘মন্ত্রী-এমপিদের স্ত্রী-সন্তানের সম্পদ ও আয় বেশি’। উদাহরণ না বাড়িয়ে এ সম্পর্কে একটি চমকপদ রাবীন্দ্রিক স্টাইলের শিরোনাম উদ্ধৃত করে আলোচনা শেষ করা যাক : “তুমি কেমন করে ‘ধন’ কর হে গুণী”। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

হয়তো এমন কিছু ভবিষ্যৎ দর্শন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি পূর্বোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন। দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিও ব্যবসামুখী। রাজনীতির আদর্শ কি এমন শিক্ষা দেয়। তবু বাংলাদেশে সংসদীয় রাজনীতির ভিন্নমুখী যাত্রা যে শ্রেণিবৈষম্য ক্রমেই বাড়িয়ে তুলবে, তাতে সন্দেহ নেই।

অতি ধনী বিষয়ক পূর্বোক্ত গানের কলিটি সম্পর্কে ওই ধারায় বলা যেতে পারত, ‘আমরা অবাক হয়ে হিসেব গুনি’। কিন্তু না, আমরা হিসাব-নিকাশ করি না, প্রতিবাদ করি না। বাংলাদেশ তার নির্দিষ্ট শ্রেণি সমৃদ্ধির পথ ধরেই চলছে। সর্বজনীন স্বার্থের পথ ধরে নয়।

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী

কমেছে ওমানি রিয়াল রেট

817740

একলাফে বেড়ে গেলো সৌদি রিয়াল রেট

817737

কলসি ভর্তি সোনার আশায় শেষ ২০ লাখ টাকা

ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বক্তব্য না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।