লকডাউন দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কানাডায় করোনা

প্রকাশিত: জানু ১৯, ২০২১ / ১০:২৩অপরাহ্ণ
লকডাউন দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কানাডায় করোনা

কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ অন্টারিও, ব্রিটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা এবং কুইবেকে নাটকীয়ভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর করোনাভা’ইরাসে আ’ক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ব্যাপকহারে চাপ পড়ছে।

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ সরকারি বিভিন্ন বিধিনিষেধ দেয়া সত্ত্বেও করোনাভা’ইরাস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কানাডায় কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। ধারণা করা হচ্ছে জানুয়ারিতেই কোভিডে মৃ’ত্যু বিশ হাজারে পৌঁছতে পারে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ কানাডায় যেভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে হাজার হাজার নতুন সংক্রমণ এবং হাজার হাজার অতিরিক্ত মৃ’ত্যুর পূর্বাভাস আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কানাডার পাবলিক হেলথ এজেন্সি (পিএইচএসি) দ্বারা প্রকাশিত নতুন মডেলিং থেকে জানা যায়, জনগণ যদি বাহিরের মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় তাহলে সংক্রমণের সংখ্যা ট্রিপলের চেয়ে বেড়ে দৈনিক ৩০ হাজারের বেশিও হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, কানাডিয়ানরা যদি কেবলমাত্র তাদের বাড়ির বাইরের লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগের বর্তমান স্তরটি বজায় রাখে, সেক্ষেত্রে সংক্রমণের সংখ্যা এখন দৈনিক ৭ হাজার ৯শ’ থেকে বেড়ে প্রায় দৈনিক ১৩ হাজার হয়ে যাবে।

মডেলাররা আরও বলে যে, বর্তমান শনাক্ত গণনার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, কানাডা করোনাভা’ইরাসের বিষয়ে ”খুব দ্রুত বৃদ্ধির গতিতে রয়েছে’।

টরন্টো মেয়র বলেন, আমি চাই বিগ-বক্স স্টোরসহ আরও ব্যবসা বন্ধ থাক, যাতে মানুষ বাইরে বেরোনোর কারণ কম দেখাতে পারে। বসন্তে অনেক কিছুই বন্ধ ছিল এবং আমরা তার ভালো ফল পেয়েছিলাম।

সংক্রমণ রোধে কুইবেকের মতো কারফিউ জারির পক্ষে মেয়র বা শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কেউই মত দেননি। ডা. এইলিন দ্য ভিলা বলেন, সংক্রমণ রোধে কারফিউ কার্যকর কিনা তার সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে নেই।

তবে কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ার পর কর্মীদের আইসোলেশনের সময়টুকুতেও বেতন দেয়া গেলে তাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে।

উল্লেখ্য, কানাডায় আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনাভা’ইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ১৫ হাজার ৭২ জন, মৃ’ত্যুবরণ করেছেন ১৮ হাজার ১২০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার ৩৩ জন।

অন্যদিকে দেশটির সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুততম সময়ে কীভাবে নাগরিকদের টিকার আওতায় আনা যায়, তার ওপর জোর গুরুত্বারোপ করছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন