৪ তলার বেশি ভব নয়, নারায়ণগঞ্জবাসী ফুঁসে উঠেছেন

প্রকাশিত: জানু ১৭, ২০২১ / ০৭:১০অপরাহ্ণ
৪ তলার বেশি ভব নয়, নারায়ণগঞ্জবাসী ফুঁসে উঠেছেন

দেশের শীর্ষ রাজস্ব প্রদানকারী জেলা হলেও নারায়ণগঞ্জে বহুতল ভবন নির্মাণে নতুন প্রস্তাবনা দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ড্যাপের নতুন প্রস্তাবনা অনুসারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ তলার বেশি বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না বলে জানা গেছে।

তবে রাজউকের নতুন এ প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জের আবাসন ব্যবসায়ী ও নগরবাসী। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এ প্রস্তাবের বিপক্ষে রাজউককে চিঠি দিয়েছে। ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ তিন থেকে ছয়তলা নির্ধারণ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দেওয়া প্রস্তাবকে বাস্তবসম্মত নয় বলছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (এনসিসি)।

তারা বলছে, প্রস্তাবিত ড্যাপ অনুযায়ী ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করলে নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ব্যাহত হবে।

সর্বোচ্চ চারতলা এবং বিশেষ শর্তে সর্বোচ্চ ছয়তলা করার রাজউকের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছে নারায়ণগঞ্জ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন।

তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচির প্রথমদিনে নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনারে গণস্বাক্ষর নেয়া হয়। পাশাপাশি চলে প্রতিবাদ সমাবেশ। এ নতুন প্রস্তাবনার বিরোধিতা করে চলমান আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরাও।

এদিকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন রোববার শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড়ে বন্দর প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গণস্বাক্ষর ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় ভবনের উচ্চতা ৩-৪ তলা ও বিশেষ শর্তে ৫-৬ তলা পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

এর বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে। এ প্রস্তাব উন্নয়নবিমুখ করার প্রস্তাব। এ প্রস্তাব সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হলে সাধারণ মানুষ তার আবাসনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

পাশাপাশি একটি শহরের ব্যবসায়িক উন্নয়ন কাজও বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে আবাসন ব্যবসায়ীরাও এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। নামমাত্র গণশুনানির আয়োজন করে এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে রাজউক।

এ ব্যাপারে সংগঠনের সভাপতি নাসির হায়দার চৌধুরী বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাতে রাজউকের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারেন সেজন্য গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

এই কর্মসূচি আরও তিনদিন চলবে। রোববার বন্দর প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে, সোমবার শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় এবং মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় এ গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচি চলবে বলে জানান নাসির হায়দার।

রাজউক আওতাধীন এলাকাগুলোকে বিভিন্ন ব্লকে ভাগ করে ব্লকের জনসংখ্যার ধারণক্ষমতা, সড়ক অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা এবং উন্নয়নের ধরনের উপর ভিত্তি করে ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় সর্বোচ্চ ছয়তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে রাজউক।

এ প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে নগরীর উন্নয়ন ব্যাহত হবে উল্লেখ করে গত ১ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবুল আমিন রাজউককে চিঠি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে সেখানে বহুতল ভবন বিদ্যমান।

অথচ রাজউকের প্রস্তাবিত ড্যাপে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ ছয়তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ হলে তা ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে প্রভাব ফেলবে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি বলেন, এ সিদ্ধান্ত গণবিরোধী।

যেখানে উন্নত দেশগুলো একের পর এক বাণিজ্যিক এবং আবাসিক সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করছে সেখানে রাজউক এমন হঠকারী প্রস্তাব দিয়ে শুধু দেশের আবাসন খাতই নয়, সাধারণ ভূমি মালিকদের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে।

এতে করে বাণিজ্যনগরী নারায়ণগঞ্জের আবাসন খাত ধ্বংস হবে। যেখানে শহরে ২২ তলা ভবন রয়েছে, সেখানে কী করে শুধু ৪ বা ৬ তলা ভবন অনুমোদনের প্রস্তাব করে রাজউক। এ প্রস্তাব নারায়ণগঞ্জবাসী মানবে না।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে সব জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে এ গণবিরোধী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চাই।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন