কে নেবে নবজাতকটির দায়িত্ব?

প্রকাশিত: জানু ১৪, ২০২১ / ০৮:৩০অপরাহ্ণ
কে নেবে নবজাতকটির দায়িত্ব?

পটুয়াখালীতে পুত্রসন্তান জন্মের ৮ দিনের মাথায় মারা গেছেন মা। আর এ খবর পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন শিশুটির বাবাও। নবজাতক ওই শিশুটির দায়িত্ব এখন কে নেবে?
বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী নাদিয়া আক্তার কলি বেগমের (২০) মৃত্যুর খবর শুনে স্বামী মোস্তফা আকন (২৭) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ ঘটনায় ওই দম্পতির গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমেছে।

ওই দম্পতির বাড়ি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম বাঁশবুনিয়া গ্রামে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জানাজা শেষে ওই দম্পতির লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, মোস্তফা আকন পটুয়াখালী শহরের ফজিলাতুননেছা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে খণ্ডকালীন ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

প্রায় ৬ বছর পূর্বে মোস্তফা আকনের সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকায় মৃত মকবুল হোসেনের মেয়ে নাদিয়া আক্তার কলির বিয়ে হয়। গত ৮ জানুয়ারি পটুয়াখালী শহরের মায়ো ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে নাদিয়া পুত্রসন্তান জন্ম দেন।

বুধবার রাতে স্ত্রী নাদিয়া আক্তার কলি অসুস্থ হলে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী মোস্তফা আকন স্ত্রীর জন্য হাসপাতালের সামনের দোকানে ওষুধ কিনতে যান। এ সময় মোবাইল ফোনে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে নবজাতক শিশুটি পরিবারের জিম্মায় আছে। তবে বাবা ও মা একসঙ্গে মারা যাওয়ায় অসহায় ওই শিশুটির দেখভাল কে করবেন- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লতিফা জান্নাতি বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।

‘অসহায় ওই শিশুটির দায়িত্ব কে নেবে’- এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, বর্তমানে শিশুটি পরিবারের জিম্মায় আছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। শিশুটির বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন