নৌকা ভাসছে গণজোয়ারে, ধানের শীষ আড়ালে

প্রকাশিত: জানু ১২, ২০২১ / ১০:২৪অপরাহ্ণ
নৌকা ভাসছে গণজোয়ারে, ধানের শীষ আড়ালে

আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভা নির্বাচন। শেষ দিকে জোরেশোরে চলছে প্রচার প্রচারণা। নির্বাচন কেন্দ্র মেয়র, সাধারণ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে অবিরত দিয়ে যাচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

সেই সাথে প্রচার প্রচারণা, সভা সমাবেশ নিয়মিত করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। পৌর শহরজুড়ে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার। মাইকিং আর প্রচারণায় ভোটের বাজার উত্তাল হয়ে উঠেছে।

দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে মনোহরদী পৌর শহর। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন ভোটাররা। ভোটকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

বর্তমান মেয়র ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রচারণায় ভোট প্রার্থনা করছেন। দিন-রাত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক আর সভা-সমাবেশ মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকা। স্থানীয় আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতারাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট চাইছেন। সেই সাথে পৌর শহরের উন্নয়নে এক জোট হয়ে শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রকাশ্যে ভোট চাচ্ছেন নৌকার পক্ষে।

এ সময় তারা তুলে ধরছেন মনোহরদী পৌরসভার গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের চিত্র। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা নেত্রীরাও তাদের কর্মীদের নিয়ে ছুটছে ভোটারদের কাছে। ইসলামী আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রচারণার মাঠে রয়েছেন।

অপরদিকে গোপনে চলছে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হকের পক্ষে প্রকাশ্যে কোন প্রচার প্রচারণা কিংবা গণসংযোগ নেই বললেই চলে। উপজেলা পর্যায়ের কোন নেতৃবৃন্দকে প্রচার কার্যক্রমে এখনো পর্যন্ত কোন দেখা যায়নি।

এ যেন ফাঁকা মাঠেই গোল দিতে নেমেছে আওয়ামীলীগ। চায়ের দোকান, আড্ডা, আলোচনায় একটাই প্রশ্ন বিএনপির প্রচুর ভোট থাকা সত্বেও প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরা মাঠে নেই কেন। সচেতন মহলের দাবি দলীয় কোন্দলের কারণে তারা এক হয়ে মাঠে নামতে পারেনি।

পোস্টার, মাইকিং, গণসংযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, উঠান বৈঠকসহ সব ক্ষেত্রেই নৌকার প্রচার চোখে পড়ার মতো। মনোহরদী পৌর নির্বাচনকে ঘিরে অনুসন্ধান এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন এ চিত্র উঠে এসেছে।

হাররদিয়া এলাকার ডলার আহমেদ নামে এক ভোটার বলেন, ‘বর্তমান মেয়রের সময়ে পৌরসভায় যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। তাই উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে নৌকার জোয়ার উঠেছে ভোটারদের মাঝে। পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিব।’

মনোহরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মু. ফজলুল হক বলেন, ‘নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গত পৌর নির্বাচনে সর্ব কনিষ্ট মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল।

বিগত পাঁচ বছরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পৌর এলাকায় রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সার্বিকভাবে যে উন্নয়ন করেছে তাতে পৌরবাসী নৌকায় মার্কায় ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে একটি আধুনিক পৌরসভা বিনির্মাণে আমিনুর রশিদ সুজনের বিকল্প নেই।’

ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক বলেন, ‘নিরবে ভোট প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ভোটের মাঠ ভালো রয়েছে। জনগণও ভোটের অপেক্ষায় আছে। ধানের শীষেরই বিজয় হবে।’

নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে নাগরিক সেবাসহ যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তাতে আমি আশা করি দ্বিতীয়বারের মতো পৌরবাসী আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

মানুষের মনে যে আস্থা অর্জন করেছি, তাতে গতবারের তুলনায় বিপুল ভোট পাব, ইনশাআল্লাহ। বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে মনোহরদী পৌরসভাকে আধুনিক এবং একটা শান্তির শহর গড়ে তোলা হবে।’

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, ‘মনোহরদী পৌরসভা নির্বাচনটি ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। সোমবার থেকে ভোট গ্রহণ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে প্রত্যেক কেন্দ্রে কেন্দ্রে মগ ভোটিংয়ের মাধ্যমে সব ভোটারদের ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি শেখানো হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য সার্বিক কার্যক্রম চলমান আছে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন