পদ্মা সেতু নিয়ে নৌ সেক্টর চ্যালেঞ্জে

প্রকাশিত: জানু ১১, ২০২১ / ১১:২৪অপরাহ্ণ
পদ্মা সেতু নিয়ে নৌ সেক্টর চ্যালেঞ্জে

দেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণাধীন অবকাঠামো পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যানটি বসানো হয়েছে সম্প্রতি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের বহুল প্রত্যাশিত সেতুটির ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার মূল কাঠামো পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে।

এখন সড়ক ও রেলের স্ল্যাব বসানোর কাজ চলছে। স্বপ্নের এ সেতুর কারণে উচ্ছ্বসিত দক্ষিণাঞ্চল তথা বরিশালের মানুষ। বিশেষ করে সড়ক পথকে ঘিরে নানান জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে সাধারণ মানুষসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

এদিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নৌ সেক্টর। বরিশালের লঞ্চ কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতার ডামাডোল। যাত্রী ধরে রাখার এ প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিয়ে তৈরি হচ্ছে আধুনিক লঞ্চ-স্টিমার। এ লঞ্চগুলো নির্মিত হচ্ছে বরিশালের ডকইয়ার্ডেই। তবে এতকিছুর মধ্যেও সেবার মানে আধুনিকতা আনার অঙ্গীকার থাকা উচিত মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যাত্রীসেবার মাধ্যমে যাত্রীদের ধরে রাখতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন নৌযান মালিকরা। তাইতো কীর্তনখোলা নদীর তীরে দেশীয় প্রযুক্তিতে চলছে সুন্দরবন-১৮ লঞ্চের নির্মাণ কাজ।

৩০০ ফুট লম্বা এবং ৫২ ফুট চওড়া লঞ্চটিতে বিভিন্ন ধরনের কেবিন ছাড়াও যাত্রীসেবায় অনেক কিছুই সংযোজন করা হবে। আগামী বছর ঈদে লঞ্চটি যাত্রীবহনে যুক্ত হবে।

সুরভী-৭ লঞ্চেও নতুন ডেকোরেশনে লিফট লাগানো হয়েছে। কেবিন থেকে শুরু করে সব কিছুতেই আনা হচ্ছে আধুনিকতা। চলন্ত সিঁড়ি, এটিএম বুথ, হেলিপ্যাড, সুইমিং পুলসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে লঞ্চগুলোতে।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালের ৪টি ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে সুন্দরবন কোম্পানির ৮, সুরভীর ৪, কীর্তনখোলা ও অ্যাডভেঞ্চার কোম্পানির দুটি করে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল লঞ্চ। এগুলোতে রয়েছে লিফট, আইসিইউ, ডাইনিং, শিশুদের খেলার জোন, রেস্টুরেন্ট, ব্রেস্টফিডিং রুম এবং ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। লঞ্চ চালনায়ও আনা হয়েছে ডিজিটাল যন্ত্র।

নির্মাণাধীন লঞ্চগুলোতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে বলে জানান লঞ্চ মালিক রেজিন উল কবির। তিনি আরও বলেন, লঞ্চগুলো অত্যাধুনিক করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। শুধু তাই নয়, যাত্রীদের সঙ্গেও সম্পর্ক বাড়াতে সেবার মান বাড়ানো হচ্ছে।

বরিশাল জনস্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মানওয়ারুল ইসলাম অলি বলেন, শুধু আধুনিকতার প্রতিযোগিতা না করে, সেবার মান বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি যাত্রী ভাড়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

বাংলাদেশ নৌপরিবহন (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, বরিশাল চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সবার আগে যাত্রীসেবার কথা চিন্তা করে আমরা কাজ করছি।

সারা বছর যাতে নির্বিঘ্নে লঞ্চ চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। যেন নাব্য সংকটের কারণে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে রাডারসহ নানা অত্যাধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার করছি আমরা। পদ্মা সেতু হলেও বরিশালের আরামপ্রিয় মানুষ নৌযানে যাত্রা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বরিশালের যাত্রীবাহী পরিবহনের চালক-মালিকরা বলছেন, পদ্মা সেতু এখন পুরোটাই দৃশ্যমান। আর এরই মধ্য দিয়ে সেতুর বেশিরভাগ কাজও শেষ হয়েছে। এখন যে কাজ তা দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাবে।

পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হলে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও ভোলা থেকে ঢাকায় যেতে সময় কমে যাবে প্রায় দেড় থেকে ২ ঘণ্টা। আর যাত্রীসেবার মানও বাড়বে কয়েকগুণ।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, এখন প্রতিযোগিতার মার্কেট চলছে। পদ্মা সেতু হলে এখানে অত্যাধুনিক বাস আসবে। মাত্র সাড়ে ৩-৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ হবে।

সেক্ষেত্রে নৌ সেক্টর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তাই যাত্রীদের ধরে রাখতে তাদের নতুন নতুন প্যাকেজ দিতে হবে। লঞ্চ মালিকদের নতুন করে ভাবতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করবে জেলা প্রশাসন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন