চার গ্রামের মানুষ ৫০ বছরের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেল

প্রকাশিত: জানু ৭, ২০২১ / ১১:১৩অপরাহ্ণ
চার গ্রামের মানুষ ৫০ বছরের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেল

প্রায় ৫০ বছরের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেল বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগীসহ চার গ্রামের মানুষ। এখন জলোচ্ছ্বাসে আর তলিয়ে যাবে না ঘরবাড়ি, ফসলে মাঠ, পুকুর, মাছের ঘের।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বলেশ্বর নদের তীর রক্ষায় দেড় কিলোমিটার রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার নির্মিত রিং বেড়িবাঁধ আনুষ্ঠানিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী।

বরিশাল শেখ হাসিনা সেনানিবাসের ২৮ পদাতিক বিগ্রেডের কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী আনিসুজ্জামান পিএসসি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রকৌশলী মো. হাসান ইমামের কাছে নির্মিত বাঁধ বুঝিয়ে দেন।

এ সময় বাঁধের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খুরশিদ আনোয়ার, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শাহিনুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাফিন মাহমুদ, শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত,

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা উপস্থিত ছিলেন। হস্তান্তর শেষে তারা নির্মিত বাঁধ পরিদর্শন করেন।

এর আগে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রণে ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ পরিবারের হাতে ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৮ টাকার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বাঁধসংলগ্ন এলাকার হতদরিদ্র চার শ’ মানুষকে কম্বল বিতরণ করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২০২০ সালের ১৬ জুন সাউথখালী ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত বগী থেকে গাবতলা পর্যন্ত ১৭ শ’ মিটার রিং বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আট কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে স্থানীয় ঠিকাদারদের মাধ্যমে সাত মাসে কাজ সম্পন্ন করা হয়।

ভাঙনের শিকার বগী গ্রামের আব্দুল আলী (৯০) ও মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী (৬৫) প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শত শত একর জমি, বলেশ্বরে গিলে খেয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে আমরা এই দুর্ভোগ বয়ে আসছি। সেনাবাহিনীর বেড়িবাঁধে আমরা অনেকটা রক্ষা পাবো।

সাউথখারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সেনাবাহিনী যে রিং বাঁধ নির্মাণ করেছে সেটি অস্থায়ী হলেও বগী, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া,

উত্তর সাউথখালীসহ চারটি গ্রামের মানুষকে সামান্য ঝড়-জলোচ্ছাসে আর ডুবে মরতে হবে না। এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ণবোর্ড জমি অধিগ্রহন করেছে। শিগগরিই স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু হবে এখানে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন