মার্কিন কংগ্রেস ভবনে সহিংসতার ঘটনায় বিশ্ব নেতাদের তীব্র নিন্দা

প্রকাশিত: জানু ৭, ২০২১ / ১২:৪৭অপরাহ্ণ
মার্কিন কংগ্রেস ভবনে সহিংসতার ঘটনায় বিশ্ব নেতাদের তীব্র নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপনসহ নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে।

মার্কিন কংগ্রেস ভবনে সংঘর্ষের পরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ‘কানাডার জনগণ গভীরভাবে চিন্তিত। জনগণের ইচ্ছাকে ছাপিয়ে সহিংসতায় কখনো সফলতা আসে না। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র অবশ্যই বহাল থাকবে।’

ট্রুডো আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী এবং আশা করি সবকিছুই দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং এই সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এটিকে, ‘আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং কংগ্রেসের সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পরিবর্তনের পদক্ষেপের’ নিন্দা জানিয়েছেন।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘ওয়াশিংটন ডিসিতে সহিংসতার খবর শুনে আমি ব্যথিত। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর অব্যাহত রাখতে হবে। বেআইনি প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটিকে বিকল হতে দেওয়া যায় না।’

সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং এখন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়া জরুরি।’

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-ইয়ভেস লি ড্রায়ান এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘এটা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস ট্রাম্প ও তাঁর ভক্তদের নির্বাচনী ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘ইতিহাস আজকের আক্রমণের ঘটনাকে মনে রাখবে।’ এ ঘটনা দেশের জন্য অসম্মান ও লজ্জাজনক বলে মনে করেন বারাক ওবামা। ওবামা আরো বলেন, ‘বৈধভাবে সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে ভিত্তিহীনভাবে মিথ্যা বলে যাওয়া বর্তমান প্রেসিডেন্টের উস্কানিতে এমন ঘটনা ঘটেছে।’

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে কিছু রাজনৈতিক নেতার বেপরোয়া আচরণ এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্য ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধার অভাবের কারণে আমি হতবাক হয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় পর দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ জানিয়েছে, কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

এর আগে জানা গিয়েছিল ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে এক নারী নিহত হন। পরে ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ পরিস্থিতি তৈরি হলে আহত আরো তিনজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭ জনকে কারফিউ ভঙ্গের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত নারী সাবেক সেনা সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ক্যাপিটল ভবনে প্রবেশ করার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত প্রথম নারী অ্যাশলি ব্যাবিট একজন সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য। তিনি স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা ছিলেন।

অ্যাশলি ব্যাবিট ওয়াশিংটন সময় গতকাল বুধবার দুপুর ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নিলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ওয়াশিংটন ডিসি মেয়রের সংবাদ সম্মেলন

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউজার ক্যপিটল হিলের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে একটি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। তিনি জানান হাউস রুমে অধিবেশন চলাকালে কয়েকজন সেখানে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়া নারী অনুপ্রবেশকারী ওই দলটির সদস্য ছিলেন।

ক্যাপিটলে অনুপ্রবেশকারী দলটিকে সাদা পোশাকের কয়েকজন কর্মকর্তা বাধা দেন এবং ওই কর্মকর্তাদের একজনের গুলিতে একজন নারী নিহত হন।

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র বাউজার জানান নিহত বাকি তিনজনের একজন নারী ও দুজন পুরুষ। এ ছাড়া মেট্রো পুলিশ বিভাগের অন্তত ১৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা যখন গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, সেই সময় স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা কংগ্রেস ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরের পরই যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে নাটকীয় দৃশ্যে দেখা যায়— শত শত বিক্ষোভকারী ভবনটিতে ঢুকে পড়ছে আর পুলিশ কংগ্রেস সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে।

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ ঘটনাকে ‘বিদ্রোহ’ বলে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় তাঁর সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করেন।

এই শোরগোলের মধ্যে বাইডেনের জয় অনুমোদন করার জন্য কংগ্রেসের দুই কক্ষ—হাউস অব রেপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি সভা ও সিনেটের যৌথ অধিবেশন সাময়িক স্থগিত করা হয়। পরে ক্যাপিটল ভবন নিরাপদ হওয়ায় স্থানীয় সময় রাত ৮টায় কংগ্রেস নেতারা যৌথ অধিবেশন আবার শুরু করেন। এ অধিবেশনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করবেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন