আশার আলো দেখাচ্ছে ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু’

প্রকাশিত: জানু ১, ২০২১ / ০৩:৪০অপরাহ্ণ
আশার আলো দেখাচ্ছে ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু’

নতুন বছরের শুরুতেই আশার আলো দেখাচ্ছে খাগড়াছড়ির রামগড়ে ফেনী নদীর উপর নির্মাণাধীন ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু’। ৫ জানুয়ারির মধ্যেই সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর স্বপ্নের সেতুটি উদ্বোধন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিট সুবিধা, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা ও আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৬ জুন খাগড়াছড়ির রামগড়ে ফেনী নদীর উপর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ

হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের

এপ্রিলে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা বিলম্বিত হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী এ মাসের ৫ তারিখের মধ্যে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এ সেতুর নির্মাণ কাজ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েস অ্যান্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তানিশ চন্দ্র আগারভাগ ইনপাকন প্রাইভেট লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ৮২ দশমিক ৫৭ কোটি রুপি ব্যয়ে রামগড়ের মহামুনিতে ২৮৬ একর জমির ওপর ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্থের দুই লেনের এক্সট্রা

ডোজড, ক্যাবল স্টেইড আরসিসি মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে। ১২টি পিলার সম্বলিত সেতুটির বাংলাদেশ অংশে রয়েছে আটটি ও ভারতের অংশে চারটি পিলার। এছাড়া ১১টি স্প্যানের মধ্যে বাংলাদেশ অংশে সাতটি ও ভারত অংশে রয়েছে চারটি। নদীর অংশে ৮০ মিটারের স্প্যান এবং নদীর দুই পাড়ের ৫০ মিটারের দুটিসহ মোট ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি স্প্যানই হচ্ছে মেইন স্প্যান।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে গেল ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট একনেক সভায় খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে হেয়াকে-বারৈয়ারহাট সড়কের জন্য ৮৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এ

প্রকল্পে সরকার দেবে ২৬৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং ভারতীয় ঋণ ৫৮১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এরই মধ্যে রামগড়-বারৈয়ারহাট সড়কে বেশ কয়েকটি দুই লেনের ব্রিজ নির্মাণাধীন রয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণের পর পরই শুরু হবে বহুল আকাঙ্ক্ষিত রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণের কাজ। এটি হবে দেশের ১৫তম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্থলবন্দর। এরই মধ্যে প্রায় ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চূড়ান্ত হয়েছে।

স্থলবন্দর নির্মিত হলে গতিশীল হবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। রামগড়ে স্থলবন্দর চালু হলে দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন,

কর্মসংস্থান বাড়বে। উন্মোচিত হবে অর্থনীতির নতুন দ্বার। রামগড় স্থলবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সেভেন সিস্টারখ্যাত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের গেটওয়ে হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রামগড় পৌরসভার মেয়র কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান রিপন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ দুই দেশের সীমান্তে বসবাসকারীদের জন্য আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে। দ্রুত স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ হলে বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন