৫২ শতাংশ পোশাক শ্রমিক জন্মনিরোধক বড়ি ব্যবহার করে

প্রকাশিত: নভে ২০, ২০২০ / ১১:৫০পূর্বাহ্ণ
৫২ শতাংশ পোশাক শ্রমিক জন্মনিরোধক বড়ি ব্যবহার করে

বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের ৫২ শতাংশই জন্মনিরোধক পিল বা বড়ি ব্যবহার করছেন। তাদের ৩০ শতাংশ জন্মনিরোধক ইনজেকশন ও ৯ শতাংশ নারী শ্রমিকের স্বামী কনডম ব্যবহার করেন। এছাড়া ৭ শতাংশ শ্রমিক “চিরাচরিত পদ্ধতি” যেমন ওয়িথড্রয়াল ও ক্যালেন্ডার পদ্ধতি ব্যবহার করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের পরিবার পরিকল্পনা ও মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধির ওপর সানেম এবং এমএফও’র জরিপে এসব তথ্য উঠে আসে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকেই সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ম্যাইক্রোফ্যাইনান্স অপরচুনিটিজ পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানায় সানেম।

বাংলাদেশের প্রধান পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে (ঢাকা সিটি, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম) কর্মরত আছেন এমন ৮৮৬ জন নারী পোশাক শ্রমিকদের একটি ‘পুল’ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এসব তথ্য, যাদের মধ্যে ৮৭৫ জনই জানিয়েছেন তারা এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে অস্বস্তি বোধ করছেন না। এ বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জরিপটি পরিচালিত হয়।

এতে বলা হয়, যেসব নারী পোশাক শ্রমিকদের জন্য পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টি প্রযোজ্য (যারা বিবাহিত, প্রজনন ক্ষমতার বয়সে রয়েছেন এবং যারা সন্তান জন্মদানে সমর্থ) তাদের মধ্যে থেকে ৭১ শতাংশ শ্রমিক তারা পরিবার পরিকল্পনার বিধি মেনে চলছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারী নারী পোশাক শ্রমিকগণ মাসিককালীন পরিচর্যায় পোশাক শ্রমিকদের ১৮ থেকে ৪০ বয়সীরা বিভিন্ন সহায়তা গ্রহণ করে থাকেন। এরমধ্যে পরিষ্কার কাপড় ৪৪ শতাংশ, স্যানিটারি প্যাড ৩৪ শতাংশ, গার্মেন্টসের কাপড় ৩ শতাংশ, টয়লেট টিস্যু ২ শতাংশ, অন্যান্য ২ শতাংশ, তুলা ১ শতাংশ এবং কিছুই ব্যবহার করেন না ৩ শতাংশ নারী শ্রমিক।

সানেম এবং এমএফও-র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপগুলো “গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ” শীর্ষক প্রকল্পের অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহ ও উৎপাদক দেশগুলোতে নিয়োজিত শ্রমিকদের শ্রম ঘন্টা, আয়, ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত, নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

এই প্রকল্প শুরু হয় ২০১৬ সালে, আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা মাইক্রোফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ এর উদ্যোগে, বাংলাদেশ, ভারত ও কম্বোডিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন