মির্জা ফখরুল ৭ নভেম্বর নিয়ে যা বললেন

প্রকাশিত: নভে ৭, ২০২০ / ০৬:৪৮অপরাহ্ণ
মির্জা ফখরুল ৭ নভেম্বর নিয়ে যা বললেন

সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যে জাতীয়-আন্তর্জাতিক কারণে ৩ নভেম্বরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়েছিল, সেই চ’ক্রা’ন্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে এদেশের দেশপ্রেমিক সিপাহী এবং জনগণ ৭ নভেম্বরে তাকে মুক্ত করে দেশে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতাকে সুসংহত করেন।

একইসঙ্গে গণতন্ত্রের যে পথ সেই পথের নতুন সুচনা করেন। প্রকৃত পক্ষে ৭ নভেম্বর থেকেই এদেশে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান।

শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ এর পূর্বে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, জনগণের অধিকারকে হরণ করা হয়েছিল।

আজকে আবার ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের জনগণের অধিকারকে হরণ করে, গণতন্ত্রকে ধ্বং’স করে দিয়ে আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে।

সেজন্য আজকে শপথ নিয়েছি যে, আমরা গণতন্ত্রকে উদ্ধার করব। মিথ্যা মা’মলায় সাজাপ্রাপ্ত দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং এই গণতন্ত্রের সংগ্রামকে অবশ্যই জয়ী করব।

সকাল ১১টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের প্রতিষ্ঠাতার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় নেতারা তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর দুপুরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, ছাত্রদল, তাঁতী দল,

মৎস্যজীবী দলসহ অঙ্গ-সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। এছাড়াও দলের প্রতিষ্ঠাতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নি’হ’ত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযু’দ্ধে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান হয়, জিয়াউর রহমান হন গৃহবন্দি।

৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জিয়াউর রহমান।

বিএনপি এই দিনকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, আওয়ামী লীগ মুক্তিযো’দ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস এবং জাসদ সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন