যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: বিশ্ব তাকিয়ে আছে ৫ রাজ্যের দিকে

প্রকাশিত: নভে ৪, ২০২০ / ০২:২০পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: বিশ্ব তাকিয়ে আছে ৫ রাজ্যের দিকে

আজ ভোট, আজই শেষ। এরপর শুরু হবে গণনা ও ফলাফলের জন্য অপেক্ষা। প্রশ্ন হচ্ছে, ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে। ৫০ রাজ্যের ভোট গুনতে কতক্ষণ লাগবে? আমেরিকানদের সঙ্গে তর সইছে না বিশ্ববাসীরও।

কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট? ট্রাম্পকে সরিয়ে বাইডেন হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা হচ্ছেন কী? নাকি ট্রাম্পই রয়ে যাচ্ছেন?

এমন সব প্রশ্নের জবাব পেতে ফলাফলের অপেক্ষা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তবে আপাতত সবার চোখ নির্বাচনের ফল নির্ধারণী ৫ রাজ্যের দিকে।

এই রাজ্যগুলো হলো – ফ্লোরিডা, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, ওহাইও, টেক্সাস আইওয়া ও নর্থ ক্যরোলাইনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচ রাজ্যে বাইডেনের সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোকে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য বলা হচ্ছে। আর নির্বাচনে জিততে হলে ট্রাম্পকে অবশ্যই এসব রাজ্য থেকে জয় পেতে হবে।

কিন্তু মঙ্গলবার রাতের মধ্যে এসব রাজ্যের সবগুলোতে ভোট গণনা শেষ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বরাবরের মতো এবারও ফ্লোরিডা রাজ্যের ভোটারদের চরিত্র একই দেখা যাচ্ছে। বিগত ২ নির্বাচনে মাত্র এক পয়েন্ট বা তারও কম ব্যবধানে এই রাজ্যে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে।

বেশ কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, এবারও গড়ে এক থেকে দুই পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন। তবুও গতবারের মতো স্বল্প ব্যবধানে ট্রাম্প জিতে যেতে পারেন বলে ধারণা অনেক বিশ্লেষকের। কারণ গত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেননি এই রাজ্যের লাতিন আমেরিকান ভোটাররা। বাইডেনের বেলায়ও এই দুর্ভাগ্য ঘটতে পারে বলে আশঙ্কায় ডেমোক্র্যাটরা।

যে কারণে ফ্লোরিডা নিয়ে বেশ চিন্তিত দুই প্রাথীই।

অ্যারিজোনা রাজ্যে হঠাৎ করে ট্রাম্পবিদ্বেষ বেড়েছে।

রিয়ালক্লিয়ার পলিটিক্সের জরিপ বলছে, অ্যারিজোনা রাজ্যে বাইডেনের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। অথচ সেপ্টেম্বরেও বাইডেনের চেয়ে ৫.৭ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন রিপাবলিকান ট্রাম্প। হঠাৎ করেই রাজ্যটিতে বাইডেনের জনপ্রিয়তা ভোগাচ্ছে রিপাবলিকানদের। ব্যাটলগ্রাউন্ডে পরিণত হওয়া রাজ্যটিতে ট্রাম্প হেরে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার জেতার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

জর্জিয়া রাজ্যতে জয়কে বিশাল ফ্যাক্টর হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী বিশ্লেষক বলছেন, এই রাজ্যে বাইডেনের দখলে গেলে দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দরজা হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। জরিপগুলো বলছে, রাজ্যটি ব্যাটল গ্রাউন্ড। দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুব সামান্য। ফলে এই রাজ্যেও দুই প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা সমান সমান। বুধবার সকালের মধ্যে রাজ্যের ফল দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট।

আরেকটি ব্যাটল গ্রাউন্ড নর্থ ক্যারালিনা। ২০১৬ সালের নির্বাচনে চার পয়েন্টরও কম ব্যবধানে এই রাজ্যে জয় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সমর্থনই এবার ট্রাম্পের কপালে জুটবে বলে ধারণা অনেকের।

তবে জরিপ বলেছে, এই রাজ্যে সমানে সমান লড়াই হবে। ফাইভথার্টিএইট জরিপ বলেছে, গড়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন।

রিয়ালক্লিয়ারপলিটিক্সের জরিপে ট্রাম্প ০ দশমিক ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। ৮০ শতাংশের আগাম পড়া রাজ্যটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোট গণনা চলছে। নির্বাচনের রাতেই ফল পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

পেনসিলভানিয়া জয়কে হোয়াইট হাউস দখলের সোপান বলা হচ্ছে। ৪তম প্রেসিডেন্ট হতে হলে ট্রাম্পকে অবশ্যই পেনসিলভানিয়ায় জয় পেতে হবে। আর এই রাজ্যে জয় নিয়েই সংকটে পড়েছেন ট্রাম্প। কারণ পেনসিলভানিয়া বাইডেনের জন্মভূমি। সে ক্ষেত্রে এবার পেনসিলভানিয়া হাতছাড়া হতে পারে ট্রাম্পের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জন্মভূমিতে যদি বাইডেন হেরে যান তবে অবশ্যই তাকে ওহাইও,জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইন এমনকি টেক্সাসেও জিততে হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন