সৌদি আরব নমনীয় হচ্ছে কাতার ইস্যুতে

প্রকাশিত: অক্টো ১৯, ২০২০ / ০২:১৮পূর্বাহ্ণ
সৌদি আরব নমনীয় হচ্ছে কাতার ইস্যুতে

বছর তিনেক আগে সৌদি আরবসহ চারটি আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্র প্রতিবেশী কাতারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করেছিল। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এর সঙ্গে বৈঠকের পর সেই অ’ব’রোধ তুলে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান।

২০১৭ সালে সৌদি আরব ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন এবং মিসর কাতারের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন নয় দেশটির ওপর জল, স্থল ও আকাশপথে অ’ব’রোধ আরোপ করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির আয়োজনে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটা সমাধান খোঁজার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা কাতারি ভাইদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। আশা করছি, তারাও আলোচনায় বসার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

যুবরাজ ফয়সাল আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের এই চার দেশের আইনসঙ্গত উদ্বেগের সমাধান করাটাও জরুরী। আমি মনে করি, অদূর ভবিষ্যতে সমাধানের পথও খোলা রয়েছে। আর যে কারণে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেই নিরাপত্তা উ’দ্বে’গের সমাধান খুঁজে পেলে তা হবে গোটা অঞ্চলটির জন্য সুসংবাদ।’

অবরোধ আরোপকারী দেশগুলো দোহার বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে মদদ’ ছাড়াও বছরের পর বছর ধরে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিল।

এ ছাড়া আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ারও অভিযোগও উঠেছিল দোহার বিরুদ্ধে। তবে কাতার তী’ব্র’ভাবে এসব অ’ভি’যোগ প্র’ত্যা’খান করে আসছে।

কাতারভিত্তিক সংবামাধ্যম আল-জাজিরা লিখেছে, এই অবরোধের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাগাদা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সবচেয়ে বড় প্র’তি’দ্ব’ন্দ্বী ইরানবি’রো’ধী জোট তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই চার দেশ আল-জাজিরা বন্ধ করে দেয়া, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন, ইরানের সাথে সম্পর্ক সীমাবদ্ধ করা এবং দেশটিতে মোতায়েন তুর্কি সেনাদের বহিষ্কার করার মতো শর্ত জুড়ে দেয়ায় কাতার তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এই বিরোধের অবসানে অতীতের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বলেছেন, কূটনৈতিক সংকট নিরসনে তার দেশ সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে সং’কটের যে কোনো সমাধানে অবশ্যই তার দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার ওপর জোর দিতে হবে।

চার উপ সাগরীয় রাষ্ট্র অ’ব’রোধ আরোপ করার পর তুরস্কের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক সর্ম্পক জোরদার করে কাতার। যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র কাতারের ওপর বিদ্যমান অ’ব’রোধ প্রত্যাহার করতে সৌদি আরবসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন এবং মিসরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সেই সূত্র ধরে কাতারে অ’ব’রোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা কাতার তার মিত্রদেশের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়ে ইরানকে প্র’তি’রোধে একযোগে এগিয়ে আসবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন