টিউশন ফি মওকুফের দাবিতে দিনভর বি’ক্ষোভ করল নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: অক্টো ১৮, ২০২০ / ০৮:৩৭অপরাহ্ণ
টিউশন ফি মওকুফের দাবিতে দিনভর বি’ক্ষোভ করল নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীরা

আসন্ন সেমিস্টারে ৩০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফসহ বেশকিছু দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে বি’ক্ষো’ভ করছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ৮ নম্বর ও ২ নম্বর গেটে অবস্থান নিয়ে বি’ক্ষো’ভ করছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টির দুটি গেটে অবস্থান করছিল।

আন্দোলনকারীদের দাবি, গত সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ক’রো’নার জন্য ২০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফ করেছিল নর্থ সাউথ। কিন্তু আসন্ন সেমিস্টারে কোনো ঘোষণা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ বেলা ১১টা থেকে বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, করোনাকালে তাদের পরিবার আর্থিক সং’ক’টে আছে। অনলাইনে ক্লাস করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ সুবিধাই তারা গ্রহণ করতে পারছে না। সেজন্য যেসব সুবিধা তারা গ্রহণ করেনি তার জন্য ফি দিতে রাজি নয় শিক্ষার্থীরা। এসব কারণে ৩০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফ চায় তারা।

যদিও শিক্ষার্থীদের এই বি’ক্ষো’ভ থামাতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ আজ দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়েছে। খুদে বার্তায়, শিক্ষার্থীদের ফিরে যাওয়ার অনুধোধ জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আগামী ২২ অক্টোবর সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

এরপর বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে এখন পর্যন্ত বি’ক্ষো’ভ চালিয়ে যাচ্ছে আ’ন্দো’লনরত শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান আজ সন্ধ্যায় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৩০ শতাংশ ফি কমানোর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

তাদের দাবি, তারা অনলাইনে ক্লাস করেছে। ফলে কোনো ধরনের সুযোগ তারা গ্রহণ করেনি। সেই দাবিতে ক্যাম্পাসের বাইরে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির সময় আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথাও বলেছি।’

ওসি মোক্তারুজ্জামান আরো বলেন, ‘করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব সুবিধা শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করেনি, তারা ওই সেবার বিনিময়ে ফি দিতে চায় না। যেমন তারা লাইব্রেরি ব্যবহার করেনি।

এ ছাড়া লেখাপড়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সামগ্রিক অ্যাকটিভিটিস এত দিনে তারা গ্রহণ করে আসছিল, গত তিন মাসে তারা গ্রহণ করেনি। ফলে তারা ৩০ শতাংশ ফি মওকুফের দাবিতে আন্দোলন করছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কোনো আশ্বাস দিয়েছে কি না-জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আ’ন্দো’লনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই ব্যাপারে বৈঠক করে আগামী ২২ অক্টোবর সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন