তৃতীয় দেশ হয়ে কুয়েতে প্রবেশ করছেন বাংলাদেশিরা

প্রকাশিত: অক্টো ১৬, ২০২০ / ০৯:৫৮অপরাহ্ণ
তৃতীয় দেশ হয়ে কুয়েতে প্রবেশ করছেন বাংলাদেশিরা

ক’রো’না’র কারণে চলতি বছরের ১৩ মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় কুয়েত। ক’রো’না’র কারণে ফ্লাইট ব’ন্ধ হওয়ার আগে ছুটিতে গিয়ে আটকেপড়া প্রবাসীরা পড়েছেন বিপাকে।

১ আগস্ট সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেয় কুয়েত। ক’রো’না পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিসর ও নেপালসহ বর্তমানে ৩৪ দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে নি’ষে’ধা’জ্ঞা জারি করেছে কুয়েত।

দীর্ঘদিন ছুটিতে দেশে থাকায় হ’তা’শ’গ্র’স্ত আর অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছে প্রবাসী পরিবারগুলো। ফ্লাইট চালুর আশার অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে অনেকেই হারিয়েছেন চাকরি। আবার অনেকের হারিয়েছে কুয়েতে প্রবেশে বৈ’ধ’তা আকামার মেয়াদ।

কুয়েতে থেকে ছুটিতে গিয়ে যেসব প্রবাসীর আকামার মেয়াদ রয়েছে তারা উপায় খুঁজছেন নিজ কর্মস্থলে ফিরতে। প্রবেশ নি’ষি’দ্ধ ৩৪ দেশ ব্যতীত অন্য যেকোনো দেশ হয়ে কুয়েত প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

তবে ওই দেশে ১৪ দিন থাকার পর পিসিআর সনদ নিয়ে কুয়েতে প্রবেশ করতে হবে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণ ভিসা সহজ হওয়াতে মিসর, ভারত, পাকিস্তানের নাগরিকরা সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে ১৪ দিন থাকার পর পিসিআর সনদ নিয়ে কুয়েতে প্রবেশ করছেন।

অন্য দেশের নাগরিকরা এক লাখ টাকার মধ্যে কুয়েতে প্রবেশে খরচ হলেও সেক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের খরচ হচ্ছে দুই লাখ থেকে তিন লাখ টাকার মতো।

ট্রাভেল এজেন্সিতে কন্ট্রাক করে ঝুঁ’কি নিয়ে এত টাকা দিয়ে যাদের খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন শুধু তারাই আসছেন।

৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের ভিজিট ভিসা নিয়ে আসা অনেক প্রবাসীকে যেতে দেয়া হয়নি। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বেশি টাকা নেয়ার কারণে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে দুবাইয়ের ভিসা ও টিকিট নিয়েছেন- কোনো ট্রাভেলস এজেন্সির সঙ্গে কন্ট্রাক করেননি, তাই তাদের যেতে দেয়া হচ্ছে না।

ভিজিট ভিসায় দুবাইয়ে অবস্থানরত এক প্রবাসী বলেন, ভারত, পাকিস্তান, মিসরের নাগরিকরা কম খরচে দুবাই হয়ে কুয়েতে প্রবেশ করছেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় না।

আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির লোক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা কামানোর নে’শা’য় মেতে উঠে। সিন্ডিকেটের বাহিরে কেউ যেতে চাইলে তাকে বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানির শি’কা’র হতে হয়।

দুবাই হয়ে কুয়েতে আসা মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার বলেন, দুবাই হয়ে কুয়েতে আসা আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য অন্য দেশের তুলনায় খরচ তুলনামূলক অনেক বেশি এবং যাত্রীদের ঝুঁ’কি নিতে হয়। দেশ থেকে আসতে পিসিআর সনদ নিতে হয়।

৩৪ দেশ ব্যতীত দুবাই বা অন্য যেকোনো দেশে ১৪ দিন থাকার পর সেই দেশ হতে পিসিআর সনদ নিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুয়েতে প্রবেশ করতে হয়।

এক্ষেত্রে কুয়েতে আসতে দুবাইয়ে ভিজিট ভিসার বিভিন্ন দেশের যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়াতে দুবাই থেকে কুয়েতের টিকিটের মূল্য অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

দুবাই-কুয়েত টিকিটের চাহিদা বেশি থাকার কারণে দেখা দিয়েছে টিকিট সং’ক’ট। ভিজিট ভিসায় যাত্রীদের যে ঝুঁ’কি সে বিষয়ে তিনি বলেন, দুবাইয়ে আসার পর যদি সে করোনা পজিটিভ হয় অথবা দুবাই এবং কুয়েত সরকার তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তের কারণে যদি কুয়েতে প্রবেশ করতে না পারে- এক্ষেত্রে ট্রাভেল এজেন্সি কোনো ধরনের দায়ভার বহন করে না।

এ সময় যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। দুবাই থেকে কুয়েতের ফ্লাইট মূল্য বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৬শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ দিনার। যেটা স্বাভাবিক মূল্য ছিল ৬০-১২০ দিনার। যার কারণে দুবাই ১৪ দিন থাকার পর পিসিআর সনদ নিয়ে ওমান ও কাতার ট্রানজিট হয়ে কুয়েতে প্রবেশ করছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন কুয়েত সফরে এসে কুয়েতের নতুন আমীর শেখ নওয়াব ও কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশের সঙ্গে কুয়েতে ফ্লাইট চালুর আহ্বান জানান।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন