মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলে দিতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে

প্রকাশিত: অক্টো ১৫, ২০২০ / ১১:৪৪অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলে দিতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার জন্য দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। অচিরেই দুই দেশের মধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ও কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।

এছাড়া কো’ভি’ড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলে আ’ট’কে’প’ড়া কর্মীদের দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ দেবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় জুম বৈঠকে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণসহ নানা বিষয়ে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানানের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের এই বৈঠক হয়।

দীর্ঘদিন ব’ন্ধ বাজারটি খুলে দেয়া ও ক’রো’না’কা’লে ছুটিতে আসা কর্মীদের দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে অ’নু’রোধ জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী। এ খবর নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান জনকণ্ঠকে বলেন, দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আলোচনায় স্থান পেয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্তকরণ, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনলাইন সিস্টেম চালু, কর্মী প্রেরণে রিক্রুটিং এজেন্টের সম্পৃক্ততা, পরবর্তী জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আয়োজন এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বাংলাদেশী কর্মীদের মালয়েশিয়ায় প্রত্যাগমন।

মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী অনেক বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। বাকি বিষয়গুলো দুই দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করবে। মালয়েশিয়ার দিক থেকে ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া গেছে।

বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার বিষয়ে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী তাঁর সম্মতি ব্যক্ত করেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় দুই মন্ত্রী একমত হন যে, সুষ্ঠু শ্রম অভিবাসনের স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্টের একটি তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। মালয়েশিয়া পক্ষ ওই তালিকা থেকে উপযুক্ত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচন করবে।

রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় ডাটাবেজ থেকে কর্মী সংগ্রহ, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ন্যায্য সার্ভিস মূল্য প্রদানসহ পুরো প্রক্রিয়া মনিটরিং করা হবে একটি সমন্বিত অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে। কর্মী রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও উভয় পক্ষ অভিমত ব্যক্ত করেছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের রিক্রুটমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ের বিষয়টি উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আটকেপড়া বাংলাদেশী কর্মীদের মালয়েশিয়া প্রত্যাগমনের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি সভায় আলোচনা করা হয়। মালয়েশিয়ার পক্ষে এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

এ সংক্রান্ত গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে পরবর্তীতে জানানো হবে বলে তাদের পক্ষ হতে আশ্বস্ত করা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশী কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে সে দেশের মানব সম্পদমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।

বৈঠক চলাকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিএমইটির মহাপরিচালক মোঃ শামসুল আলম, অতিরিক্ত সচিব বশির আহমেদ এবং কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম অংশ নিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ার পক্ষে সেদেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল দাতুক জামিল বিন রাকন, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এ. মানিয়াম, পলিসি ডিভিশনের আন্ডার-সেক্রেটারি ড. নুর মাজনি বিনতি আবদুল মাজিদ, ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশনের আন্ডার-সেক্রেটারি ড. জাকি বিন জাকারিয়া বৈঠকে অংশ নেন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন