ধ’র্ষ’ণের মা’ম’লায় সা’জা মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়াও দেওয়া যাবে : হাইকোর্ট

প্রকাশিত: অক্টো ১৫, ২০২০ / ০২:৪৭পূর্বাহ্ণ
ধ’র্ষ’ণের মা’ম’লায় সা’জা মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়াও দেওয়া যাবে : হাইকোর্ট

১৪ বছর আগে খুলনায় এক কিশোরীকে ধ’র্ষ’ণের অ’ভি’যোগের মামলায় আ’সা’মি ইব্রাহিম গাজীর যাবজ্জীবন সাজা বহাল রেখেছিলেন হাইকোর্ট। প্রায় সাড়ে সাত মাস পর আজ বুধবার সেই মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়েছে।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ‘শুধু ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়ায় ধ’র্ষ’ণ প্রমাণ হয়নি বা আপিলকারী ধ’র্ষ’ণ করেননি এই অ’জু’হাতে তিনি খালাস পেতে পারেন না।

ভি’ক’টিমের মৌখিক সাক্ষ্য ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য দ্বারা আ’সা’মির বি’রু’দ্ধে অ’ভি’যোগ প্রমাণিত হলে তার ভিত্তিতেই আ’সা’মিকে সাজা প্রদান করা যেতে পারে।

শুধু ডাক্তারি পরীক্ষা না করার কারণে প্রসিকিউশন পক্ষের মা’ম’লা অপ্রমাণিত বলে গণ্য হবে না। কেননা ধ’র্ষ’ণ মা’ম’লায় মেডিকেল রিপোর্ট মুখ্য নয়।’

বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। খুলনার ইব্রাহিম গাজীর যাবজ্জীবন কা’রা’দণ্ডের সাজা বহাল রেখে হাইকোর্ট গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রায় দিয়েছিলেন। আজ পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত ভি’ক’টিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে উল্লেখিত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

আদালতে আ’সা’মিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিনুল হক হেলাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা।

আদালতে আ’সা’মিপক্ষের যুক্তি ছিল, আদালতের আদেশ থাকার পরও প্রসিকিউশন ভি’ক’টিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করেনি। এ ছাড়া ভি’ক’টিম যাদের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী করেছিল তাদের কেউ আদালতে সাক্ষ্য দেয়নি। এ কারণে আ’সা’মি খালাস পাওয়ার অধিকারী।

এ প্রসঙ্গে রায়ে বলা হয়েছে, ‘২০০৬ সালের ১৫ এপ্রিল ঘটনা ঘটে। আর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ট্রাইব্যুনাল আদেশ দেন ওই বছরের ১৭ মে। অর্থাৎ ৩২ দিন পর।

যদি ভিকটিমকে ওই দিনই ডাক্তারি পরীক্ষা করাও হতো, তবুও দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা করার কারণে ধ’র্ষ’ণের কোনো আলামত না পাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। তবে শুধু ডাক্তারি পরীক্ষা না করার কারণে প্রসিকিউশন পক্ষের মা’ম’লা অপ্রমাণিত বলে গণ্য হবে না।’

খুলনার কালিকাবাটি জামে মসজিদে আল কুরআন পড়তে গিয়ে ২০০৬ সালের ১৫ এপ্রিল ধ’র্ষ’ণের শি’কা’র হয় এক কিশোরী। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হয়। পরে ১৭ এপ্রিল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মা’ম’লা’ নেয়নি।

এরপর ২৩ এপ্রিল আদালতে নালিশি মা’ম’লা করেন ভি’ক’টিমের বাবা। এরপর আদালত ওই বছরের ১৭ মে ‘ভি’ক’টিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে নির্দেশ দেন। ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আ’সা’মির বি’রু’দ্ধে গ্রে’প্তা’রি পরোয়ানা জারি করেন।

পরবর্তী সময়ে খুলনার নারী ও শিশু নি’র্যা’তন দমন ট্রাইব্যুনাল বিচার শেষে গত বছর ১৩ মার্চ এক রায়ে আ’সা’মিকে ‘যাব’জ্জীবন কা’রা’দ’ণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জ’রি’মানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের কা’রা’দণ্ড দেন।

এই রায়ের বি’রু’দ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন ইব্রাহিম কাজী। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁর আপিল খারিজ করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি আজ প্রকাশিত হয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন