মধ্যরাত থেকে ইলিশ শি’কা’র বন্ধ

প্রকাশিত: অক্টো ১৩, ২০২০ / ০৬:৪৭অপরাহ্ণ
মধ্যরাত থেকে ইলিশ শি’কা’র বন্ধ

ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে মা ইলিশ শি’কা’রে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। গভীর সমুদ্রে মাছ শিকাররত জেলেরা মঙ্গলবার মধ্যরাতের আগেই তীরে ফিরে আসছে।

মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরসহ সমুদ্র উপকুলের বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও নদনদীতে ট্রলার রেখে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে মৎস্য শি’কা’রিরা।

মৎস্য বিভাগের সময়োপযোগী এমন সিদ্ধান্তে বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন। বাড়ছে মৎস্য রফতানিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তবে প্রজনন মৌসুমে অবরোধকালীণ ইলিশ জেলেদের প্রণোদনা বাড়ানোর দাবী কুয়াকাটা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের।

মৌসুমের শুরু থেকে কুয়াকাটা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জালে ছিল ইলিশের আকাল। শেষ সময়ে এসে ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ। ঠিক এ সময়েই শুরু হচ্ছে মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য মৎস্য শিকারের অবরোধ।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের অবরোধ চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে এর কার্যকারিতা।

এ সময়ে সারা দেশে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করণসহ ক্রয়-বিক্রয় নি’ষি’দ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীকে এক থেকে দুই বছরের জেল অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জ’রি’মানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য বিভাগের এমন সিদ্ধান্তে খুশি জেলেরা। ২২ দিনের এমন কর্মহীন সময়ে জেলেদের জন্য দেয়া হচ্ছে প্রণোদনা। তবে প্রদেয় এ প্রণোদনা বাড়ানোসহ নির্ধারিত সময়েই তা প্রকৃত ইলিশ শি’কা’রিদের মাঝে বিতরণের দাবি জেলেদের।

মাঝি সবুজ গাজী ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক ইলিশ শি’কা’রি জেলে সহায়তা পাচ্ছেন না। যারা ছোট ছোট জাল নিয়ে নদী বা খালে মাছ শি’কা’র করে তারা পাচ্ছেন সহায়তা।’

আলীপুরের এফবি শুকতারা ট্রলারের মাঝি কবির বলেন, ‘আমাদের দেশে যখন অবরোধ দেয়া হয়, ভারতীয় এবং মায়ানমারের জেলেরা তখন মাছ শি’কা’র করে। আলোচনা করে যদি একই সময়ে অবরোধ দেয়া হয়, তবে আমাদের জন্য ভাল হয়।’

কুয়াকাটা-অলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে বাড়বে মাছের উৎপাদন। যার সুফল ভোগ করবে জেলেসহ ব্যবসায়ীরা।

সুফল বুঝতে পেরে কোনো জেলেই এখন আর অবরোধের মধ্যে মাছ শি’কা’র করতে যাচ্ছে না। তবে এ সময়ে জেলেদের যে সহায়তা দেয়া হয় তা খুবই অপ্রতুল। জেলেদের সহায়তা বাড়ানো উচিত।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা ইমদাদুল্লাহ জানান, বিগত কয়েক বছরে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মৎস্য শিকারের নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায় সাগরে বেড়েছে ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ।

অবরোধ সফল করতে জেলেদের নিয়ে উঠান বৈঠকসহ চলছে ধারাবাহিক গণসংযোগ। সমুদ্রসহ স্থলভাগে সক্রিয় রয়েছে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন