বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী তিন্নির সঙ্গে সেই রাতে যা ঘটেছিল

প্রকাশিত: অক্টো ৩, ২০২০ / ১০:১২অপরাহ্ণ
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী তিন্নির সঙ্গে সেই রাতে যা ঘটেছিল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য মাস্টার্স পাস করা মেধাবী ছাত্রী উলফাত আরা তিন্নির (২৪) র’হস্যজনক মৃ’ত্যু’র ঘটনায় শৈলকুপা থানায় আটজনকে আ’সা’মি করে নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন আইনে একটি মা’ম’লা দায়ের করা করেছে।

শুক্রবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে মা’ম’লাটি রেকর্ড করা হয়। বাদী হয়েছেন তিন্নির মা হালিমা বেগম। প্রধান আ’সা’মি করা হয়েছে তিন্নির বোন মুন্নির সাবেক স্বামী জামিরুলকে। সে ঘটনার পর থেকেই প’লা’ত’ক রয়েছে।

অন্যদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার বিভিন্ন তথ্য। শুক্রবার গভীর রাতে তিন্নি নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আ’ত্ম’হ’ত্যা করে; কিন্তু এ ঘটনার আগে কী ঘটেছিল? তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এ ঘটনার সূত্রপাত মুন্নির বর্তমান স্বামী রাজুকে নিয়ে। রাজুর বাড়ি পাশের আনন্দনগর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. কুনির উদ্দিন মণ্ডল। তিনি এখন বেকার।

তিন্নির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী লুৎফর রাওনক মুক্তি ও বন্ধু এসএম শুভ জানান, ঘটনার দিন তিন্নিসহ তারা ৬ বন্ধু কুষ্টিয়াতে খেয়া নামের একটি রেস্টুরেন্টে অপর বান্ধবী সুলতানা ইসলাম শিলার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাত ৮টার দিকে ফিরে আসেন তারা।

তারা জানান, বাড়ি ফেরার পথে বড় বোন মুন্নির সাবেক স্বামী জামিরুলের সঙ্গে দেখা হয় তিন্নির। এ সময় উভয়ের মধ্যে বা’ক’বি’ত’ণ্ডা হয়। এরপর গভীর রাতে মা’রা যান তিন্নি।

শৈলকুপা উপজেলার ত্রীবেনী সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মুন্নি (তিন্নির বোন) জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাজু তাদের বাড়িতে আসে এবং খাওয়া-দাওয়া করে।

বাড়ি ফিরে রাজুকে দেখতে পায় তিন্নি। এ সময় দ্বিতীয় তলার ঘরে চলে যায় সে। রাত ১০টার দিকে জামিরুল লুকিয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকে এবং তিন্নির খাটের নিচে অবস্থান নেয়।

বিষয়টি জানত না তিন্নি। পরে তাকে দেখতে পেয়ে তিন্নি এবং জামিরুলের মধ্যে কথা’কা’টা’কাটি হয় ও তাদের মধ্যে হা’তা’হা’তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ফিরে যায় জামিরুল। ফের লোকজন নিয়ে বাড়ির চারিদিকে অবস্থান নেয় এবং তাদের ওপর চ’ড়াও হয়।

এ সময় তারা ঘরের দরজা ভা’ঙা’র চেষ্টা করে। ইটপা’ট’কেল নি’ক্ষেপ করে কাচের জানালা ভাং’চুর করতে থাকে। শুধু তাই নয়; জো’র করে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

মুন্নি জানান, তাদের আ’ক্র’ম’ণে ভয়ে নিচতলার একটি ঘরে আশ্রয় নেন তিনি এবং প্রা’ণ’ভ’য়ে পা’লি’য়ে যায় মুন্নির বর্তমান স্বামী রাজু।

এ অবস্থায় তিন্নি তার বোন মুন্নির ঘরে ঢুকেন। এ সময় জামিরুল মুন্নিকে খুঁজতে তার ঘরে যায়। সেখানে গিয়ে সে তিন্নিকে ঘরে দেখতে পায়। তিন্নি জামিরুলকে দেখে চি’ৎ’কা’র দেয় এবং পরে জামিরুল বের হয়ে যায়। তার বের হয়ে যাওয়ার পর তিন্নি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। এর মাত্র ১০ মিনিট পর ফ্যানের সঙ্গে তিন্নির ঝুলন্ত লা’শ দেখতে পান তার বোন ও মা।

তিন্নির মা হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ওপর পা’শ’বি’ক নি’র্যা’ত’ন করা হয়েছে। তার তিন মেয়ে। বড় মেয়ে ঘটনার দিন ছিলেন না। অবরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর মৃ’ত্যু’র পর নিজ বাড়িতে দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন হালিমা।

শনিবার দুপুর থেকে জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা মৃ’ত্যু’র রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার সাইদের নেতৃত্ব ডিবি পুলিশের ওসি আনোয়ার হোসেন, শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম, মা’মলার তদন্তকারী পরিদর্শক মহসীন আলীসহ গোয়েন্দারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দ’ফা’য় দফায় তিন্নির মা ও বড় বোন মুন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বসহকারে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মা’ম’লার প্রধান আ’সামি জামিরুলকে গ্রে’ফ’তা’রে’র জন্য অভিযান চলছে। শিগগিরই তাকে গ্রে’ফ’তা’র করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন