‘আমার তো দুনিয়াত কেউ নাই, আমি মাইয়া চাই’

প্রকাশিত: অক্টো ৩, ২০২০ / ০৮:৩৯অপরাহ্ণ
‘আমার তো দুনিয়াত কেউ নাই, আমি মাইয়া চাই’

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ইয়াসমিন আক্তার (১৪) নামের কওমি মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে ধ’র্ষ’ণের পর হ’ত্যা’র অ’ভি’যো’গ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তিন বান্ধবী বাড়িতে থেকে ডেকে নেওয়ার পর আজ শনিবার সকালে ইয়াসমিনকে রাস্তায় আধমরা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃ’ত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার মেরাসানী গ্রামের নূর হোসেন স্ত্রী ও এক মেয়ে সন্তান রেখে আট বছর আগে মা’রা যান। মৃ’ত্যুর পর থেকে তাঁর স্ত্রী আয়েশা বেগম শিশুমেয়ে ইয়াসমিন আক্তারকে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় জীবনযাপন করতেন।

এর মধ্যে মেয়ে ইয়াসমিন মাধবপুর উপজেলার মনতলা ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে ওঠে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মনতলা রেলস্টেশন এলাকার ইয়াসমিনের তিন বান্ধবী এসে তাকে তাদের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়।

আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে ইয়াসমিনের মা খবর পান ইয়াসমিন রাস্তায় পড়ে আছে। তিনি সেখানে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় মেয়েকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্মরত চিকিৎসক ইয়াসমিনকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিতে বলেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্মরত চিকিৎসক ইয়াসমিনকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

পরে ইয়াসমিনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মায়ের কাছে ইয়াসমিনের লা’শ হস্তান্তর করে।

মেয়ের লাশ পাওয়ার পর থেকে কান্নায় ভে’ঙে পড়েন মা আয়েশা বেগম। হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের সামনে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ও মা, তুমি আমারে কই থুইয়া গেলা? ও মাই, তুমি কই গেলা? আমি কই যাইতাম? আমি কী করতাম, কিতা না? ও মাই, আমি কিতা করতাম?

আয়েশা বেগম জানান, বান্ধবীদের বাড়িতে পরিকল্পিত ধ’র্ষ’ণের শি’কা’র হয়েছে ইয়াসমিন। ধ’র্ষ’ণের পর বান্ধবীদের সহযোগীরা ইয়াসমিনকে রাস্তায় ফেলে রেখে দু’র্ঘটনার নাটক তৈরি করে। অথচ ইয়াসমিনের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আ’ঘা’তে’র চিহ্ন রয়েছে। নাকে র’ক্ত আছে।

‘আমার মাইয়ারে তো জিতা (জীবন্ত) নিছে তিন মাইয়া। অহন আমার মাইয়া আধামরা পাইছি। অহন আমি তো মাইয়া চাই। আমার তো দুনিয়াত আর কেউ নাই। আমি মাইয়া চাই। আমি বিচার চাই। বিচার চাই। আমার কেউ নাই। আমি বাচ্চা নিয়া দুঃখ-কষ্ট কইরা খাইছি। আমার বাচ্চা নিয়া কিভাবে ওরা এ রকম করল? আমি বিচার চাই।’ বলছিলেন আয়েশা বেগম।

তবে যোগাযোগ করা হলে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমাদেরকে জানানো হয়েছে মেয়েটি রাস্তায় বান্ধবীদের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধা’ক্কায় আ’হত হয়ে মা’রা গেছে।

হাসপাতালেও দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃ’ত্যু লেখা হয়েছে। শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের ম’র্গে লা’শের ময়নাতদন্ত হয়েছে।’

লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীমা আক্তার জানিয়েছেন, মেয়েটি ধ’র্ষ’ণের শিকার হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাবে না মেয়েটি কিভাবে মা’রা গেছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন