যে সকল কারণে মিন্নির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড

প্রকাশিত: অক্টো ১, ২০২০ / ০২:১২অপরাহ্ণ
যে সকল কারণে মিন্নির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড

রি’ফাত হ’ত্যাকাণ্ডটি জঘন্য ও ন্য’ক্কারজনক। এই হ’ত্যাকা’ণ্ডের পরিকল্পনায় আয়শা যুক্ত ছিলেন। ঘটনার সময় আয়শা তাঁর স্বা’মীকে রক্ষা করতে গেছেন, এটা সি’মপ্যাথি আদা’য়ের কৌ’শল ছিল বলে প্র’তীয়মান। আয়শা তাঁর স্বা’মী

রি’ফাতকে কো’পানোর সময় রিফাতকে র’ক্ষার চেয়ে ন’য়ন ব’ন্ডকে নি’বৃত্ত করার চে’ষ্টা করেছিলেন বলে প্র’তীয়মান। আজ রিফাত হ’ত্যা মা’মলার রায়ে আ’দালত এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। বি’ষয়টি নি’শ্চিত করেছেন রা’ষ্ট্রপক্ষের কৌঁ’সুলি (পিপি) ভূবন চন্দ্র হালদার। আর মা’মলায় বা’দীপক্ষের আ’ইনজীবী মজিবুল হক বলেন, মা’মলায় বি’চারক তাঁর প’র্যবেক্ষণে স্প’ষ্ট উল্লেখ করেছেন, আয়শার প’রিকল্পনায় এবং তাঁর কারণেই এ হ’ত্যাকা’ণ্ড সংগঠিত হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, হ’ত্যার আগে আয়শা মা’মলার মূল আ’সামি নয়ন ব’ন্ডের স’ঙ্গে এক মাসে ৪৪ বার এবং ন’য়ন ব’ন্ড আয়শার স’ঙ্গে ১৬ বার ফোনে কথা বলেছেন। এ ছাড়া অসংখ্যবার খুদে বার্তা চালাচালি করেছেন।
রিফাত শ’রীফকে প্রকাশ্যে কু’পিয়ে হ’ত্যা ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর দেশজুড়ে বি’ষয়টি বেশ আ’লোড়িত হয়। এরপর এই হ’ত্যা মা’মলাকে ঘিরে এ আলোচনাকে আরও জো’রালো করেছে নি’হত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নি সাক্ষী থেকে আ’সামি হওয়ার ঘটনা।

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা স’রকারি কলেজের সামনে স্ত্রী আয়শার সামনে রিফাত শরীফকে কু’পিয়ে হ’ত্যা ঘটনার পর ২৭ জুন এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা থানায় হ’ত্যা মা’মলা করেন। এতে প্রধান সাক্ষী করা হয় আয়শাকে। মা’মলার প্রধান আ’সামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ওই বছরের ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ব’ন্দুকযু’দ্ধে নি’হত হন।

নয়ন বন্ড নি’হত হওয়ার পরপরই বদলে যেতে থাকে মা’মলার দৃশ্যপট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই হ’ত্যায় আয়শাকে দায়ী করে বিভিন্নভাবে প্রচার শুরু হয়। মা’মলার ১৮ দিন পর ১৩ জুলাই এ হ’ত্যাকাণ্ডে আয়শা জ’ড়িত, এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন আয়শার শ্বশুর আবদুল হালিম শরীফ।

পরদিন আয়শার গ্রে’প্তারের দাবিতে মা’নববন্ধন ও সমাবেশ করেন তাঁরা। রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার রায়ে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামি আয়শা সিদ্দিকাকে আ’দালত থেকে কা’রাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালত প্রাঙ্গণে

এরপর মা’মলার ত’দন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। ১৬ জুলাই আয়শাকে জি’জ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে বরগুনা পুলিশ লাইনসে ডেকে নিয়ে গ্রে’প্তার করা হয়। তবে আয়শার বাবা মোজ্জামেল হোসেন শুরু থেকেই আয়শার গ্রে’প্তার এবং এ মা’মলায় তাঁকে আ’সামি করার ঘটনাকে প্রভাবশালী মহলের কারসাজি বলে দাবি করে আসছেন।

এরপর নিম্ন আ’দালতে কয়েক দফা জা’মিন আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর উচ্চ আ’দালতে আয়শার পক্ষে জা’মিন আবেদন করেন উচ্চ আ’দালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আইখান পান্না। গত বছরের ২৯ আগস্ট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আয়শাকে জা’মিন দেন।

জা’মিন আদেশে বলা হয়, আয়শা তাঁর বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এর ব্যত্যয় হলে জা’মিন বাতিল হবে। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর জা’মিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনের ও’পর শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ‘নো অর্ডার’ দেন। এতে আয়শার জা’মিনের আদেশ বহাল থাকে। রায় ঘোষণার আগপর্যন্ত তাঁর জা’মিন বহাল ছিল।

মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার তৎকালীন পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অ’ভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে আ’দালতে পৃথক দুটি অ’ভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আ’সামি করা হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির মধ্যে আয়শাকে এ মা’মলায় ৭ নম্বর আ’সামি করা হয়। এরপর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির বিচার শুরু হয় জে’লা ও দায়রা আ’দালতে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আ’সামির বিচারকাজ চলছে শি’শু আ’দালতে।

৩২ পৃষ্ঠার অ’ভিযোগপত্রে ১৩ পৃষ্ঠায় আয়শার অ’পরাধের বয়ান ছিল। অ’ভিযোগপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাকি ১৮ পৃষ্টায় অন্য আ’সামিদের অ’পরাধের বর্ণনা থাকলেও সেখানেও আয়শার ভূমিকার বর্ণনা করা হয়েছে। অ’ভিযোগপত্রে আয়শার অ’পরাধ বর্ণনায় বলা হয়েছে, ঘটনার পর আয়শা র’ক্তাক্ত রিফাত শরীফকে হাসপাতালে না নিয়ে নিজের ভ্যানিটি ব্যাগ ও জুতা খোঁজায় ব্যস্ত ছিলেন।

অ’ভিযোগপত্রে নয়ন বন্ড ও তাঁর বাহিনী ০০৭–এর নানা অ’পরাধ ও মা’দক বাণিজ্যের উল্লেখ থাকলেও হ’ত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে আয়শাকে নিয়ে নয়ন বন্ড ও নি’হত রিফাত শরীফের দ্ব’ন্দ্বকে উল্লেখ করা হয়েছে। আর রিফাত শরীফ হ’ত্যার পরিকল্পনায় আয়শা জ’ড়িত ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আয়শাই র’ক্তাক্ত রিফাত শরীফকে রিকশায় করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বরগুনা জেনারেল হাসপতালের সামনে লাগানো সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে আয়শা একাই একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে র’ক্তাক্ত ও অ’চেতন রিফাতকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে যান।

সেখানে দাঁড়ানো এক যুবক রিফাত শরীফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন। রিফাতের অবস্থা দেখে তিনি হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে রিকশার পাশে আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত অনেকেই এগিয়ে আসেন। এরপর রিকশা থেকে নামিয়ে অ’চেতন রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

এরপর আয়শা হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের ফোন নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি হাসপাতালের ভেতরে যান। কিছু সময় পর আয়শার বাবা মোজাম্মেল হোসেন ও চাচা আবু সালেহ হাসপাতালে যান। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে।

এ সময় সেখানে রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম ওরফে জন ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু হাসপাতালের সামনে আসেন। মঞ্জুরুল বেশ কিছু সময় ফোনে কথা বলেন। ১০টা ৪৪ মিনিটে অক্সিজেন ও ২টি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে ওই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। ১০টা ৪৯ মিনিটে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে অ্যাম্বুলেন্সটি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন