মিন্নি কনডেম সেলে যুক্ত হলেন ৪৮ জনের সঙ্গে

প্রকাশিত: অক্টো ১, ২০২০ / ০৮:৪৪পূর্বাহ্ণ
মিন্নি কনডেম সেলে যুক্ত হলেন ৪৮ জনের সঙ্গে

বর্তমানে দেশে ৪৯ জন নারী ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড মাথায় নিয়ে বিভিন্ন কা’রা’গারের ক’ন’ডেম সেলের বাসিন্দা। ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড’প্রাপ্তদের থাকার এই সেলের সর্বশেষ বাসিন্দা হয়েছেন বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

গতকাল বুধবার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’ম’লার রায় ঘোষণার পর মিন্নিকে বরগুনা কা’রা’গারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই কা’রা’গারে আর কোনো নারী ফাঁ’সি’র আ’সা’মি না থাকায় তিনি একাই হয়েছেন ক’নডেম সেলের বাসিন্দা।

জানতে চাইলে বরগুনা কা’রা’গারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন গত রাতে বলেন, ‘ফাঁ’সি’র আ’সা’মি হিসেবে তাকে (মিন্নি) কন’ডেম সেলে রাখা হয়েছে।’ তিনি জানান, এই কা’রা’গারের নারী ইউনিটে ১৯ জন ব’ন্দি ছিল। মিন্নিকে নিয়ে ২০ জন হলো।

দেশে সবচেয়ে বেশি নারী ফাঁ’সি’র আ’সা’মি রয়েছে কাশিমপুর মহিলা কা’রা’গারে। এই কা’রা’গারের জেলার হাসনাত জাহান গতকাল জানান, কা’রা’গারটিতে ২৩ জন ফাঁ’সি’র আ’সা’মি রয়েছে।

কিছুদিন আগে ২৪ জন ছিল, এর মধ্যে একজনের দ’ণ্ড কমে যাব’জ্জীবন হয়ে যাওয়ায় এখন ২৩ জন রয়েছে।

কারা সূত্র জানায়, কা’রা’গারগুলোতে ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড’প্রাপ্ত নারীদের মধ্যে কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধরে কনডেম সেলের বাসিন্দা। দেশে বহু পুরুষ আ’সা’মির ফাঁ’সি কার্যকর হলেও কোনো নারী আ’সা’মির ফাঁ’সি কার্যকর হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এক কা’রা’রক্ষী জানান, তিনি ২৮ বছর ধরে চাকরি করছেন, আজ পর্যন্ত কোনো নারী আ’সা’মির ফাঁ’সি হয়েছে, এমন কথা শোনেননি।

ফাঁ’সি’র দ’ণ্ডপ্রাপ্ত নারী আ’সা’মিদের মধ্যে সবাই হ’ত্যা’র দায়ে দ’ণ্ডি’ত হয়েছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। ক’ল’হের জে’র ধরে নিজ পরিবারের কোনো সদস্যকে হ’ত্যা’র দায়েই ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড পেয়েছে এদের বেশির ভাগ।

কারা সূত্র জানায়, প্রতিটি কনডেম সেল কমবেশি ১০ হাত দৈর্ঘ্য ও ছয় হাত প্রস্থের হয়। প্রতি সেলে তিন-চারজন করে ফাঁ’সি’র আ’সা’মিকে রাখা হয়। প্রতি সেলে গ্রিলঘেরা বারান্দা রয়েছে। ওই বারান্দাতেই তাদের হাঁটার সুযোগ মেলে।

দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের থাকতে হয় সেলের ভেতর ও বারান্দায়। এক কারা কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন দুপুরে গোসল করার জন্য তাদের বের হতে দেওয়া হয়। গোসলের আগে সেলের আশপাশে ১৫-২০ মিনিট হাঁটার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে তাদের।

ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড’প্রাপ্তরা মাসে এক দিন সুযোগ পায় তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার। তখন তারা সেল থেকে বেরিয়ে কা’রা’গারের গেটে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে।

সূত্র জানায়, ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড’প্রাপ্তদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে একটি করে থালা, বাটি ও কম্বল। এর বাইরে আর কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই।

ফাঁ’সি কার্যকর হয়নি কারো : এক হিসাবে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে শতাধিক নারীর ফাঁ’সি’র আদেশ হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁ’সি কার্যকর হয়নি। তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন কারা ভোগ করার পর বেরিয়ে গেছে, কেউ কেউ মা’রা গেছে, কারো কারো আপিলে শা’স্তি কমেছে।

মা-বাবাকে হ’ত্যা করে ক’নডেম সেলের বাসিন্দা হয়েছিলেন পুলিশের কন্যা ঐশী। পরে তাঁর যাবজ্জী’বন কা’রা’দ’ণ্ড হওয়ায় ক’নডেম সেল থেকে মুক্তি পান।

২০০৭ সালে কাশিমপুরে একমাত্র মহিলা কা’রা’গার উদ্বোধন করা হয়। দেশের প্রতিটি কা’রা’গারে ফাঁ’সি’র মঞ্চ থাকলেও সেখানে কোনো ফাঁ’সি’র মঞ্চ নেই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তত্কালীন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছিলেন, অতীতে কোনো নারী আ’সা’মির ফাঁ’সি কার্যকরের রেকর্ড না থাকায় ফাঁ’সির মঞ্চ বানানো হয়নি।

কা’রাগারে ২২ বছর ধরে চাকরি করেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, নিয়মানুযায়ী ফাঁ’সির আসামিরা সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে।

রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষমা না করলে ফাঁ’সি থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। তবে আজ পর্যন্ত কোনো নারীর আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে গেছে, এমন খবরও তিনি শোনেননি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন