ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়নি সৌদি ঘোষণার পরও

প্রকাশিত: সেপ্টে ৩০, ২০২০ / ১২:২৬পূর্বাহ্ণ
ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়নি সৌদি ঘোষণার পরও

করোনায় দেশে আটকেপড়া কয়েক হাজার সৌদি প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ। অথচ সৌদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২৪ দিন মেয়াদ বাড়ানো হলেও-সেটার কার্যক্রম শুরুই হয়নি মঙ্গলবার পর্যন্ত। ঢাকায় সৌদি দূতাবাস অনুমোদিত ভিসা এজেন্সিগুলো এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় সবই থমকে আছে।

এতে হতাশা আর ক্ষোভে মঙ্গলবারও সাউদিয়া এয়ারের সামনে রাজপথে অবস্থান নেন কয়েক শ’ প্রবাসী। তারা ঘোষণা দেন-যতদিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়ানো না হবে ততদিন পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা।

এ বিষয়ে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ সাংবাদিকদের জানান, সৌদি প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধির সমস্যার সমাধান তার হাতে নেই। কূটনৈতিক তৎপরতাই একমাত্র সমাধান।

তিনি সৌদি প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে কথা বলে ভিসা ও আকামার মেয়াদ পূর্বের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধির ব্যাপারে সৌদি সরকারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যোগাযোগের ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন।

এদিকে প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের জন্য ইতোমধ্যে সৌদি সরকার ৩১ ট্রাভেল এজেন্সি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যদিও প্রবাসীরা দাবি করেন- কিছুতেই এ প্রক্রিয়া মানার মতো নয়। কেননা এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। জানা গেছে- দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সৌদিয়া দূতাবাসের সামনে গত দুদিন ধরেই প্রবাসীরা ভিড় জমান। তারা ভিসা ও আকামা নবায়নের জন্য দূতাবাসে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পিছু হটেন। তারা অনুনয় বিনয় করলেও দূতাবাস ভিসা আবেদন নেয়নি।

এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা দূতাবাসের অনুমোদিত কিছু ভিসা প্রসেসিং এজেন্সির কাছে যেতে বলা হয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোন ধরনের সহায়তা পাননি তারা। তাদের বলা হয়- সৌদি আরব বা ঢাকার দূতাবাস থেকে এখনও এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা পাননি তারা।

এ সময় লিটন নামের এক সৌদি প্রবাসী জানান- ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেটা বাড়ানোর কোন সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি। দূতাবাসে যাবার পর বলা হয়-অনুমোদিত এজেন্সিতে যেতে বলেছে। সেখানেও গিয়ে কোন কোন কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান- ছুটিতে এসে আটকে পড়া সৌদি আরব প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে এখনও কোন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। যদিও সৌদি আরব আকামার মেয়াদ ২৪ দিন বাড়িয়েছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই প্রবাসীরা সৌদি দূতাবাসে গিয়ে হাজির হন।

কিন্তু সৌদি থেকে কোন নির্দেশনা না আসায় এ বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। এ সম্পর্কে সৌদি দূতাবাস অনুমোদিত তানজুম কনসালটেন্সি সার্ভিসের ভিসা কনসালটেন্ট হাবিব উল্লাহ বলেন, মঙ্গলবারও আমাদের কাছে দূতাবাস থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি।

যার কারণে আমরা এখনও কোন কার্যক্রম শুরু করিনি। মিডলইস্ট কনসালটেন্সি’র ভিসা কনসালটেন্ট মোঃ শামীম বলেন-সৌদির এখনও কোন নির্দেশনা নেই ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে। আমরা কোন প্রবাসীর আবেদন গ্রহণ করছি না।

দূতাবাসের নির্দেশনা ছাড়া তো কোন কাজ করা সম্ভব হবে না। এদিকে স্বয়ংক্রিয় ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকেটের টোকেনের দাবিতে মঙ্গলবারও পথে নামেন সৌদি প্রবাসী কর্মীরা।

তারা কাওরান বাজারের পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনের রাস্তায় জড়ো হয়ে ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকেটের টোকেন প্রদানের দাবি জানান।

তাদের হাতে ছিল ভিসা সম্বলিত ব্যানার নিয়ে। প্রবাসীদের অনেকেই রাতে আশপাশের আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়েছিলেন। সকাল থেকে তারা সাউদিয়ার বাইরে অবস্থান শুরু করেন। তবে তারা সড়কের পাশে ও ফুটপাথে থাকায় সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক ছিল।

তারা সেøাগান দিয়ে মিছিল নিয়ে সার্ক ফোয়ারা চত্বর প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারী প্রবাসীদের একাংশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আরেকাংশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে চলে যান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে তারা অবস্থান নেন।

সেখানে দাঁড়িয়েই তারা বলেন, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অনেকেরই ভিসার মেয়াদ আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা বিমান টিকেট রি-কনফার্ম করার জন্য তারা এখনও টোকেনই পাননি।

জানা গেছে, সাউদিয়া কর্তৃপক্ষের সিডিউল অনুযায়ী, গতকাল যাদের টোকেন নম্বর ২৩০১ থেকে ২৭০০, শুধু এই ৪০০ জনকেই টিকেট দেয়া হয়েছে। তবে তিন হাজারের পরের সিরিয়ালের টোকেন নম্বরের প্রবাসীরাও সকাল থেকে ভিড় করেছেন।

পাশাপাশি আজ টিকেট ইস্যু করলেও নতুন করে আর কাউকে টোকেন দিচ্ছে না সাউদিয়া। তাদের টাঙ্গানো একটি নোটিসে বলা হয়েছে, ৪ অক্টোবরের আগে আর টোকেন দেয়া হচ্ছে না।

এ সময় হাশিম নামের এক প্রবাসী জানান, সরকারের কাছ থেকে ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি তথা তাদের সৌদি আরব ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পেলে রাজপথ ছাড়বেন না তারা।

এ বিষয়ে সাউদিয়া সূত্র জানিয়েছে, সৌদি এয়ারলাইন্স কাউন্টার থেকে যারা গতকাল মঙ্গলবার টোকেন পাননি, তাদের আগামী ৪ অক্টোবর এসে টোকেন দেয়া হবে। এই সময় পর্যন্ত সৌদিতে যাওয়ার কোন টিকেট বিক্রি করা হবে না বলেও জানিয়ে দেয়া হয়।

জানা গেছে, সৌদি এয়ারলাইন্স ছাড়াও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতিঝিল কার্যালয় থেকে সৌদির টিকেট ইস্যু করা হয়। যেসব প্রবাসীরা দেশে আসার সময় ১৮ ও ২০ মার্চ জেদ্দা এবং ১৮ ও ১৯ মার্চ রিয়াদের রিটার্ন টিকেট কেটে এসেছিলেন, কেবল তাদের টিকেট ইস্যু করা হয়েছে। জেদ্দা ও রিয়াদে বিশেষ ফ্লাইটের জন্য এসব টিকেট ইস্যু করেছে বিমান।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন